ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

উচ্চ মাধ্যমিকে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ

প্রকাশিত: ০৫:০০, ১ এপ্রিল ২০১৮

 উচ্চ মাধ্যমিকে  প্রশ্ন ফাঁস  ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবারের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেবে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী। গেল বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন। দেশের মোট আট হাজার ৯৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী মোট দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৯টি ও কেন্দ্র বেড়েছে ৪৪টি। আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে দশ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে এক লাখ ১২৭ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম-এ এক লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ জন এবং ডিআইবিএসে ৯৬৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছয় লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ জন ছাত্র এবং ছয় লাখ ১৮ হাজার ৭২৭ জন ছাত্রী। এবার বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে ২৯৯ শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ১৫৯ জন ছাত্র এবং ১৪০ জন ছাত্রী। ২৮টি বিষয়ের ৫৪টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হবে। ২০১২ সালে কেবল বাংলা প্রথম পত্রে সৃজনশীল পরীক্ষা হয়েছিল। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৩টি বিষয়ের ২৫টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ থেকে মোট ২৮টি বিষয়ে ৫৪টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জানিয়েছে, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে আসন নিতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে এসএমএস করে সেট কোডের নির্দেশনা পাঠাবে শিক্ষা বোর্ড। তারপর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন, যা দিয়ে ছবি তোলা যায় না। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে আসন নিতে হবে জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে যত রকম উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, এর সবই করা হয়েছে। আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে এসএমএস করে সেট কোডের নির্দেশনা পাঠানো হবে। তারপর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন, যা দিয়ে ছবি তোলা যায় না। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি আমরা। এক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলী পন্থায় এগোচ্ছি। সবার সহযোগিতাও চেয়ে আসছি। আমাদের চাওয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা এ সংক্রান্ত গুজবে না মেতে অভিভাবকরা যেন ছেলেমেয়েদের ভালভাবে লেখাপড়া করান। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে খেয়াল রাখতে হবে। অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের প্রতি দৃষ্টি দিতে শিক্ষকদের কাছে আবেদন জানাই। প্রশ্নফাঁস রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে আগে দেয়া পোস্টে প্রশ্ন পরে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে দেখানো যায় প্রশ্নফাঁস হয়েছে। সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিপাকে ফেলতেই এসব করা হচ্ছে। এর পেছনে কাজ করছে কিছু শক্তি। তারা সরকারের ভাবমূর্তি, জনপ্রিয়তা ও সাফল্যকে চাপা দিতে চায়। বিগত বছরের ন্যায় এবারও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবেন। আর অটিস্টিকসহ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা পাবে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা অভিভাবক, শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-ওওও/১৯৭৬) এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ আদেশ দেয়া হয়েছে। আদেশ ২ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনগুলোতে বলবৎ থাকবে।
×