আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২৭.২ °C
 
২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১১ ফাল্গুন ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কুষ্টিয়ায় বড় বধ্যভূমি বিত্তিপাড়া

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬

একাত্তরে কুষ্টিয়ায় নরপিশাচ পাক সেনাদের সঙ্গে মিলে এদেশের স্বাধীনতাকামী, নিরপরাধ বাঙালীর রক্তে যারা হাত রাঙ্গিয়েছিল, তাদের অন্যতম পিস কমিটির নেতা কোর্টপাড়ার এ্যাডভোকেট সাদ আহমেদ, আড়ুয়াপাড়ার ইয়াকুব আলী, একই এলাকার মুসলিম লীগের ঘুনষি, শেখ আহম্মদ আলী মুন্সি, মিলপাড়ার রাজাকার কুটিখান, শরফু বিহারী, সিরাজ, আমলাপাড়ার মুসলিম লীগের ইয়াকুব মিয়া, রক্সি সিনেমা হলের মালিক হাশেম খান বিহারী, রাজাকার জল্লাদ খ্যাত মজিদ বিহারী। তাদের নির্মম হত্যাকা-ের শিকার হন হাসান ফয়েজ, সবুরমিয়া, শামসুলহুদা, আবুল কাশেম ও আবুল হাসনাতসহ অন্তত ৬০ হাজার বাঙালী। অপরদিকে পাক সেনা, রাজাকার, শান্তি কমিটি ও বিহারীদের ভোগের সামগ্রী হয় অন্তত দুই হাজার মা-বোন। ১৭ এপ্রিল পাক সেনারা কুষ্টিয়া পুনর্দখল করেই তাদের দোসর জামায়াতে ইসলাম, মুসলিম লীগ এবং অবাঙ্গালী রাজাকার মিলে নির্বিচারে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও নারী ধর্ষণ। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয়স্বজনদের ধরিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের ধরে এনে পাক হায়েনাদের হাতে তুলে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কের পাশে উজানগ্রাম ইউনিয়নের বিত্তিপাড়া ছিল পাক হানাদার, রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনীর বধ্যভূমি। কুষ্টিয়া পিস কমিটির চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা এ্যাডভোকেট সাদ আহমেদের নেতৃত্বে অবাঙ্গালী, রাজাকার ও পিস কমিটির সদস্যসহ স্বাধীনতা বিরোধীরা হয়ে ওঠে বেপরোয়া। রেনউইক ঘাট, রক্সি সিনেমা হলের উত্তর পাশ থেকে মিলপাড়া গড়াই নদীর শ্মশান ঘাট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্পট এবং মোহিনী মিল কলোনির পেছনে কালী নদীর ধার ছিল তাদের বধ্যভূমি। এসব স্পটে বিভিন্ন স্থান থেকে বাঙালীদের ধরে এনে নির্মমভাবে জবাই করা হয়। গুলি করলে ভয়ে শহরবাসী পালিয়ে যেতে পারে। তাই ছিল লোমহর্ষক জবাইয়ের ব্যবস্থা। অবাঙ্গালী ও রাজাকার মিলে কোহিনুর বেকারী মালিক পরিবারের দুধের বাচ্চা থেকে শুরু করে নারী বৃদ্ধসহ ১৮ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া হানাদারমুক্ত হলে বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কার হতে থাকে একটার পর একটা গণকবর আর বধ্যভূমি। এসব বধ্যভূমি পূর্ণ ছিল বাঙালীর কঙ্কাল আর হাড়ের স্তূপে। পরিত্যক্ত বাড়ির কুয়ার মধ্যেও পাওয়া যায় গলিত পচা লাশ আর কঙ্কাল। কুষ্টিয়ার বৃহত্তম বধ্যভূমি বিত্তিপাড়ায় ছিল পাক আর্মিদের ক্যাম্প। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজনকে এখানে এনে করা হতো টর্চার। এছাড়া বিত্তিপাড়ায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে সন্দেহভাজন পুরুষ-নারীকে নামিয়ে নেয়া হতো। পরে তাদের আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে চালানো হতো নির্যাতন। মারা গেলে ক্যাম্পের আশপাশেই পুঁতে রাখা হতো কিংবা পুকুর-খাদে ফেলে দিত। দেশ স্বাধীনের পর জন স্টোন হাউজ ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের উপস্থিতিতে বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি থেকে উদ্ধার করা হয় দুই পিকআপ ভর্তি মানুষের কঙ্কাল, মাথার খুলি ও হাড়। কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিত্তিপাড়া অন্যতম বড় বধ্যভূমি।

-এমএ রকিব, কুষ্টিয়া থেকে

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬

৩১/১২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: