রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
১৭ জানুয়ারী ২০১৭, ৪ মাঘ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বহুমাতৃকতার নাটক ‘কুহক জাল’

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

গৌতম পাণ্ডে ॥ পঞ্চশিলা গ্রামের এক নিষিদ্ধ গাছ থেকে ফল পাড়া দিয়ে নাটকের শুরু। সৃষ্টিকর্তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ গাছের ফল ভক্ষণ অপরাধ। এ কুসংস্কার উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ এ ফল পাড়ে গ্রামের নিম্নবিত্ত এক পরিবারের সন্তান ঘুরন। মা রাখালি বেগম তার একমাত্র ছেলের এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজকে মেনে নিতে পারছে না। নিম্নবিত্ত এ পরিবারটির দিন কাটে কোন রকম বাহুল্য ছাড়াই। ঘুরনের একঘেয়ে দিনগুলোয় একটু আনন্দ যোগ করে চান্দুরার সান্নিধ্য। বন্ধু অঘোরের সঙ্গে সে আনন্দ ভাগ করে বাঁচে ঘুরন। তবে অসচ্ছল ঘুরন জানে না নিয়তি তাকে নিয়ে যাবে নিষ্ঠুর কোন পরিণতির দিকে। যেমন সচ্ছল গেরস্ত আমোদ মাজনের বউ হতে বাধ্য হয় চান্দুরা। প্রেম হারিয়ে নিঃস্ব ঘুরন। এদিকে গণক মাতঙ্গী বুড়ির ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে চান্দুরা মা হবে কন্যাসন্তানের। সে খবর শুনে স্বামী তাকে পরিত্যাগ করে। কুহক জালের চরিত্ররা চলতে থাকে নিরুদ্দেশের পথ ধরে। এভাবেই এগিয়ে চলে কুহক জাল নাটকের কাহিনী। জীবন মানেই মায়াজালে আবর্তন, আর এই পরিক্রমার শুরু সম্ভবত সৃষ্টিকর্তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের শাস্তিস্বরূপ স্বর্গরাজ্যচ্যুত হয়ে ঈর্ষা, লোভ, প্রতারণা, অসম (সামাজিক ও ধর্মীয়) প্রেমের পরিণতি, বাস্তববাদিতা, অবক্ষয়, ধর্মীয় ভ-ামি এবং এমন বহুমাত্রিক অনিষ্টকর ফাঁদপাতা এই বিশ্বে অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকেই। এমন বিষয় ও ঘটনা সমন্বয়ে যে নাটক রচিত, তার মাত্রা যে যথেষ্ট বিস্তৃত হবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, ঠিক যেমনটা হয়েছে মাসুম রেজা রচিত এবং ত্রপা মজুমদার নির্দেশিত থিয়েটারের ৪৫তম প্রযোজনা কুহক জাল-এ। শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে রবিবার সন্ধ্যায় নাটকটির মঞ্চায়ন হয়। বিশাল এক ক্যানভাসে মোহ বা কুহকের মাত্রাকে ছুঁতে চেয়েছেন নাট্যকার। প্রেমে ব্যর্থতা থেকে শুরু করে প্রতারণা, ধর্ম ও রাজনীতির ভ-ামি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর (আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু!) অবস্থান, চিরায়ত ধনী-দরিদ্রের টানাপোড়নে এবং সম্ভবত আরও কিছু গুপ্ত সমস্যা, যেমন পরিবেশ, যার সমাধান এই মুহূর্তেও মানব জ্ঞানের অতীত। নাটকটিতে নির্দেশক ৩১টি চরিত্রকে নিজ নিজ চারিত্রিক অবস্থানে স্থাপন করার চেষ্টা করেছেন, এটা একদিক দিয়ে তাঁর সফলতা বলা যায়। ফেরদৌসী মজুমদার ও রামেন্দু মজুমদারের চরিত্র চিত্রণ ব্যতিরেকে সম্ভাবনাময় অভিনয়ের দাবিদার অবশ্যই অনেকে রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অধিকতর ঔজ্জ্বল্য লক্ষ্য করা গেছে তোফা হোসেন, রাশেদ শাওন, তানভীর আহমেদ, তানজুম আরা পল্লী, সামিয়া মহসীন ও কাওসার রাজীবের মধ্যে। নাটকটিতে নাট্যকার দর্শকদের জন্য কিছুটা হলেও কাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফানের ব্যবস্থাও করেছেন। মঞ্চ পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, আলোক পরিকল্পনা ও প্রক্ষাপণ, কোরিওগ্রাফি, আবহ সঙ্গীত ও সঙ্গীত অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য। এ নাটকে পাদ্রী ফাদার টমাস চরিত্রে অভিনয় করছেন রামেন্দু মজুমদার। ঘুরনের মা রাখালি বেগম চরিত্রে অভিনয় করছেন ফেরদৌসী মজুমদার। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑ পরেশ আচার্য, তোফা হোসেন, তানভীর আহমেদ, আবদুল কুদ্দুস, তানজুম আরা পল্লী, গুলসান আরা মুন্নি, কাওসার রাজীব, কল্যাণ চৌধুরী, নাজমুন নাহার, সাইফ জোয়ারদার, রুনা লাইলা, তানভীর হোসেন সামদানি, শেকানুল ইসলাম, রাশেদ শাওন, মাসুক প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০১/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: