আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৯ ফাল্গুন ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রেল ভূমি থেকে শতকোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৬
রেল ভূমি থেকে শতকোটি টাকা  রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা
  • তালিকা ফাইলবন্দী ছয় মাস

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ রেল ভূমি বরাদ্দে নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালার আলোকে ভূমি বরাদ্দের জন্য আবেদনকারীরা বছরের পর বছর অপেক্ষমাণ রয়েছে। মুষ্টিমেয় বৈধ আবেদনকারীদের ভূমি বরাদ্দ না দিয়ে বছরের পর বছর ফাইলবন্দী করে রাখা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখলদাররা কোন ধরনের আবেদন না করেই মাসোয়ারা আদায় করছে। বছরের প্রায় শতকোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এ ধরনের ক্ষতি গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

গত অক্টোবরে রেল মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে বছরের পর বছর অপেক্ষমাণ থাকা আবেদনকারী ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে রেল ভূমি ব্যবহারকারীদের তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা দেয়া হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিব, মহাপরিচালকের একান্ত সচিব ও জিএম পূর্ব এবং পশ্চিমকে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছিল। এদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত রবিবারের বৈঠকে রেল ভূমিতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণসহ সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদ-ে দ-িত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নীতিমালা অনুযায়ী বৈধভাবে আবেদনকারীদের লাইসেন্স প্রণয়নের বিষয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত না নেয়ার বিষয়টি।

অভিযোগ রয়েছে, রেল ভূমিতে প্রণয়নকৃত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় থাকা আবেদনকারী ও ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়কারীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য স্টেশনভিত্তিক ও বিভাগওয়ারী ভূসম্পত্তি বিভাগকে তিন মাসের সময়সীমা বেধে দেয়া হলেও উপেক্ষিত হয়েছে। কোন ধরনের তালিকা প্রণয়ন না করায় ভূমি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, জনবল সঙ্কটের কারণে ভূসম্পত্তি বিভাগগুলো তালিকা প্রণয়ন করতে পারেনি। গত বছরের ২ নবেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দফতর থেকে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দফতরে এ ধরনের তালিকা প্রণয়নের জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ ছয় মাসেও তালিকা প্রেরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর মহাপরিচালকের দফতরে পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দফতর থেকে রেল ভূমি ব্যবহারে ক্ষতিপূরণ আদায় ও লাইসেন্স প্রদানের জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ জারিকৃত ও প্রচলিত নীতিমালায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রাখা হয়নি। কিন্তু রেলভূমি বরাদ্দের নির্দেশনা রয়েছে। ফলে পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন স্টেশন সংলগ্ন এমনকি বিভাগীয় শহরে অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যানভুক্ত ভূমিতে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে অনেকেই। আবার নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারী ও ক্ষতিপূরণদাতা ব্যবসায়ীরা অনেক বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করলেও বৈধতার জন্য লাইসেন্স দাবি করলেও তা দেয়া হয়নি। বরং ক্ষতিপূরণ আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরামর্শ দেয়া হয়েছে মাস্টারপ্লান অনুমোদন করে টেন্ডার আহ্বান করা হলে প্রায় শতকোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব।

সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবর রেল মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, রেল ভূমিতে থাকা ও মাস্টারপ্ল্যানের আওতাভুক্ত জায়গায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। সে নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ২৫ অক্টোবর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় পূর্বাঞ্চলে এখতিয়ারভুক্ত সকল স্টেশন এলাকায় বৈধ ও অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রণয়ন করে মাস্টারপ্ল্যান চিহ্নিতকরণ এবং অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনা দেয়া হয়। মাস্টারপ্ল্যানভুক্ত জায়গায় যারা অবৈধভাবে ব্যবসা করছে তাদের তালিকা প্রণয়নেরও নির্দেশনা দেয়া হয়। মাত্র তিন মাস সময় বেধে দেয়া হলেও গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দফতর থেকে কোন ধরনের তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি।

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৬

০৯/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: