হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৮ ফাল্গুন ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকায় ৯ দেশের শিক্ষা সম্মেলন-২০১৭

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

গত ৫-৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ৯টি দেশ যথা ব্রাজিল, চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া নাইজিরিয়া, পাকিস্তান, মেক্সিকো ও বাংলাদেশ নিয়ে শিক্ষা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ ৯টি দেশ জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত টেকসই উন্নয়নের চতুর্থ পদে (টেকসই উন্নয়ন-৪) বিবৃত রূপকল্প, নীতি ও লক্ষ্যে নিচয়ের মোড়কে ২০৩০ সালের মধ্যে করণীয় কার্যক্রমের কাঠামোর আওতায় তাদের তরফ থেকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ৯টি দেশের উপরোক্ত উদ্দেশ্যসমূহ ১৯৯৬ সালে নয়াদিল্লীতে ‘সকলের জন্য শিক্ষা’ বিষয়ক অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী ভাষণে শেখ হাসিনা জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কোর সকলের জন্যে শিক্ষার প্রয়াসকে টেকসই উন্নয়ন-৪-এর সঙ্গে মিলিয়ে এসব দেশের সকলের জন্য অনুসরণীয় লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন যে, আমরা সমকালীন পৃথিবীতে এমনভাবে বাস করি যে, আমাদের পারস্পরিক সংস্কৃতি, ধর্ম, জাতি ও ভাষাগত ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রেক্ষিতে তার মতে শিক্ষা এসব দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা, সহিষ্ণুতা ও বন্ধুত্ব বাড়ানোর জন্য সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। তাছাড়া শিক্ষার মাধ্যমে আমরা সঠিক মূল্যবোধ, আশা-আকাক্সক্ষার গতিময়তা এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তঃদেশ সখ্য অর্জনের বুনিয়াদ রচনা করতে পারি।

সম্মেলনে উপস্থিত ৯টি দেশে পৃথিবীর অর্ধেকের চাইতে বেশি জনগণ বাস করেন এবং এদের মধ্যে পৃথিবীর শতকরা ৭০ ভাগ নিরক্ষর বয়স্ক লোকগোষ্ঠী বিদ্যমান। এই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, টেকসই উন্নয়ন-৪ এর আওতায় সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তীয় ও গুণগত উৎকর্ষবিশিষ্ট শিক্ষা এবং আজীবন শিক্ষা প্রাপ্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রণোদনা পাওয়া যায়। এই প্রেক্ষিতে তার মতে ৯ দেশের এই শিক্ষা সম্মেলন উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতার একটি সাধারণ পাটাতন বা ভিত্তি হিসেবে প্রযুক্ত হতে পারে। এসব বৈশ্বিক আকাক্সক্ষা মনে রেখে শিক্ষাবিদ ও নীতি প্রণেতাগণ ৯টি সদস্য দেশের আকাক্সক্ষা, প্রতিশ্রুতি এবং অগ্রাধিকারের কাঠামোয় টেকসই উন্নয়ন-৪-এর মোড়কে স্থির করে অতীতের প্রচেষ্টাসমূহ অধিকতর সুসংহত ও সম্মার্জিত করে এখন থেকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। এর আলোকে তার মতে ঢাকার এ সম্মেলন ৯টি দেশকে সমষ্টিগতভাবে টেকসই উন্নয়ন-৪ অর্জন করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ দিতে সক্ষম। এই পটভূমিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই দেশের শিক্ষানীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহের ওপর আলোকপাত করেন এবং বলেন, এ দেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে মৌল কৌশল ও নীতি ২০১০ সালে যে শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম তার সরকার প্রণয়ন করেছিল সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই মৌল কৌশল ও নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দরিদ্র ছাত্রদের বৃত্তি প্রদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বিশিষ্ট শিশুদের এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ছাত্রদের ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত লোকগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা প্রসারণে যথাÑ প্রয়োজন পদক্ষেপ নেয়া, অসরকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগের অংশীদারিত্ব নিয়ে অগম এলাকায় শিক্ষা বিস্তৃত করা এবং কারিগরি, প্রকৌশল ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্ভাবনশীল মাধ্যম ও উপায় হিসেবে তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আন্তঃসক্রিয় শ্রেণী এবং উন্মুক্ত ও দূরত্ব উপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন যে, তার সরকার এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার প্রচলন এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পুস্তকাদি মাতৃভাষায় প্রকাশ করার পদক্ষেপ নিয়েছে, মাতৃভাষায় প্রকাশিত প্রাক-প্রাথমিক পুস্তকাদি সকল শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষা শুরু করার অধিকারকে নিশ্চিত করেছে। ফলত বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার অন্তর্ভুক্তির মাত্রা শতকরা ৯৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে এবং ঝরে পড়ার হার ২০১১ সালের শতকরা ৫০ ভাগ থেকে ২০১৬ সালে শতকরা ২০ ভাগে নেমে গেছে। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেছেন যে, ২০১০ সাল থেকে এ দেশে ২.২৫ বিলিয়ন পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ সম্ভবত পৃথিবীর অন্য কোথাও নেয়া হয়নি। এসবের ফলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তীয়, সাম্যভিত্তিক ও যথাযথ গুণগত উৎকর্ষসম্পন্ন এবং আজীবন শিক্ষার প্রক্রিয়া সকলের জন্য নিশ্চিতকরণে সফল হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ৯ দেশের এ শিক্ষা সম্মেলনে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন-৪ অনুযায়ী সকল পদক্ষেপ নেয়া ও সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৯টি সদস্য দেশ তাদের উৎকৃষ্টতম শিক্ষা প্রণালী সম্পর্কে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও ফলপ্রসূতার সুফল বিনিময় করতে পারবে। এর আলোকে ভবিষ্যতের কার্যক্রম বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রণীত হবে এবং এদের মাঝে সহযোগিতার অংশীদারিত্ব নবতর ও অধিকতর কার্যক্ষম মাত্রায় রূপ পাবে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণ সহযোগিতা জ্ঞানের ভিত্তিতে অধিকতর ফলপ্রসূতা অর্জন করতে পারবে।

এ ৯টি দেশ দু’বছর পরপর সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে অন্তর্ভুক্তীয়, সাম্যভিত্তিক, গুণগত উৎকর্ষবিশিষ্ট এবং আজীবন শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ সম্পর্কে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে তাদের স্ব স্ব দেশে এবং সমষ্টিগতভাবে সকল সদস্য দেশে করণীয় কর্তব্য নির্ধারণ করে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থাÑইউনেস্কো এ ৯ সদস্যবিশিষ্ট দেশের সম্মেলনে সঞ্চালক ও সহায়ক সংগঠন হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ঢাকায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে তা অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাকিস্তানে। পাকিস্তানে সম্মেলন শেষ হওয়ার দু’বছর পর ঢাকায় এ সম্মেলনে সভাপতির সম্মান ও দায়িত্ব রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর অর্পণ করা হয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। বিস্তারিত আলোচনা ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পর ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ উপরোক্ত ৯টি দেশ শিক্ষা বিষয়ে অগ্রগতি ও সহযোগিতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘ঢাকা ঘোষণা’ গ্রহণ করেন। এই ঘোষণায় দৃঢ় সঙ্কল্প ব্যক্ত করে তারা বলেন যে (১) তারা জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের দেশের টেকসই উন্নয়ন-৪-এর কার্যক্রম অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে তা অর্জন এবং ইউনেস্কোর ২০৩০-এর শিক্ষা কার্যক্রমের কাঠামো অনুসরণ করে শিক্ষা উন্নয়ন এবং আজীবন শিক্ষা লাভের সুযোগ বর্ধন, (২) টেকসই উন্নয়ন-৪ অনুযায়ী অতীতের শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জন, জাতীয় উন্নয়নে অগ্রাধিকার, সম্পদের লভ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রক্রিয়ার আলোকে টেকসই উন্নয়ন-৪-এর লক্ষ্যে এবং সকল পর্যায়ে ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং (৩) পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে আন্তঃজাতীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ এবং (৪) এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে তারা পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সহযোগিতামূলক গবেষণা, তথ্য ও জ্ঞান সঞ্চালন, উত্তম ব্যবহার বিধি, বৃত্তি ও শিক্ষার্থী বিনিময় কার্যক্রম, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে নিয়মিত সভা অনুষ্ঠান, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ও সুশীল সমাজের মধ্যে নীতিগত আলোচনায় শিক্ষা কার্যক্রমের বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন, ফলপ্রসূ শিক্ষানীতি ও ব্যবহার বিধির অনুকূলে যৌথ সমর্থন প্রদান এবং সদস্য দেশসমূহের মধ্যে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এ ঘোষণায় সুপারিশ করা হয় যে (৫) মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদের শতকরা ৪ থেকে ৬ ভাগ এবং সার্বিক গণব্যয়ের শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তকরণ, (৬) আন্তর্জাতিক ও বহির্বিশ্বের শিক্ষার অনুকূলে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো, (৭) প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল নিরসন ও ঝুঁকি নিরসন, (৮) টেকসই উন্নয়ন-৪ অর্জনের লক্ষ্যে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ফলপ্রসূ যোগাযোগ স্থাপন ও রক্ষাকরণ এবং সর্বশেষ (৯) সকল দেশের ব্যক্তি সম্পদ ও সৃজনশীলতা নিয়ে ইউনেস্কোর ‘শিক্ষা ২০৩০’-এ বিবৃত লক্ষ্য নিশ্চয় ও প্রতিশ্রুতির অর্জন ও রক্ষাকরণে প্রযুক্ত করার লক্ষ্যে ৯টি দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব স্থাপন ও প্রসারণ করার ওপর জোর দেয়া হয়।

