কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ১৭.২ °C
 
১৮ জানুয়ারী ২০১৭, ৫ মাঘ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চালু হচ্ছে না হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৬
চালু হচ্ছে না হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল

মশিউর রহমান খান ॥ নক্সায় ত্রুটির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের ৪ মাস পরও চালু হচ্ছে না রাজধানীর প্রথম পাঁচ তারকা মানের সাবেক রূপসী বাংলা হোটেল বা বর্তমান ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেল। বড় ধরনের সংস্কারের উদ্দেশ্যে ও যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে গ্রাহকদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করতে ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর বন্ধ করে দেয়া হয় রূপসী বাংলা। সংস্কার কাজ শেষে চলতি বছরের শুরুতেই ‘ইন্টার কন্টিনেন্টাল’ নামে পুনরায় চালু হওয়ার কথা থাকলেও আজও সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংস্কার কাজ বন্ধ রেখেই নক্সার ত্রুটি সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল)। প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। সংসদীয় কমিটি বিলম্বের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬৬ সালে নির্মিত হওয়া ১১ তলা ভবনের এ হোটেলটির মূল নক্সার খোঁজ পায়নি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে হোটেলটি বন্ধ করার আগে বিশদ জরিপ করা সম্ভব হয়নি। তবে বন্ধের পরে বিশদ জরিপকালে এবং ডেমোলিশন পর্যায়ে প্রস্তুতকৃত প্রকল্পের ডিজাইনে বেশকিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে প্রকল্পের নক্সা পুনরায় প্রণয়ন করতে হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে ডেমোলিশনের কাজ শেষ করা যায়নি। এ কারণে প্রকল্প সমাপ্তির সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করা হয়, যা হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিএসএলের বোর্ডসভা অনুমোদন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংস্কার কাজে বিলম্বের এসব কারণ উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে হোটেলটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বিএসএল। বৈঠকে ওই প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা শেষে বিলম্বের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়, হোটেলটি নিয়ে কোন প্রকার বিশদ জরিপ ছাড়াই হোটেলটির নক্সা প্রণয়নের কাজ করা হয়েছে। নক্সা প্রণয়নের সময় পুরনো অবকাঠামোর লোড ক্যাপাসিটি যাচাই করা হয়নি। ভূগর্ভস্থ স্যুয়ারেজ এবং গ্যাস লাইনের ম্যাপিংও যাচাই করা হয়নি। ফলে সংস্কার কাজ বন্ধ রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে নক্সার ত্রুট মেরামত করতে হচ্ছে। বিএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর লুৎফর রহমান, এনডিইউ, পিএসসি (অব) স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৬৬ সালে নির্মিত হোটেলটির পুরনো ১১ তলা ভবনের মূল নক্সা না থাকার কারণে হোটেল বন্ধের আগে বিশদ জরিপ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরনো ১১ তলা ভবনের ফ্লোর সø্যাবের লোড বিয়ারিংয়ে ইনক্যাপাবিলিটি রয়েছে। সংস্কারের জন্য কাজ শুরু করতে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ভেঙ্গে ফেলার পর দেখা যায় যে, ভবনটির আগের ফ্লোর সø্যাবগুলো ছিল রিব সø্যাব, যা সলিড কংক্রিটের সø্যাব বলে অনুমান করেছিল ডিজাইন সংশ্লিষ্টরা। এ তথ্য জানার পর নতুনভাবে ডিজাইন-সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয়। এর ভিত্তিতে বর্ধিত গেস্ট রুমের প্রস্তাবিত ভারি কংক্রিট ব্লকের পার্টিশন ওয়াল স্থাপন করা সম্ভব হবে না বলে জানায় প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (পিএমসি)। পরে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহযোগিতা নেয় বিএসএল। বুয়েটও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কংক্রিট ব্লকের সø্যাব নির্মাণ সম্ভব নয় বলে মত দেয়। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ড্রাই ওয়াল সিস্টেম স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা বাস্তবায়নের জন্য চার মাস সময় লেগে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে নক্সা বাস্তবায়নকালে পূর্ব পাশের পুরনো ১১ তলা বিল্ডিংয়ের সø্যাবগুলোর (রিব সø্যাব) উচ্চতা খুবই কম ছিল। তাই দুটি অতিরিক্ত অগ্নি প্রতিরোধক বোর্ড লাগানোর পরামর্শ দেয় সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, যাতে ২ ঘণ্টা অগ্নিপ্রতিরোধক করা যায়। কিন্তু সø্যাবগুলোর উচ্চতা এতই কম যে, অতিরিক্ত দুটি বোর্ড লাগালে অতিথি কক্ষের সিলিংয়ের উচ্চতা অনেক কমে যেত। এ অবস্থায় বিকল্প উপায় হিসেবে ওই সø্যাবের একটি অংশ কেটে বুয়েটে পাঠানো হলেও বুয়েট সø্যাবগুলোকে ২ ঘণ্টা অগ্নিপ্রতিরোধক বলে সনদ দেয়।

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৬

১৪/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: