মূলত রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ৩০ °C
 
২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ধর্ম পালন ব্যক্তিগত ব্যাপার- তবে কাউকে আঘাত দেয়া যাবে না ॥ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:৪৮ এ. এম.

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাঁর সরকার কাউকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে বক্তব্য দেয়া মেনে নেবে না। তিনি বলেন, জনগণ যার যার ধর্ম পালন করবে। কেউ যদি তার ধর্ম পালন করতে না চায় সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অধিকার তার নেই। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে বক্তব্য দেয়া সহ্য করা হবে না এবং এর থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খবর বাসসর।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। নিজ ধর্মের পাশাপাশি অন্যের ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। এটাই বাস্তবতা এবং আমরা বাংলাদেশে তাই চাই।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ধর্মবিষয়কমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেব নাথ, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দেব, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি রমেশ ঘোষ, মহানগর সার্বজনীন পুজো কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি দেবাশীষ পালিতও বক্তৃতা করেন।

মঞ্চে ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী দুর্বেশানন্দ এবং চট্টগ্রামের স্বামী সুধর্ষানন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ ও ২১ আগস্টের অন্যান্য শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পুজো কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করে খাটো না ভাবার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আপনাদের অসামান্য অবদান রয়েছে। তাই আমরা চাই আপনারা নিজস্ব ও মাতৃভূমির অধিকার নিয়ে এদেশে বসবাস করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। সকল ধর্মের মানুষ সমান ধর্মীয় অধিকার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল দেশে কোন সম্প্রদায়িক মতবিরোধ থাকবে না এবং সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বসবাস করবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল স্বাধীনতার পর অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি সংবিধানে সকল ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, এর অর্থ হচ্ছে সকল ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু তা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক শাসকরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসের পাশাপাশি সংবিধানকেও পদদলিত করে।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাসহ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর ফলে তাঁর সরকার সংবিধান সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সকল ধর্মের অধিকার নিশ্চিত করেছে। এর ফলে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালন করতে পারবে।

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঈদ এবং পুজোসহ সকল ধর্মীয় উৎসব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে।

২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর নির্যাতনের অন্ধকার অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ কেউই বিএনপি-জামায়াতের দমননীতি ও নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী গ্রুপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত সে সময় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

নির্মাণ কাজ শেষে একসঙ্গে ৬০ লাখ

মানুষ হজ করতে পারবেন ॥ বাংলানিউজ জানায়, মক্কায় হাজীদের সুবিধা বাড়ানোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এই নির্মাণ কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে প্রতিবছর সারাবিশ্বের ৬০ লাখ মুসলমান একসঙ্গে হজ পালন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচএম আল-মুতাইরি এ তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন।

সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি সৌদি আরবে মসজিদে বোমা হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন সত্যিকারের মুসলিম এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করতে পারে না।

মসজিদে বোমা হামলার কথা তুলে ধরে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, সৌদি আরব ধর্মের নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। ইসলামের নামে এ ধরনের বোমা হামলার কোন সুযোগ নেই। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তিশালী জনমত রয়েছে।

প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:৪৮ এ. এম.

০৪/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: