মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

উদ্ধার হওয়াদের ফিরিয়ে আনতে আইওএমের সহায়তা নেবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট ২০১৫, ১২:৪০ এ. এম.
  • লিবিয়ায় নৌকাডুবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লিবিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধারকৃত বাংলাদেশীদের মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তা নেবে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ২০ বাংলাদেশী দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিউনিসিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এই কর্মকর্তা জানান, যেসব বাংলাদেশীর বৈধতা রয়েছে, তারা লিবিয়াতেই অবস্থান করতে পারবেন। তবে যাদের বৈধতা নেই, তাদের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আশরাফুল ইসলাম জানান, জীবিত উদ্ধার বাংলাদেশীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভাল নেই। তাদের চিকিৎসা চলছে। বাংলাদেশ দূতাবাস এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার লিবিয়া উপকূলে ৪শ’ থেকে ৫শ’ অভিবাসন প্রত্যাশী নাগরিক বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যায়। লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে জুরুয়া উপকূলে এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন। অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে ৭৮ বাংলাদেশী ছিলেন বলে জানিয়েছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস। এদের মধ্যে ৫৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২৪ জন। এরা সবাই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধার মরদেহগুলোর মধ্যে কোন বাংলাদেশী রয়েছে কি-না জানা যায়নি। কেননা বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষকে এখনও মরদেহ দেখানো হয়নি। লিবিয়ার প্রথা অনুযায়ী মরদেহ দেখানোর নিয়ম নেই।

নৌকাডুবিতে নিখোঁজ বাংলাদেশীদের পরিচয় জানা গেছে। এদের মধ্যে শুক্রবার প্রথমে ছয়জনের পরিচয় জানায় লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। এরা হলেন রমজান আলী (৫৮), সানোয়ারা খাতুন (৪২), ইউসুফ (৭), রিমা আবদুল আজিম (২), রাইসা আবদুল আজিম (৮ মাস), আবুল বাশার (৪৭)। পরে আরও ১৮ বাংলাদেশী শ্রমিকের পরিচয় জানায় দূতাবাস। তারা হলেন, শরীয়তপুরের আজাদ, সুপন ও স্বপন, কেরানীগঞ্জের গাজীউল, যশোর মনিরামপুরের জিয়াউর রহমান, নোয়াখালীর রুবেল, শাহাবুদ্দিন, সোহেল ও সালাউদ্দিন, কুমিল্লার ইসলাম ও ফারুক, চট্টগ্রামের করিম, সাতক্ষীরার জাকির, নারায়ণগঞ্জের মাহমুদ, মাদারীপুরের ফয়েজ, টাঙ্গাইলের বাদল ও বাবুল এবং রাজবাড়ীর মফিজ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে লিবিয়া উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডুবে যাওয়া নৌকা দুটির আরোহীদের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, পাকিস্তান, সিরিয়া, মরক্কো এবং বাংলাদেশের নাগরিকও ছিলেন। দেশান্তরী প্রায় পাঁচ শ’ মানুষকে নিয়ে ইতালি হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় লিবিয়ার উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে নৌকা দুটো ডুবে যায়।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস জরুরী সেবা চালু করেছে। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তার মোবাইল নাম্বার-০০২১-৮৯১৬৯৯৪২০২।

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট ২০১৫, ১২:৪০ এ. এম.

৩১/০৮/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: