কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সমাজ ভাবনা ॥ এবারের বিষয় ॥ ভূমিকম্প

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৬
  • ভয় নয় চাই সচেতনতা

ফিরোজ মৃধা

ভূমিকম্প একটি আতঙ্কের নাম। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এটি একটি অপার রহস্য মানব জাতির কাছে। যদিও বর্তমান যুগে বিজ্ঞান এর কারণগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছে। কিন্তু কখন কোথায় কিভাবে কত মাত্রার হবে তার আগাম সংকেত দেয়া সম্ভব হয় না। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন আগাম সংকেত প্রদান করে মানুষকে সচেতন করে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য। বিজ্ঞানীদের এই চেষ্টা কতটুকু সফল হবে তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।

ভূমিকম্পের জন্য বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। অনেক কারণের মধ্যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অধিক জনসংখ্যা, দারিদ্র্য ও সচেতনতার অভাব উল্লেখযোগ্য। এই অঞ্চলে অনেক ফল্টলাইন সক্রিয় এবং এগুলো একটু একটু শক্তি সঞ্চয় করছে। অদূর ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। ছোট মাত্রাগুলো হয়ত এটারই পূর্বসংকেত। ভূমিকম্প একটি আপদ, কিন্তু সংগঠিত হওয়ার পর যদি ব্যাপক মাত্রার ক্ষতি সাধিত হয় তখন একে দুর্যোগ হিসেবে ধরা হয়। ছোট ছোট কম্পনে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই, ছোট কম্পনের ফলে আমাদের দেশের ক্ষতি হবে না। যদি না আমরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করি। আমাদের ভূমিকম্প সচেতনতা কোন পর্যায়ে আছে গত কয়েকটি ছোট ভূমিকম্প পরবর্তী মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে। ভাবতে অবাক লাগে যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে রোলমডেল অথচ আমরাই কিনা ভূমিকম্পে এত ভয় পাই।

আমাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে। আসলে ভূমিকম্প আমাদের কাছে কম পরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কারণ এটা হয়ত বছরে দু’একবার হয় এবং আমরা এটা খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যাই। আমরা যে মাত্রার হলে ভয় পাই জাপানীদের কাছে সেটা কিছুই না। কারণ তারা এতে অভ্যস্ত। আমাদেরও সচেতন হতে হবে কেননা যে হারে ভূমিকম্প প্রবণতা বাড়ছে, সচেতন না হলে হয়ত প্রাকৃতিক কারণে নয়, মনুষ্যসৃষ্ট কারণে অনেক ক্ষতির শিকার হবো আমরা। এর জন্য জনগণের সচেতনতা জরুরী এবং এটা শুরু করতে হবে পরিবার ও আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে। আমাদের বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথা দুর্যোগ প্রস্তুতির ওপর শিক্ষার ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অবকাঠামো, ঘরবাড়ি তৈরি করার সময় অবশ্যই বিল্ডিং কোড মেনে এগুলো ভূমিকম্প সহনীয় করে তৈরি করতে হবে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে। ঢাকা শহরের কথা বিবেচনা করে আমাদের উচিত প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও পরিকল্পিত নগরায়ন। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঝুঁকির মধ্যে না রেখে আমাদের উচিত তাদের জন্য সুন্দর আগামীর ব্যবস্থা করা, আর এজন্য চাই জনসচেতনতা। অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই ভূমিকম্পে জনসচেতনতা আমাদের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি অনেক কমাতে পারে।

ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ থেকে

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৬

১৪/০১/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: