মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মানোন্নয়নের যাঁতাকলে স্নাতক শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৬
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ১২ জানুয়ারি ॥ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের অনার্সের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের ২০১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষে মাস্টার্স শ্রেণীতে ভর্তিসহ ৭ দফা দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী আনসার সদস্যদের ধাক্কা-ধাক্কি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গাজীপুরের বোর্ড বাজারস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন শুরু করে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিতুমির কলেজ, নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজ, বেগম বদরুন্নেছা সরকারী কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ মানিকগঞ্জ, নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলেজ নাটোর, বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজসহ দেশের বিভিন্ন কলেজ থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচীতে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচী চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশীদ নিজ গাড়িযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালরে মূল ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা ভিসির গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় তারা তাদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য স্লোগান দিতে থাকে এবং অনেকে ভিসির গাড়ির সামনে সড়কের ওপর শুয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে ভিসি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় ভিসি বলেন, বিগত তিন বছর ধরে ছাত্রদের সমস্যা সমাধান করার জন্য, সেশনজট দূর করার জন্য, পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানের জন্য, ফলাফল তিন মাসের মধ্যে ঘোষণা করার জন্য দিন রাত আমরা পরিশ্রম করছি। এখন তো ফলাফলের জন্য তোমাদের অপেক্ষা করতে হয় না। শিক্ষা জীবন ঝরে যায় না। ছাত্রদের যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বাত্মকভাবে সব সময় চেষ্টা করি। এর জন্য অবরোধের প্রয়োজন নেই, বসে থাকার প্রয়োজন নেই। এখানে আসারও প্রয়োজন নেই। তিনি আগামী ১৭ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের ৫ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা শুনে তা সমাধান করার কথা বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ভিসির কথা না শুনে বিক্ষোভ করতে থাকে। শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক ভাবে মঙ্গলবারই তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য ভিসির প্রতি দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে ভিসি তার গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা ফের তার গাড়ি ঘিরে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা শিক্ষার্থীদের গাড়ির সামনে থেকে সরাতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের ধাক্কা ধাক্কি ও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে চলে যান।

এরপর শিক্ষার্থীরা গেটের বাইরে থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আনসার সদস্যদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকে শিক্ষার্থীদের চলে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও শিক্ষার্থীরা তা মানেনি। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট থেকে সরিয়ে দিলে বেলা দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যায়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নতুন ও বর্ধিত সিলেবাসে অনার্স পড়া শুরু করে। প্রথম থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিত্য নতুন নিয়ম কানুন শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপ করে আসছিল। পূর্বের নিয়মে তাদের গড়ে প্রতি বিষয়ে ৩৫ নম্বর পেলেই তাদের পরীক্ষায় কৃতকার্য দেখানো হতো। কিন্তু এখন ফলাফলে সিজিপিএ পদ্ধতির কারণে তারা সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সিজিপিএ পদ্ধতিতে কোন শিক্ষার্থী নিজেকে খাপ খাওয়ানোর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিলেবাস পরিবর্তন, বর্ধিতকরণ ও নতুন এবং কঠিন শর্ত প্রয়োগ করতে থাকে। তাছাড়া সিলেবাসবহির্ভূত প্রশ্নপত্রের আলোকে পরীক্ষা এবং এক শ্রেণীর শিক্ষকের উত্তরপত্র মূল্যায়নে চরম অবহেলা ও অসামঞ্জস্যতার কারণে মোট শিক্ষার্থীর এক বিশাল অংশ কথিত মানোন্নয়ন নামক যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। এরই ফলশ্রুতিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনার্স কোর্স শেষ হলেও চূড়ান্ত ফলাফল এখনও আটকে আছে। এই বিশাল অংশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত শিক্ষা জীবনের কথা বিবেচনা না করে কোন প্রকার ইতিবাচক ফয়সালা ছাড়াই মাস্টার্স (২০১৩-২০১৪) শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে। যার ফলে প্রায় ৪ হাজার তিনশ’ শিক্ষার্থীদের জীবন এখন অনিশ্চিত ও মারাত্মক শঙ্কাগ্রস্ত।

শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা সেশনজটের কবলে পড়ে চার বছরের কোর্স ৬ বছর অপচয় হয়েছে। তাই হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন, পরিবার ও ভবিষ্যত সময়ের কথা বিবেচনা করে মাস্টার্সে ভর্তির নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করছে।

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৬

১৩/০১/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: