মূলত রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৮.৯ °C
 
২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

হ্যালো মাইকেল...

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট আমেরিকার ইন্ডিয়ানা প্রদেশের গ্যারে শহরে জন্ম ‘কিং অফ পপ’ নামে খ্যাত সঙ্গীততারকা মাইকেল জ্যাকসনের। আফ্রো-আমেরিকান এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম। দশ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অষ্টম। বাবা জোসেফ জ্যাকসন একজন কারখানার শ্রমিক হলেও পাশাপাশি গানের চর্চাও করতেন। মূলত আমেরিকান নিগ্রোদের সবচেয়ে প্রিয় ‘রিদম এ্যান্ড ব্লুজ’-এর চর্চা শুরু হয়েছিল জ্যাকসনের পারিবারিক আবহে। মাত্র ৫ বছর বয়সে মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গীত জীবন শুরু হয়। সে সময় মাইকেল জ্যাকসন ‘জ্যাকসন ফাইভ’ নামের একটি ব্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন। ব্যান্ডটি গঠন করার পর ১৯৬৬-৬৮ পর্যন্ত পরবর্তী তারা কিছু গান রিলিজ করে, যা পরবর্তীতে বিলবোর্ড চার্টে স্থান করে নেয়। সেই সমর বিখ্যাত মিউজিক ম্যাগাজিন ‘রোলিং স্টোন’ তাদের প্রচ্ছদে এই উঠতি তারকাদের কভার নিউজ করে। সত্তর দশকের পর একক ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ছাড়ে মাইকেল। এরপর মাইকেল একক শিল্পী হিসেবে সঙ্গীতবিশ্বে পথচলা শুরু করেন।

১৯৮২ সালে রিলিজ হওয়া ‘থ্রিলার’ এ্যালবাম সর্বকালের বিক্রীত রেকর্ড হিসেবে আজও অটুট, যা ভাঙার মতো মহাতারকার আবির্ভাব আর কখনই ঘটবে বলে মনে হয় না। জীবিতকালে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন মাইকেল জ্যাকসন। তাঁর মধ্যে দু’বার হয়েছেন ‘রক এন রোল হল অফ ফেমে’ যা ইতোপূর্বে অন্য কোন শিল্পীর ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। এছাড়াও ১৩টি গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড, ১৩টি সেরা একক সঙ্গীত, এবং ৭৫ কোটি এ্যালবাম বিক্রয়ের রেকর্ড রয়েছে তার।

মাইকেল জ্যাকসন এর গাওয়া ৫টি সঙ্গীত এ্যালবাম বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রীত এ্যালবাম। এদের মধ্যে রয়েছে ‘অফ দ্য ওয়াল’ (১৯৭৯), থ্রিলার (১৯৮২), ব্যাড (১৯৮৭), ডেঞ্জারাস (১৯৯১) এবং হিস্টরি (১৯৯৫)। গানের তালে তালে মাইকেলের নাচের কৌশলগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাইকেলের জনপ্রিয় নাচের মধ্যে রবোট ও মুনওয়াক যা মাইকেল ভক্তদের নিকট নন্দিত। মজার ব্যাপার হল, এই মুনওয়াক আসলে সামনের দিকে হাঁটার দৃষ্টিভ্রম সৃষ্টি করে পিছনে যাবার ভঙ্গিমা।

আরেক রকস্টার এলভিস প্রিসলির একমাত্র সন্তান লিসা মেরি প্রিসলিকে বিয়ে করেছিলেন মাইকেল। যদিও দু’বছর সংসারের পর তারা আলাদা হয়ে যান। ’৯৭ সালে আবারো বিয়ের পিঁড়িতে বসেন পপ সম্রাট। পেশায় নার্স এই ভদ্রমহিলার নাম ডোবরা জেনি রো। তারা দু’বছর সংসার করার পর আলাদা হয়ে যান এবং তালাকের সময় দুই সন্তানের প্রতিপালনের দায়িত্ব ডোবরা মাইকেলকে প্রদান করেন।

তার জীবনে অনেক অস্বাভাবিক ঘটনার জন্ম হয়। তুমুল জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই মহাতারকা পেপসির একটি বিজ্ঞাপনের মডেল হতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনায় পতিত হয়। যার কারণে প্লাস্টিক সার্জারি করতে হয় মাইকেলকে। এতে বার বার অসুস্থ হওয়ার কারণে অবশেষে নিজের চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটান এই মহান তারকা। উল্লেখ্য, তিনি ২০০৮ সালে আমেরিকায় বসে একজন ইমামের উপস্থিতিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সমাজ সেবক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। মানবতাবাদী এই শিল্পী তাঁর আয়ের অনেক অংশ দান করেছেন নানা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে।শিশু মৃত্যু হার, যুদ্ধ প্রভৃতি বিষয় নিয়েও গেয়েছেন অসংখ্য গান। পরিবেশ রক্ষায় গেয়েছেন ‘আর্থ সং’। তারপরও তাঁকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন এক শিশুর পিতা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নানা কেলেঙ্কারিতে জড়ালেও প্রায় ৪০ বছর ধরে সারাবিশ্বে বিখ্যাত হয়ে ছিলেন। আমার মতো অনেকের শৈশব জুড়ে আছে মনে কিংবদন্তিতুল্য মাইকেল জ্যাকসন। সেই থ্রিলারের ভূতের নাচ, অথবা বিলি জিনের সেই মুন ড্যান্স এখনো কি আমাদের মুগ্ধ করে না? বিলি জিন গানটার ভিডিও দেখে ঢাকায় তখন মাইকেল জ্যাকসনের স্টাইলের জুতা পাওয়া যেতো। সব মাইকেল ভক্তরা সাদা মোজা দিয়ে সেই জুতা পড়ে নিজেকে মাইকেল ভাবতে শুরু করত। অনেক বিতর্ক জন্ম দেয়া এই নায়ক কিন্তু ঠিকই গেয়েছিল কালো আর সাদা মানুষদের সাম্যর গান, পৃথিবীকে ভালবেসে গেয়েছিলেন ‘দ্য আর্থ সং’।

আমার বা আমাদের শৈশবের সেই নায়ক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল লস এ্যাঞ্জেলসে একটা হাসপাতালে। হাসপাতালের কোমায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কোমা থেকে আর জেগে না উঠে বিশ্বের তাবৎ ভক্তকুলকে কাঁদিয়ে মহান এই তারকা ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

‘ঐবধষ ঞযব ডড়ৎষফ

গধশব ওঃ অ ইবঃঃবৎ চষধপব

ঋড়ৎ ণড়ঁ অহফ ঋড়ৎ গব

অহফ ঞযব ঊহঃরৎব ঐঁসধহ জধপবৃ’

বির্তকিত এই শিল্পী সব বির্তক থেকে ছুটি নিয়ে ঘুমাক শান্তিতে। তবে পৃথিবীর পপ সঙ্গীতের ভক্তরা তাঁকে চিরকাল মনে রাখবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়।

প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৩/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: