আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২৭.২ °C
 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১২ আশ্বিন ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার পেলেন যারা

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৬

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ লিওনেল মেসি সিংহাসন পুনরুদ্ধার করবেন এটা একপ্রকার অনুমিতই ছিল। অবশেষে সোমবার রাতে সব অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। দুই বছর পর আবারও ফিফা ব্যালন ডি’অর এ্যাওয়ার্ড জিতেছেন বার্সিলোনার আর্জেন্টাইন তারকা।

দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও নেইমারকে টপকে ইতিহাস গড়েন ২৮ বছর বয়সী মেসি। ৪১.৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে সেরা হন বার্সা ডায়মন্ড। দ্বিতীয় হওয়া রোনাল্ডোর বাক্সে পড়েছে ২৭.৭৬ শতাংশ ভোট। আর তৃতীয় হওয়া নেইমার পেয়েছেন ৭.৮৬ শতাংশ ভোট।

২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা চারবার ফিফা বর্ষসেরা হন মেসি। ৪৯ ভোট পেয়ে ইউরোপ সেরা হন মেসি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মেসিরই ক্লাব সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ, যিনি পেয়েছিলেন মাত্র তিনটি ভোট। দুটি ভোট পেয়ে তৃতীয় হন রোনাল্ডো। সেরা নারী ফুটবলারের এ্যাওয়ার্ড জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্লি লয়েড। সংক্ষিপ্ত তিনজনের তালিকায় অপর দুইজন ছিলেন জার্মানির সেলিয়া সাসিক ও জাপানের আয়া মিয়ামা। সেরা কোচের পুরস্কার জয় করেন বার্সিলোনার স্প্যানিশ প্রশিক্ষক লুইস এনরিকে। সেরা মহিলা কোচ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ জেতানো জিল এলিস। সেরা গোলের পুরস্কার পুসকাস এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ব্রাজিলের ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার উইনডেল লিরা। বার্সিলোনার ডাগআউটে প্রথম মৌসুমেই ‘ট্রেবল’ জেতার অনন্য কীর্তি গড়া এনরিকে ২০১৫ সালের ফিফা বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হন বেয়ার্ন মিউনিখের পেপ গার্ডিওলা ও চিলির জর্জ সামপাওলিকে পেছনে ফেলে। ব্রাজিলের ঘরোয়া লীগের দল গোইয়ানোর হয়ে এ্যাটলেটিকো গো গোইয়ানেসিয়ার বিরুদ্ধে করা গোলটির জন্য পুসকাস এ্যাওয়ার্ড জয় করেন লিরা। ওই ম্যাচে অসাধারণ এক বাইসাইকেল কিকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল মেসি ও ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমার আলেসান্ড্রো ফ্লোরেঞ্জির দুটি গোল। মেসিকে হারিয়ে সেরা গোলের পুরস্কার পাওয়ার পর মঞ্চে আনন্দে কেঁদে ফেলেন লিরা।

কান্নারই কথা! কেননা মাত্র কমাস আগে খোদ ব্রাজিলেও খুব বেশি লোক তাকে চিনত না। গোইয়ানোর রাজ্য দলের মতো সাধারণ, অখ্যাত এক ক্লাবে খেলেন। এক খেলোয়াড় যাকে প্রতি মৌসুম শেষে কোন ক্লাবে খেলবেন এই চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়, তাকে খুব বেশি লোক চেনার কথাও নয়। সেই তিনি মেসির মতো মহাতারকাকে পেছনে ফেলে সেরা গোলের এ্যাওয়ার্ড জয় করেন। পুরস্কার মঞ্চে তাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিরা বলেন, সত্যি বলতে এটা স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এত এত তারকার সঙ্গে দেখা করব, এটাই মাথা থেকে এখনও সরাতে পারছি না। আর মেসির সঙ্গে একই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া, এরপর আবার ওর গোলকে ভোটে হারিয়ে পুরস্কার জেতা। এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বিশ্ব ফুটবলের সেরা একাদশও ঘোষণা করা হয়। যেখানে ঠাঁই পেয়েছেন বার্সিলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের চারজন করে ফুটবলার। দেশ হিসেবে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ চারজন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। ব্যালন ডি’অরের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালের ফিফা ফিফপ্রো একাদশ ঘোষণা করা হয়। স্বপ্নের একাদশের গোলরক্ষক জার্মানি ও বেয়ার্ন মিউনিখের ম্যানুয়েল নিউয়ের। তার সামনে ডিফেন্ডার হিসেবে আছেন স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদের সার্জিও রামোস এবং তিন ব্রাজিলিয়ান দানিয়েল আলভেজ (বার্সিলোনা) ও মার্সেলো (রিয়াল মাদ্রিদ) ও থিয়াগো সিলভা (পিএসজি)। মিডফিল্ডার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বার্সিলোনা ও স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ক্রোয়েশিয়া ও রিয়াল মাদ্রিদের লুকা মডরিচ ও ফ্রান্স ও জুভেন্টাসের পল পোগবা। ৪-৩-৩ ফর্মেশনের এই দলে আক্রমণভাগে আছেন ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তিনজনের তালিকায় থাকা রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, বার্সিলোনার আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং মেসির ক্লাব সতীর্থ ব্রাজিলের অধিনায়ক নেইমার।

এদিকে ইতালিয়ান সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ফিফার ওপর গোস্বা করে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে যাননি ইতালি কোচ এ্যান্টোনিও কন্টে ও অধিনায়ক জিয়ানলুইজি বুফন।

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৬

১৩/০১/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: