আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্যালন ডি’অর জিতে মেসির ইতিহাস

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০১৬, ০১:৩৬ এ. এম.
ব্যালন ডি’অর  জিতে মেসির  ইতিহাস

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ রেকর্ডের সঙ্গে যার নিত্য বসবাস, তার রেকর্ড নিয়ে মাতামাতির কি আছে! সম্প্রতি বছরগুলোতে রেকর্ড আর নিজের নামটি যেন সমার্থকে পরিণত করেছেন; খেলছেন রেকর্ড ভাঙ্গাগড়ার খেলা। মূলত গোলের গৌরবময় রেকর্ডে ঝুলিতে ভরছেন লিওনেল মেসি। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চলতি মৌসুমেও এগিয়ে চলেছেন দুরন্ত গতিতে। আর নতুন বছরটা তো শুরু করলেন সোনায় মোড়ানো সাফল্য দিয়ে। সোমবার রাতে মেসি প্রত্যাশিতভাবে জিতে নিয়েছেন ২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি’অর এ্যাওয়ার্ড। ক্ষুদে এই ফুটবল জাদুকরের হাতে সেরার ট্রফি তুলে দেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার কাকা। এ সময় মঞ্চে ছিলেন ফিফার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসা হায়াতু।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (ফিফা) সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে চোখ ধাঁধানো আলো ঝলমলে অনুষ্ঠানে নতুন ইতিহাস গড়েন ২৮ বছর বয়সী মেসি। বিশ্বের একমাত্র ও প্রথম ফুটবলার হিসেবে আগেই জিতেছেন টানা চতুর্থবার ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের মুকুট। এবার জিতে পাঁচবার এই অনন্য কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। যেখানে আপাতত দু’চোখ মেলে তাকানোর দুঃসাহস আর কারও নেই।

২০০৯ থেকে ২০১২ সাল। টানা চতুর্থবার গৌরবময় এ খেতাব জিতেছিলেন বার্সিলোনার আর্জেন্টাইন তারকা। কিন্তু পরের দুই বছর (২০১৩ ও ২০১৪) মেসি মুকুট হারান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কাছে। এবার সেই সি আর সেভেনকে পেছনে ফেলেই পঞ্চমবারের মতো ফিফা সেরা হলেন বার্সা ডায়মন্ড। সেরা তিনে আরেকজন ছিলেন মেসির বার্সিলোনা সতীর্থ ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক নেইমার।

সেরা নারী ফুটবলারের এ্যাওয়ার্ড জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্লি লয়েড। সংক্ষিপ্ত তিনজনের তালিকায় অপর দুইজন ছিলেন জার্মানির সেলিয়া সাসিক ও জাপানের আয়া মিয়ামা। সেরা কোচের পুরস্কার জয় করেন বার্সিলোনার স্প্যানিশ প্রশিক্ষক লুইস এনরিকে। সেরা গোলের পুরস্কার পুসকাস এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ব্রাজিলের ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার উইনডেল লিরা।

২০১৫ সালটা স্বপ্নে মতো কেটেছে বার্সিলোনার। এই বছরে পাঁচ শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠা কাতালানদের অসাধারণ সাফল্যের প্রধান স্থপতি যথারীতি মেসি। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। আর দলকে ভাসিয়ে দিয়েছেন আনন্দের জোয়ারে। তার পুরস্কারই পেয়েছেন আরেকবার ফিফা সেরা হয়ে। ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার আর বিখ্যাত ফুটবল ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর একীভূত হয়ে ২০১০ সাল থেকে দেয়া হচ্ছে ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার।

চোটের কারণে গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রায় দুই মাস ময়দানী লড়াইয়ে ছিলেন না মেসি। তবু ২০১৫ সালে বার্সার জার্সিতে ৪৮ গোল করেন। গত মৌসুমে স্প্যানিশ লা লিগা, কোপা ডেল’রে আর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতে ইউরোপের প্রথম ক্লাব হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রেবল জয়ের আনন্দে ভাসে বার্সা। আর বছরের হিসেবে কাতালানরা ২০১৫ সালে জিতেছে রেকর্ড পাঁচ ট্রফি। প্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডোর ব্যক্তিগত সাফল্যও অবশ্য কম ছিল না। গত বছর মেসির চেয়েও বেশি, ৫৪ গোল করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ তারকা। তাও মাত্র ৫২ ম্যাচে। তবে স্পেনের সফলতম ক্লাবকে একটি শিরোপাও এনে দিতে পারেননি সি আর সেভেন। তাই তো তাকে দুই বছর পর হারাতে হলো সিংহাসন।

সংক্ষিপ্ত তালিকার তৃতীয় ফুটবলার নেইমারের অবদানও কম নয় বার্সার অসাধারণ সাফল্যের পেছনে। ২০১৫ সালে ৪১ গোল করেন ব্রাজিলের এই মহাতারকা। এবার না পারলেও আগামীতে নেইমারই ব্যালন ডি’অরের রাজত্ব করবেন বলে ধারণা করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০১৬, ০১:৩৬ এ. এম.

১২/০১/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: