মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জিএসপি ফিরে পেতে আর কোন বাধা নেই ॥ তোফায়েল

প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানিতে জিএসপি ফিরে পেতে আর কোন বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি আরও বলেছেন, বিদেশী ক্রেতারা আবার বাংলাদেশের প্রতি আস্থা ফিরে পেয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে এ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির নির্বাহী পরিচালক জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনেক অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশ^বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। এসব কারণে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের তাঁরা এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পোশাক ক্রেতাদের জোট এ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক জেমস এফ মরিয়ার্টির নেতৃত্বে ওই বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি ফিরে পেতে যা যা করা সম্ভব, তার সবটুকুই বাংলাদেশ করেছে। এর মধ্যে ক্রেতাগোষ্ঠীর আস্থা ফিরে পেয়েছি আমরা। আমেরিকার দেয়া বাংলাদেশ এ্যাকশন প্লানের ১৬টি শর্তের সব বাংলাদেশ যথাসম্ভব পূরণ করেছে। তাই জিএসপির বিষয়ে এবার তাদের পুনর্বিবেচনা আশা করছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের সময় শ্রমিকদের বেতন ২১৯ শতাংশ বেড়েছে। কারও বেতনই এখন সাড়ে ৭ হাজার টাকার নিচে নয়। কারও কোন অভিযোগ নেই। কাজের পরিবেশ অনেক ভাল। আমেরিকার প্রতিনিধিরা চাইলে শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন যে, শ্রমিকরা ভাল আছেন। তাদের নিরাপত্তা রয়েছে। তিনি বলেন, চলতি মাসের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআরের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসবেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ওই সময় তাঁরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো পরিদর্শন করবেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার অভূতপূর্ব উন্নতিতে তাঁরা সন্তুষ্ট হবেন বলে সরকার মনে করে। আমার বিশ^াস বাংলাদেশের ওপর থেকে জিএসপির স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করা হবে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর কোন দেশকে তৈরি পোশাকের ওপর জিএসপি সুবিধা দেয় না। বাংলাদেশও জিএসপি স্থগিতের আগে তৈরি পোশাকের ওপর এ সুবিধা পেত না। সরকার আশা করছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর বিল্ডিং সেফটি, ইলেকট্রিক সেফটি, ফায়ার সেফটি এবং ওয়ার্কার্স সেফটির বর্তমান অবস্থা দেখলে জিএসপি স্থগিত রাখার কোন কারণ থাকবে না। কিছুদিন আগে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের ১০ জন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছেন। তারা এ শিল্পের উন্নয়ন, সেফটি, শ্রমিকদের অধিকার এবং কর্মবান্ধব পরিবেশ দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এক সময় অপরিকল্পিতভাবে তৈরি পোশাক শিল্প গড়ে উঠলেও বর্তমান এ শিল্প বিশ^মানের। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর গত আড়াই বছরে বাংলাদেশে আর কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। উন্নতবিশে^ তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা, শ্রমিকদের অধিকার এবং কর্মবান্ধব পরিবেশের কোন অংশেই পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের জোট এ্যালায়েন্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের এ্যাকোর্ড বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো ধারাবাহিকভারে পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছে। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মোঃ শওকত আলী ওয়ারেছি, ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী, অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে শ্রম আইনের বিধিমালার গেজেট ॥ আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশোধিত শ্রম আইনের বিধিমালার গেজেট জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রেতাদের সংগঠন ‘এ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি’র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও এ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটির নির্বাহী পরিচালক জেমস এফ মরিয়ার্টি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, শ্রম আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিধিমালার গেজেট জারি হবে। গত ২০০৬ সালে শ্রম আইন প্রণয়ন করা হলেও আইনটি বাস্তবায়নে সংশোধনী আনার পূর্ব পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে কোন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই আইনটি সংশোধিত হওয়ার পর বিধিমালা প্রণয়নের বিষয়টি আলোচিত হয়। জানা গেছে, বিধিমালায় সাড়ে ৩০০ বিধি রয়েছে। বিধিমালায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন ও সংগঠন করা, ভবনের নিরাপত্তাসহ শিল্পের সার্বিক বিষয় বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই বিধিমালায় রফতানিমুখী শিল্পের রফতানির আয়ের শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণে একটি তহবিলে রাখার বিধান রাখা হচ্ছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ইউএসটিআর প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরে আসার আগেই বিধিমালাটি গেজেট আকারের ঘোষণা রয়েছে।

প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৪/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: