সোমবার ১২ মাঘ ১৪২৭, ২৫ জানুয়ারী ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

কারাফটকে ধর্ষকের সঙ্গে ভিকটিমের বিয়ে

  • উপস্থিত ছিল ধর্র্ষণের ফলে জন্ম নেয়া আট বছরের ছেলে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ ধর্ষণ মামলায় আট বছর ধরে রাজশাহী কারাগারে বন্দী দিলীপ খালকো (৩০)। ২০১২ সালে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সম্প্রতি উচ্চ আদালতে দিলীপের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করেন। ধর্ষণের শিকার ওই নারী (২২) আদালতে বলেন, তারা বিয়ে করবেন। আসামিকে জামিন দিলে তার আপত্তি নেই। পরে আদালত কারাফটকেই তাদের বিয়ের আদেশ দেয়। এ প্রেক্ষিতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে শনিবার দুপুরে দিলীপ খালকোর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। কয়েদী দিলীপ খালকো রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুর ভিকারপাড়া গ্রামের সিতানাথ খালকোর ছেলে। তার বিয়ের জন্য এদিন কনেসহ দুই পরিবারের অন্তত ১৪ জন কারাগারে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যও। তাদের সঙ্গে এসেছিল ধর্র্ষণের ফলে জন্ম নেয়া ঐ নারীর আট বছরের ছেলেও।

কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত একটি নসিমনে চড়ে কারাগারের সামনে আসেন। এরপর তাদের কারা অভ্যন্তরে নেয়া হয়। আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার কৃষ্ণা দেবী এবং পুরোহিত পরিমল চক্রবর্তী। কনেপক্ষ আসার পর কারাগার থেকে বর দিলীপ খালকোকে আনা হয়। তারপর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালার উপস্থিতিতে দুপুর সাড়ে ১২টার পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিনিয়র জেল সুপার কনেকে একটি নতুন শাড়ি উপহার দেন। দুই পরিবারের সবাইকে মিষ্টিমুখ করান।

দিলীপ কয়েদী হিসেবে এখনও কারাবন্দী থাকার কারণে বিয়ের ছবি তোলা যায়নি। তবে দিলীপের অনুভূতি জানা গেছে। দিলীপ বলেন, বিয়ে করে ভালই লাগছে। সবাই দোয়া করবেন। যেন সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি। কনে বলেন, আমরা চাই যেন বাকি জীবনটা ভালভাবে কাটাতে পারি।

সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, উচ্চ আদালত দিলীপের বিয়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। তিন দিন আগে আদেশের কপি পাওয়ার পরই দুই পক্ষকে ডাকি। সুষ্ঠুভাবে বিয়েও সম্পন্ন হলো। এখন যত দ্রুত সম্ভব বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হবে।

দিলীপ কুমার এবং ভিকটিম সম্পর্কে মাসতুত ভাই-বোন। তাদের ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। এর সূত্র ধরে ভিকটিমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দৈহিক মেলামেশা করেন দিলীপ। এতে ভিকটিম গর্ভবতী হয়ে পড়েন। কিন্তু এরপর থেকে দিলীপ আর বিয়ে করতে রাজি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সালিশ করার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত সালিশ বৈঠক না হওয়ায় ২৫ অক্টোবর গোদাগাড়ী থানায় হাজির হয়ে দিলীপ খালকোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ঐ নারী। এরপর বিচার শেষে ওই বছরের ১২ জুন এক রায়ে দিলীপ খালকোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত। যখন ভিকটিম ধর্ষণের শিকার হন তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর। কিন্তু সেই বয়সেই তার কোলে আসে পুত্র সন্তান। মেয়েটির আর পড়াশোনা করা হয়নি। এরপর মেয়েটি কৃষিশ্রমিক হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। দিনে দিনে বড় হতে থাকে তার সন্তান। তার সন্তানের বয়স এখন আট বছর। দিলীপেরও আট বছর জেল খাটা হয়ে গেছে। এতদিন পর দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। কনের সম্মতিতেই আদালত তাদের বিয়ের আদেশ দেয়। এখন বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে গেলে জামিন পেতে পারেন দিলীপ খালকো।

শীর্ষ সংবাদ:
কয়েক দফা বন্ধের পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক         ব্রাজিলে বিমান বিধ্বস্ত ॥ নিহত ৪ ফুটবলার         'টিকা নেওয়া লোকেরাও ভাইরাস ছড়াতে পারে'         নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলিকে তার দল কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার         নদী ভাঙ্গনের মহামারী ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব         ভারতের সঙ্গে মৈত্রী দেশের উন্নয়নে অত্যন্ত সহায়ক ॥ তথ্যমন্ত্রী         কৃষির উন্নতি না হলে মানুষের আয় বাড়বে না ॥ কৃষিমন্ত্রী         ভারত থেকে আরও ৫০ লাখ টিকা আসছে আজ         দুদকের মামলায় বাবুল চিশতী ও তার ছেলেকে গ্রেফতার দেখানো যাবে         অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ পেলেন আরও দুজন         দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি চলাচল ১২ ঘণ্টা বন্ধ ॥ দুর্ভোগ চরমে         কয়েদির নারীসঙ্গের ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার প্রত্যাহার         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২০, নতুন শনাক্ত ৪৭৩         করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি         অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে দুই জনকে নিয়োগ         প্রতিহিংসা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন চাই ॥ সিইসি         মশা অসহ্য ও যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ॥ তাজুল ইসলাম         ভোজ্য তেলের দাম এখনও নির্ধারিত হয়নি ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী         দীপন হত্যার রায় ১০ ফেব্রুয়ারি         করোনা ভাইরাস ॥ শনাক্তের সংখ্যা ৯ কোটি ৯৩ লাখ ছাড়িয়েছে