ঢাকা ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত এই ৯ লক্ষ্য নিশ্চয়ই ও প্রতিশ্রুতিসমূহ শিক্ষা প্রসারণের জন্য অনিবার্য উপকরণ হিসেবে প্রযুক্ত হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। এ স্বীকার করে নিলেও কমপক্ষে দুটি ক্ষেত্রে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ শিক্ষা সম্মেলন যথার্থ মনোযোগ দেয়নি বলে বলা চলে। এক, প্রযুক্তিতে দ্রুত বেগে এগিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও চীনের পথ ধরে শিক্ষাকে সমকালীন উৎপাদনশীলতার নিলয় ও ভিত্তি হিসেবে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রবোটিকস ও রবোট্রনিকস এবং নিরন্তর গতিতে বিকাশমান সৃজনশীলতা কিভাবে এসব দেশ প্রযুক্ত করে প্রযুক্তীয় দক্ষতার যে বিশাল ব্যবধান সাধারণ শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য দেশকে শিক্ষা ও উন্নয়নের সামনের সারির দেশ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এবং কিভাবে এ দূরত্ব কমিয়ে সুসংহত সমাজ কাঠামোর আওতায় শিক্ষার মাধ্যমে ক্রমঅগ্রসর মনে দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রয়োগ করা যায় তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া হয়নি। নিঃসন্দেহে বলা চলে যে, প্রযুক্তিগতভাবে পৃথিবীর সামনের সারির দেশসমূহের প্রযুক্তি গ্রহণ করে ক্রমবর্ধমান হারে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগের জন্যে শিক্ষাকে যে সর্বাত্মক মাত্রায় ব্যবহার করা যায় তা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত না করলে ঈপ্সিত অগ্রগতি ও উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে সক্রিয় শক্তির ভূমিকায় তা সুবিস্তৃত করে শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ উপযোগ দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিশ্বের এসব দেশ নিশ্চিত করতে পারবে না। এই ২টি অপূর্ণাঙ্গতা দূরীকরণের লক্ষ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার যে প্রতিশ্রুতি ঢাকা ঘোষণা অনুযায়ী দেয়া হয়েছিল তা পূর্ণাঙ্গ ও ফলপ্রসূভাবে পালন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। দুই, মেধা ও গবেষণার ভিত্তিতে প্রযুক্তীয় সৃজনশীলতা উৎপাদনশীলতার নিরিখে বাণিজ্যায়িত করার জন্য প্রয়োজন ঝুঁকি মূলধন সরবরাহকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান সৃজন এবং প্রথাগত সঞ্চয় ও মাধ্যমায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সঞ্চয়কে বিনিয়োগ রূপান্তরণের দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত নীতি ও পদ্ধতির ইতিবাচক সংস্কার। আমরা এখনও লক্ষ্য করছি যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিশ্বের এসব দেশে উদ্ভাবন ও সৃজনশীল প্রতিভাবানদের সফলভাবে প্রতিভাত করতে হলে প্রথম সারির উন্নত দেশসমূহের ঝুঁকি মূলধন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সহায়তা ও সমর্থন প্রয়োজন। এরূপ সহায়তা ও সমর্থন যদি ২য় ও ৩য় বিশ্বের এসব দেশে প্রতিষ্ঠিত ও বিস্তৃত না হয় তাহলে শিক্ষা বিস্তৃতকরণের সুফল হিসেবে এরাও দ্রুততর গতিতে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যেতে পারবে না। বস্তুত কার্যকরণ সূত্র অনুযায়ী বলা চলে যে, শিক্ষার ফলশ্রুতি হিসেবে উদ্ভাবনশীলতাকে যদি বাণিজ্যিকভাবে সফল করার আর্থিক ও মূলধন কাঠামো দেশে না থাকে তাহলে শিক্ষা থেকে পূর্র্ণাঙ্গ উপযোগ সংশ্লিষ্ট সমাজ পাবে না এবং না পেলে প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাপকাঠিতে সামনের সারির দেশসমূহের গতিময়তা ও অর্জনের সঙ্গে এসব উন্নয়নশীল দেশের ফারাক বাড়তেই থাকবে। তাই এই ৯টি সদস্য দেশের আকাক্সক্ষা, প্রতিশ্রুতি এবং অগ্রাধিকার টেকসই উন্নয়ন-৪-এর মোড়কে স্থির করে অতীতের প্রচেষ্টাসমূহ অধিকতর সুসংহত ও সম্মার্জিত করে নতুন দিকনির্দেশনা দেয়ার প্রতি আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। এর আলোকে আমাদের মতে ঢাকার এ সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ সম্মার্জনকরণে সেসব এ ৯টি দেশকে সমষ্টিগতভাবে টেকসই উন্নয়ন-৪ অর্জন করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ দিতে সক্ষম।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

১৮/০২/২০১৭ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: