ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

আমতলীতে সরকারী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ!

প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ১৬ জুন ২০২১

আমতলীতে সরকারী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ!

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী, বরগুনা ॥ আমতলী পৌর শহরের সবুজবাগ এলাকার সরকারী খাল দখলে বালু ভরাট করেছেন। ওই খালে প্রভাবশালী জসিম উদ্দিন হাওলাদার পাঁকা ভবন নির্মাণ করছেন। উপজেলা ভুমি অফিস জেনেও কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দ্রুত এর বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জানাগেছে, ১৯২০ সালে তৎকালিন সরকার পানি নিস্কাশনের জন্য আমতলীর সবুজবাগ এলাকার খাল খনন করে। ১৯৬৭ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণ করায় প্রবাহমান খালটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিনত হয়। ওই বদ্ধ জলাশয়ের পানি খাল পাড়ে বসবসরত মানুষ ব্যবহার করে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণের পর থেকেই দখল হতে থাকে খালটি। গত ৫৫ বছরে ওই খালের দুই পাড় শতাধিক প্রভাবশালী দখলে নিয়ে পাকা ইমারত নির্মাণ করেছে। খাল দখলের কারনে ময়লা আবর্জনার কারনে ওই জলাশয়ের পানি প্রায় ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পরেছে। এদিকে ১৯৯০ সালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ স্থানীয় কিছু উদ্যোক্তা উপজেলা ভমি অফিস থেকে মাছ চাষের জন্য ওই খালটি ইজারা নেয়। গত ৩১ বছর ধরে ওই খালে তারা মাছ চাষ করে আসছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন প্রভাবশালীরা দখল করে নিলেও উপজেলা ভমি অফিস কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো তারা কারনে-অকারনে খাল দখলে সহযোগীতা করছে। গত এপ্রিল মাসে গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের মোঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদার বাঁশের বেড়া দিয়ে খাল দখলে বালু ভরাট করেছে। ওই খালে বর্তমানে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ করছেন তিনি। বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে, জসিম উদ্দিন হাওলাদার নামের এক প্রভাবশালী সবুজবাগ খাল দখলে অর্ধেক পরিমান বাঁশের বেড়া দিয়ে বালু ভরাট করেছে। ওই খালে তিনি পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। খালটি দখলে অনেকে বাশের চাটাই দিয়ে বেড়া দিয়ে রেখেছে। খালের পানিতে ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, এই খালটির পানি ব্যবহার করে শতাধিক পরিবার। প্রশাসনের নাকের ডগায় খাল এভাবে দখল দূষনে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। দখলের এ পরিস্থিতি দেখে আমরা হতাশ। প্রভাবশালী খাল দখলকারী জসিম উদ্দিন হাওলাদার সরকারী খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি রেকর্ডীয় জমিতে ভবন নির্মাণ করছি। খালের মধ্যে আমার আরো ২ ফুট জমি রয়েছে। সাবেক উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শাসসুদ্দিন আহম্মেদ শানু বলেন, খালটি সমিতির মাধ্যমে ইজারা নিয়ে আমরা মাছ চাষ করেছি। প্রায়ই প্রভাবশালীরা খালটি দখল করে নিচ্ছে। এভাবে দখল হয়ে ভবিষ্যতে দখল দুষণে খালের অস্তিত্ব হারাবে। আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে সরকারী খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
×