মূলত রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৮.৯ °C
 
২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আমিই সেরা ॥ পিরলো

প্রকাশিত : ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • মোঃ মামুন রশীদ

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ইতালি ছাড়েননি। ২০ বছর কেটেছে ইতালির সেরা ক্লাবগুলোর জার্সিতে মাঠ দাপিয়ে। ইতালি জাতীয় দলের অপরিহার্য অংশ হিসেবে খেলেছেন গত ১৩ বছর। কিন্তু এবার পাড়ি জমিয়েছেন সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ৩৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলোর সময় হয়ত ঘনিয়ে এসেছে এবার বিদায় নেয়ার। অনেক আগে থেকেই এবং বর্তমান সময়েও তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম একজন ফ্রি-কিক বিশেষজ্ঞ। আর মাঝমাঠে ফুটবলের জাদুশিল্পী মূলত প্লে-মেকার। দলকে গোছানো একটি আক্রমণ রচনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার রূপকার। এজন্যই পিরলোকে বিবেচনা করা হয় মাঝমাঠের অন্যতম সেরা সম্পদ। কারণ তীক্ষè পর্যবেক্ষণ শক্তি, বল নিয়ন্ত্রণ ও পাস দেয়ার সামর্থ্য তাঁর বিষয়ে এমন বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে ফুটবল বিশ্লেষকদের। ব্রাজিল বিশ্বকাপেই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের গর্বিত সদস্য হলেও অবশ্য বাকি দুই আসরে একই সাফল্য জোটেনি। কিন্তু এসি মিলানের হয়ে দুটি লীগ শিরোপা, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা. দুটি উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং জুভেন্টাসের হয়ে চারটি লীগ শিরোপা ও দুটি সুপারকোপাসহ আরও অনেক ট্রফি জয়ের স্বাদ নিয়েছেন। এবারই প্রথম নিজ দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও খেলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকারে এ মৌসুমে তিনি জার্সি গায়ে চড়িয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি এফসির। নিজের ওপর সবসময়ই আত্মবিশ্বাসটা একটু বেশি। তাই নিজেই ছোটবেলায় দাবি করেছিলেনÑ ‘আমি অন্য যে কারও চেয়ে অনেক ভাল ফুটবলার।’ পিরলোর ছোটবেলা থেকে বিশ্বের জনপ্রিয় একজন ফুটবলারে পরিণত হওয়ার গল্পটা বেশ চমৎকার।

অনুশীলন ক্যাম্পটা সবসময়ই বিরক্তিকর মনে হয়েছে পিরলোর। তাঁর মনে হয়েছে এটা কোচদের নিজেকে জাহির করার একটা মাধ্যম মাত্র। বিভিন্ন কন্ডিশনে দলকে খেলানোর ক্ষেত্রে তাঁরা কতখানি বুদ্ধিমত্তা রাখেন সেটারই প্রমাণ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনুশীলন ক্যাম্পে গা-গরমের বিষয়টি আমার কাছে সবসময়ই বিরক্তিকর মনে হয়েছে। এটা কন্ডিশনিং কোচদের নিজেকে জাহির করার একটা উপলক্ষ ছাড়া কিছু মনে হয় না আমার। এ কারণে সবসময় মনে হয়েছে আমার অন্যকিছু করতে হবে হতাশা মুক্তির জন্য।’ ১৯৯২ সালে উত্তর ইতালির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ব্রেসিকার অনুর্ধ-১৫ দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবার্টা ক্লার্কি। ভলান্টান অনুর্ধ-১৫ দলটি সেবার বার্ষিক ডানা কাপে দলের নেতৃত্ব তিনি রেখেছিলেন পিরলোকে। মাত্র ৫ স্টোন ওজন এবং ১৩ বছর বয়সী হলেও অনুর্ধ-১৫ দলের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন নিজের দক্ষতার কারণে। নিজেই তখন সতীর্থদের বলতেন পরিণত একজন ফুটবলারের মতো, ‘আমরা এখানে জিততে এসেছি, এটা কোন স্কুলের ভ্রমণ নয়। সুতরাং সেভাবেই সবাই খেল।’ অবশ্য সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিল ভলান্টাস-১৫। ভলান্টাসের প্রতিটি অনুশীলন শেষে ক্লার্কি একটা পেনাল্টি টুর্নামেন্টের আয়োজন করতেন। সেখানে সবার শেষে শট নিতেন পিরলো। কারণ তিনিই শতভাগ সফল হতেন লক্ষ্যভেদে। এ বিষয়ে অনেক পরে এক সাক্ষাতকারে ক্লার্কি বলেন, ‘তিনি নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে খুব সজাগ ছিলেন। তাঁর পাস দেয়ার নিখুঁত ক্ষমতার জন্য মাঝে মাঝেই অনেক বেশি উল্লাস প্রকাশ করতেন। আমি তাঁর পাছায় লাথি দিতাম সেজন্য। কিন্তু সেটা অবশ্যই ভদ্রভাবে এবং তাঁকে আদর করে। সে কোন সময়ই তেমন ফাউল করতেন না। কারণ নিজে গোছানো ফুটবল খেলতে চাইতেন এবং অন্যকেও তাঁর নিজস্ব কৌশল প্রদর্শনের সুযোগ দিতেন। এমনকি আমার মনে হয় সবচেয়ে কঠিনসাধ্য কাজটাও করে দেখাতেন।’ (চলবে)

প্রকাশিত : ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০২/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: