আংশিক রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৫ °C
 
২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৮ ফাল্গুন ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাইওর মাও নাইওর গেইলে আইসেন সকালে

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৬

ও মুই নাইওর আর না জাং গাড়িয়াল তোমার গাড়িতে চড়ি

তোমার গাড়ির হাংরাত নাগি ছিঁড়ে গেইল মোর বিয়ার শাড়ি।

অথবা

মাইওর মাও নাইওর গেইলে আইসেন সকালে,

বিতরি ধানের কাটা মারা কাদর হালও নইচকেইছে।

বিয়ের পর বধূরা বাবার বাড়ি বেড়াতে যেত। তখন এই বধূরা গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, রিক্সা অথবা নৌকায় যাতায়াত করত। আর এই নাইওর নিয়ে রংপুর অঞ্চলে অসংখ্য ভাওয়াইয়া গান রচিত হয়। এই বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে মৌসুমী ফল ওঠে। এ সময় গায়ের বধূরা বাবার বাড়ির যাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন বধূদের এই নাইওর যাবার দিন উৎসবে পরিণত হয়। নাইওর যাবার জন্য কয়েকদিন আগে থেকে শ্বশুর অথবা শাশুড়ির কাছে বায়না ধরে বধূ। এছাড়া বধূর বাপের বাড়ি থেকে লোক আসত মেয়েকে নিয়ে যেতে। যেদিন বধূ স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি যাবে, সেদিন কাকডাকা ভোরে উঠেছে। সংসারের সব কাজ নিজের হাতে করেছে। বাড়ির মানুষদের সব চাহিদা একে একে পূরণ করতে হয়েছে তাকে। এক সময় ছই দেয়া কাপড় দিয়ে ঘেরা গরুর গাড়ি এসেছে। বার বার গাড়িয়াল তাগাদা দিত বধূকে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য। কিন্তু উপায় নেই, কাজ যে শেষ হতে চায় না। এক সময় বাড়ি থেকে যখন বের হয় তখন হয়ত পুবের সূর্য্যে হেলে পড়েছে পশ্চিমে । শত কষ্টেও বাপের বাড়ী যাবার আনন্দে তখন সব ভুলে গেছে বধূ। শ্বশুরবাড়ির মানুষ আর পাড়া প্রতিবেশীরা বিদায় দিত তাকে। তাড়াতাড়ি ফিরে আসার জন্য বার বার তাগিদও দিত। এইসব সুখ স্মৃতির কথা বললেন ধরলা পারের মাঠেরপাড় গ্রামের বৃদ্ধা আজিমন বেওয়া। স্বামী মহির উদ্দিন তিন দশক আগে মারা গেছেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। তখন জীবন সংসার কিছুই বুঝতেন না। আজিমন বিবি জানান, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে আসতে মন চাইত না। খুব কান্নাকাটি করতাম। বাবা-মা প্রায়ই নাইওর নিয়ে যেত। তখন গরুরগাড়ি আর নৌকা ছাড়া যাতায়াতের উপায় ছিল না। শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়ি যেতে এক দুপুর গড়িয়ে গেছে। অথবা কখনও রাত পার হয়ে গেছে। সেদিনের সুখ স্মৃতি আজও চোখে ভাসে। তিনি বলেন, গ্রামের বধূদের নাইওরের উৎসব হতো। পাড়া প্রতিবেশীরা আসত। তাদের কাজে সহায়তা করত। সময়ের সঙ্গে নাইওর যাবার পদ্ধতি বদলেছে। এখন বধূরা মোবাইলে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখে বাপের বাড়ির সঙ্গে। এখন গরুরগাড়ি অথবা ঘোড়ার গাড়িতে কোন বধূ আর যায় না। তারা যায় রিক্সায় অথবা মাইক্রোবাসে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত আর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এ প্রজন্মের মানুষ তাদের নাইওর যাবার পদ্ধতি বদলেছে। তারা জানেই না আমাদের দেশে নাইওর একসময় সামাজিক উৎসব ছিল।

Ñরাজু মোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম থেকে

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৬

১৪/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: