পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২০ °C
 
২১ জানুয়ারী ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বগুড়ায় বোমা বানাতে গিয়ে নিহত অপর জঙ্গীর পরিচয় মিলেছে॥ স্ত্রী গ্রেফতার

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৬
বগুড়ায় বোমা বানাতে গিয়ে নিহত অপর জঙ্গীর পরিচয় মিলেছে॥ স্ত্রী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়ার শেরপুরের জোয়ানপুর কুটিরভিটা গ্রামের এক বাড়িতে বোমা বানাতে গিয়ে দুই জঙ্গী নিহতের ৩৪ দিন পর অজ্ঞাত সেই যুবকের লাশের পরিচয় মিলেছে। সেই সঙ্গে বেরিয়ে এসেছে ভয়ঙ্কর সব তথ্য। নিহত ওই যুবকের নাম রাইসুল ইসলাম খান ওরফে ফারদিন ওরফে নোমান ওরফে সজল ওরফে রাসেল (২৬)। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক প্রধান ছিল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অনার্সের সাবেক শিক্ষার্থী এই দুর্ধর্ষ জঙ্গী বোমা বানানো ও অপরাধ সংঘটিত করায় পারদর্শী। রবিবার সকালে বগুড়ার পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান প্রেস ব্রিফিং করে নিহতের পরিচয় ও জঙ্গীদের সম্পর্কে নানা তথ্য দেন। নিহত রাইসুল ইসলাম খান ওরফে ফারদিনের স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে বগুড়ার শাজাহানপুরের কামারপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে জেএমবির সক্রিয় সদস্য। শেরপুরের ওই বাড়িতে সেও কিছুদিন ছিল।

উল্লেখ্য, গেল ৩ এপ্রিল রাতে শেরপুরের জোয়ানপুর কুটিরভিটা গ্রামের এক বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে দুই ব্যক্তি নিহত হয়। সে সময় একজনের পরিচয় মেলে। তার নাম তরিকুল ইসলাম (২৮), বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সে কুষ্টিয়া বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার পর ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪০টি গ্রেনেড, বোমা, কয়েক বস্তা বোমা তৈরির উপকরণ, বিস্ফোরকদ্রব্য উচ্চ ক্ষমতার নাইট্রোজেল ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। এই বাড়িটি বোমা তৈরির কারখানা ও বড় ধরনের অপারশেনের আগে ও পরে সরঞ্জাম আনা নেয়ার কাজে ভাড়া নেয়া হয়েছিল। বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরিত না হলে পয়লা বৈশাখে বড় ধরনের হামলাসহ বড় ধরনের কয়েকটি হামলা করা হতো। ফারদিন বোমা হামলার অনেক অপারেশন পরিচালনা করেছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারিতেও বোমা তৈরির কারখানা বানিয়েছিল। পুলিশ ওই কারখানা থেকে বিপুল বোমা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে। পুলিশের তদন্তে এই বিষযগুলো বের হয়ে এসেছে।

বগুড়ার নিভৃত গ্রামে এই বাড়ি সিএনজি চালকের পরিচয় দিয়ে ভাড়া নিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন। ঘটনার দু’দিন আগে তরিকুল ও রাইসুলকে বাড়িতে রেখে মিজানুর পরিবারসহ চলে যায়। তাকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ জানায়, উল্লিখিত ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেফতারকৃত মাসুমা আক্তারকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

বোমায় নিহত রাইসুল ইসলাম খান ফারদিন চট্টগ্রামের আলোচিত ন্যাংটা ফকির হত্যা, ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে টাকা ছিনতাইয়ের মূল হোতা। হাটহাজারিতে অস্ত্র গুলি উদ্ধারের পর হতেই ফারদিন পলাতক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন সে জেএমবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। জঙ্গী সংগঠনের সূত্রে পরিচয় হয় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মোস্তাফিজার রহমান ওরফে শাকিল ওরফে বোমা শাকিলের সঙ্গে। পরে শাকিলের বোন মাসুমা আক্তারের সঙ্গে ফারদিনের বিয়ে হয়। এই ফারদিন ও শাকিল ঢাকার মিরপুরে ডিবি পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় জড়িত। শাকিলের আরেক ভাই মুজাহিদ জেএমবির সক্রিয় সদস্য। সে বাংলাভাইয়ের সহযোগী মামুনের (উভয়েরই মৃত্যুদ- কার্যকর) ভগ্নিপতি। পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গীদের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে তিনি জানতে পারছেন উগ্র জঙ্গীরা একই মতাদর্শের পরিবারের মধ্যে বিয়েশাদী ও আত্মীয়তা করে। যে কারণে কেউ ধরা পড়লে বা নিহত হলে পরিচয় দিতে চায় না। বগুড়ার ঘটনায় তরিকুলের পরিচয় উদঘাটনেও বেগ পেতে হয়েছে।

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৬

০৯/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: