ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

রেমিটেন্স ও রেমিটার

মোঃ শরীকুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২১:২২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

রেমিটেন্স ও রেমিটার

রেমিটেন্স ও রেমিটার

রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির প্রাণঅর্থনীতি টিকিয়ে রাখার লাইফলাইন হলো রেমিটেন্সসরকার নানা উদ্যোগ ও প্রণোদনা দিচ্ছে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি করতে এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স আনতেকিন্তু প্রণোদনা দিয়ে রেমিটেন্স প্রবাহ সাময়িক বাড়লেও হুন্ডি রেট প্রণোদনার চেয়েও বেশি তাই এখনও প্রচুর রেমিটেন্স হুন্ডির মাধ্যমে আসছেহুন্ডিতে লেনদেন না করতে এবং হুন্ডির বাজে প্রভাব নিয়ে মানুষকে অনেক বোঝানো সত্ত্বেও কমছে না

একজন ব্যাংকার এবং রেমিটেন্স ডেক্সে দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে রেমিটারদের কিছু মনের কথা জানতে পেরেছিসরকার প্রণোদনা আরও দিলেও তেমন কাজ হবে বলে মনে হয় নাকারণ হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তারচেয়ে আরও বেশি লাভ দেবে, সুযোগ দেবেআমরা মানুষ মাত্রই ভবিষ্যত নিয়ে ভীতু

যদি রেমিটারদের ভবিষ্য সিকিউরিটি সরকার দিতে পারে তবে হুন্ডি প্রায় বন্ধ হয়ে যাবেযেমন- যারা সরকারী ব্যাংকে চাকরি করে তাদের বেতন-ভাতা প্রাইভেট ব্যাংকারদের থেকে অনেক কমতারপরেও সরকারী চাকরির জন্য এত লাইন কেন! কারণ ভবিষ্যত সিকিউরিটিপেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সামাজিক মর্যাদা এই সবের জন্য আমরা প্রাইভেট ব্যাংকের তুলনায় বর্তমান লাভটা ছাড় দিচ্ছি ভবিষ্যতের জন্য

ঠিক তেমনি সরকার যদি রেমিটারদের প্রেরিত অর্থের ওপর ভিত্তি করে পেনশন ভাতা/বিশেষ ভাতা চালু করে তবে একজন রেমিটার ভবিষ্যত সিকিউরিটির কথা চিন্তা করে হুন্ডি লেনদেন করবে নাযেমন- সরকার যদি একটা কাঠামো দিয়ে দেয় যে, একজন রেমিটার যত বেশি রেমিটেন্স বৈধ পথে দেশে পাঠাবে তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সে দেশে চলে এলে তত বেশি পেনশন ভাতা পাবেকত বছর পর্যন্ত সেই রেমিটেন্স আসতে হবে, পরিমাণ কী হবে এসবের শর্ত ঠিক করা যেতে পারে

আমাদের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথ সমন্বয়ে একটা রূপরেখা প্রণয়ন করা যায়আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের চাওয়া খুব বেশি না; দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেই আজ তারা পরবাসীনিজের প্রিয় পরিবার-পরিজন, স্ত্রী-সন্তান থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে নিদারুণ পরিশ্রম করে কষ্টার্জিত রেমিটেন্স দেশে পাঠায়তারা চায় একটু সম্মানএয়ারপোর্টে তাদের কেউ হাসিমুখে বরণ করুক, ভাল আচরণ দিয়ে তাদের কেউ ঝামেলামুক্ত আগমন-প্রস্থানে সাহায্য করুক

নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে কিংবা ঋণের অভিশাপ মাথায় নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনেক সময় তাদের আশানুরূপ কর্ম পায় না; অমানবিক কষ্ট এবং পরিশ্রম করে অর্থ পাঠায় প্রিয় দেশেবিদেশে অনেক সমস্যায় পড়লেও দেশের দূতাবাসগুলো থেকে তেমন সাহায্যও পায় নাঅনেকে প্রবাসী ভাই ধরা পড়ে দেশে চলে এলে তাকে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয়সে স্ত্রী-সন্তানের চোখে চোখ রাখতে পারে না, পাওনাদারের ভয়ে বাইরে যেতে পারে না, মান সম্মানের ভয়ে নিম্নমানের কাজও করতে পারে না

এই অবস্থা কিন্তু আমাদের অর্থব্যবস্থার জন্যইরাষ্ট্র তাকে তার অর্থ রোজগারের নিশ্চয়তা দিতে পারেনিকোন প্রবাসী ভাই দেশে চলে এসে নিজে কোন ব্যবসা শুরু করতে চাইলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়তাই সরকারের উচিত তাদের জন্য জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণের নিশ্চয়তা দেয়াযথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা

দেশের স্বার্থে সরকার কত ধরনের ভাতা ও পেনশন দিয়ে থাকেদেশের অর্থনীতির প্রাণ প্রবাসীদের জন্যও ভবিষ্যত পেনশন বা বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করলে তারা সম্মানিত হবেন, ভবিষ্যত সিকিউরিটি পাবেন, দেশের প্রতি ভালবাসা বাড়বে, হুন্ডি বন্ধ হবে, বৈধ উপায়ে রেমিটেন্স  প্রবাহ বাড়বেঅনেক প্রবাসী ২০-৩০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে এসেও দেশে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুই পান না

সর্বস্ব দেশে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে এসে পকেট খরচ এর অর্থটাও পায় নাপরিবারকে সব দিয়ে নিজে নিঃস্ব হয়তাই তাদের সম্মান বাড়লে এবং দেশে এসে মর্যাদার নিশ্চয়তা পেলে রেমিটেন্স প্রবাহ যেমন বাড়বে, তেমনি দেশটাও এগিয়ে যাবেদেশটা এগিয়ে যাক এটাই আমাদের প্রত্যাশা