
ছবি: সংগৃহীত
হলুদ এবং ফিশ অয়েল দুইটিই জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উপাদান। হলুদে থাকা কারকিউমিন (Curcumin) ও ফিশ অয়েলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (EPA এবং DHA) দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য পরিচিত। তবে এগুলো একসাথে খেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে উল্লেখযোগ্য তথ্য।
১. হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমতে পারে
২০২৪ সালের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা গেছে, ফিশ অয়েল এবং ন্যানো-কারকিউমিন একসাথে গ্রহণ করলে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমে যায়। এই ফর্মুলা হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় উপকারী হতে পারে।
তবে গবেষকরা জানাচ্ছেন, কারকিউমিন ফিশ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও হৃদ্রোগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপকারিতা (যেমন HDL বাড়ানো, ট্রাইগ্লিসারাইড কমানো) অতিরিক্তভাবে বাড়েনি।
২. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়তে পারে
একটি ১৬ সপ্তাহের গবেষণায় দেখা গেছে, ফিশ অয়েল ও কারকিউমিন আলাদাভাবে ব্রেইনের প্রসেসিং স্পিড ও মেমোরি বাড়াতে পারে, বিশেষত পুরুষদের মধ্যে। তবে দুটি একসাথে খাওয়ার পর তেমন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়নি।
গবেষকরা মনে করছেন, এই ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে প্রতিক্রিয়ায় পার্থক্য থাকতে পারে, যার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
৩. রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে
২০১৮ সালের একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, কারকিউমিন বা কারকিউমিন-ফিশ অয়েল কম্বিনেশন খাওয়ার পর খাবার গ্রহণের ৬০ মিনিট পর রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা কমেছে। ফিশ অয়েল একা খেলেও এমন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
এর মানে হলো, কারকিউমিন টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. দেহে প্রদাহ কমাতে পারে
ডায়াবেটিস আক্রান্তদের উপর পরিচালিত এক ১২-সপ্তাহের গবেষণায় দেখা গেছে, কারকিউমিন ও ফিশ অয়েল একসাথে খেলে শরীরে C-reactive protein (CRP) এর মাত্রা কমে, যা প্রদাহের একটি প্রধান সূচক। এই উপাদান দুটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে।
৫. যন্ত্রণা ও অস্থিসন্ধির ব্যথা কিছুটা কমতে পারে
অস্টিওআর্থ্রাইটিস (OA)-এ আক্রান্তদের উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ফিশ অয়েল ব্যথা কমাতে কার্যকর। তবে কারকিউমিন একা বা ফিশ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও আলাদা কোনো সুবিধা পাওয়া যায়নি।
৬. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে
যদিও সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো মৃদু হয়, তবুও কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে:
- হলুদ খেলে: বদহজম, গা গুলানো, ত্বকে চুলকানি, লিভার সমস্যাও হতে পারে।
- ফিশ অয়েল খেলে: গন্ধযুক্ত ঘাম, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বুক জ্বালাপোড়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
তবে গবেষণায় এসব প্রতিক্রিয়া প্লেসেবো গ্রুপের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল না।
৭. খাওয়ার পরিমাণ ও অনুপাত গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ এর অনুপাত ১:১ থেকে ১:৪ এর মধ্যে রাখলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। অতিরিক্ত ফিশ অয়েল খেলে শরীরের চর্বির ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
মুমু ২