আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ১৭.২ °C
 
১৭ জানুয়ারী ২০১৭, ৪ মাঘ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদেকর অভিযোগপত্র অনুমোদন

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০১:৪৫ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অর্থ আত্মসাৎ মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান চৌধুরীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধ অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি কমিশন শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। শিগগিরই মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা জন্য এ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে বৃহস্পতিবার দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৯ মার্চ শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংকের ইস্কাটন শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ নকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় খাজা সোলেমান চৌধুরীসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার দুদকের ওপর আসে। দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডিসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, বিসমিল্লাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী মিসেস নওরীন হাসিব, পরিচালক ও খাজা সোলেমানের মা বেগম সারোয়ার জাহান, গ্রুপের পরিচালক আবিদা হাসিব, নাহিদ আনোয়ার খান, খন্দকার মোঃ মইনুদ্দিন ইশহাক, গ্রুপের মহা-ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি ও অথারাইজড সিগনেটরি) আকবর আজিজ মুতাক্কি, ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার ও অথারাইজড সিগনেটরি) রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেন।

এছাড়া শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— ব্যাংকের ইস্কাটন শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ আসলামুল হক, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার এ. এস. এম. হাসানুল কবীর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম ও জুনিয়র এ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মান্নাতুল মাওলা। সূত্র জানায়, দুদকের অভিযোগপত্রে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে বাদ দিয়ে নতুন করে চারজনকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত হলেও বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানের মালিক খাজা সোলেমানের বাবা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী (মৃত) ও টি ডব্লিউ এক্সপ্রেসের মালিক মোঃ মঈন উদ্দিনকে অভিযোগপত্রে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

এদিকে নতুন করে যারা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হয়েছেন তারা হলেন— শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার এ. এস. এম. হাসানুল কবীর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম, জুনিয়র এ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মান্নাতুল মাওলা ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার ও অথারাইজড সিগনেটরী) রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

সূত্র আরও জানায়, শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক মেসার্স বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেডের মালিক খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরীসহ আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে জাল দলিল দেখিয়ে ভুয়া রফতানি বিলের বিপরীতে এফডিবিপি ও ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে ফান্ডেড মোট ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। যা সুদ-আসলে ১১০ কোটি ৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দুদকের তদন্তে এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দ-বিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৯/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এ অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

টেরিটাওয়েল (তোয়ালে জাতীয় পণ্য) উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ২০১৩ সালে ৩ নবেম্বর মতিঝিল ও রমনা মডেল থানায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডিসহ ১৩ জন কর্মকর্তাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করে দুদক। ৫৩ আসামির মধ্যে ১৩ জন আসামি বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ৪০ জন আসামি জনতা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা।

চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলেমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী নওরীন হাবিবসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ১২ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে কমিশন। আসামিরা সবাই বর্তমাসে দুবাই, লন্ডন, মালয়শিয়া, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০১:৪৫ পি. এম.

০৩/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: