আংশিক রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৫ °C
 
২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৮ ফাল্গুন ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭, ৮৬ ধারা বাতিলের রিট খারিজ

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট ২০১৫
  • অপর রিটের শুনানি চলছে রুবেল হত্যা মামলায় এসি আকরামকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের আলোচিত ৫৭ ও ৮৬ ধারা বাতিল চেয়ে এক আইনজীবীর করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। একটি রিট দায়ের হয়েছে আরেকটিতে শুনানি চলছে। অন্যদিকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রুবেল হত্যা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) মোঃ আকরাম হোসেনকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আপীল বিভাগ। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল থাকায় সরকারী মেডিক্যালে চান্স না পাওয়া এক শিক্ষার্থীকে পুনরায় ভর্তি করানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর বেসরকারী মেডিক্যালে পড়তে, যা খরচ হয়েছে তা পরিশোধেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রবিবার আপীল বিভাগ ও হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এ আদেশগুলো প্রদান করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের আলোচিত ৫৭ ও ৮৬ ধারা বাতিল চেয়ে এক আইনজীবীর করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি কাজী রেজা উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোঃ সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এদিকে ৫৭ ধারার বৈধতা নিয়ে এক ব্যক্তির করা আরেকটি রিট আবেদনের ওপর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়েছে। সোমবার আবারও আদালত বিষয়টি শুনবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ওই দুটি ধারা বাতিলে গত ২৬ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং তথ্য সচিবকে উকিল নোটিস পাঠান আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। তাতে সাড়া না পেয়ে পরদিন তিনি এই রিট আবেদন করেন। রবিবার আদালতে ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

অন্যদিকে ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বুধবার অপর রিট আবেদনটি করেন রাজধানীর পল্লবীর এক ব্যক্তি। পরদিন আবেদনটি বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের বেঞ্চে নিয়ে যায় আবেদনকারীপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার বিষয়টি শুনানির জন্য আসে। ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার বলেন, ‘এ্যার্টনি জেনারেল রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করবেন বলে সময় চাওয়া হয়। আদালত সোমবার সোয়া ২টায় শুনানির সময় রেখেছেন। আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় প্রশাসনকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যা সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ এবং ৩৯ ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে শুনানিতে বলা হয়।’

অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল চেয়ে আরও একটি রিট দায়ের করেছেন ১১ শিক্ষক-লেখক। রবিবার দুপুরের পর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তাদের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া রিট আবেদন করেন। রিট দায়েরের পর ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে ২৭ আগস্ট সকালে ৫৭ ধারা বিলুপ্তিতে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে সরকারকে আইনী নোটিস পাঠিয়ে ছিলেন ১১ জন শিক্ষক ও লেখক।

নিম্ন আদালতে হাজিরের নির্দেশ ॥ গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রুবেল হত্যা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) মোঃ আকরাম হোসেনকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপীল মঞ্জুর করে রবিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপীল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজউদ্দিন ফকির।

আকরামের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে সাত দিনের মধ্যে তাকে (আকরাম) বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে আপীল বিভাগ। এ মামলায় বিচারিক আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপীল মঞ্জুর করে ২০১১ সালের ৫ মে এসি আকরামসহ ১৩ আসামিকে খালাস দেয় হাইকোর্ট। তবে অন্য এক আসামি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ বহাল রেখেছিলেন হাইকোর্ট।

মোমতাজউদ্দিন ফকির সাংবাদিকদের বলেন, ‘রুবেল হত্যা মামলায় হাইকোর্ট আকরামসহ ১৩ জনকে খালাস দিয়েছিল। এর মধ্যে আকরামের ক্ষেত্রে লিভ টু আপীল করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন আপীলের ওপর শুনানি হবে।’ ২০১১ সালের ১১ মে হাইকোর্টের ওই রায়ে আকরামসহ যে ১৩ জনকে খালাস দেয়া হয়, তাদের মধ্যে ১২ জনকে বিচারিক আদালত যাবজ্জীবন ও একজনকে এক বছরের কারাদ- দিয়েছিল।

তার সঙ্গে খালাস পাওয়া অন্যরা হলেন- পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম, এসআই আমীর আহমেদ তারেক, নুুরুল আলম, এএসআই আবদুল করিম, হাবিলদার নুরুজ্জামান, কনস্টেবল রাতুল পারভেজ, মীর ফারুক, মংশেওয়েন, আবুল কালাম আজাদ, কামরুল হাসান, জাকির হোসেন ও মুকুলি বেগম। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মিরপুর বেনারসি পল্লীর কাছে নিজের চারতলা বাড়ি ‘হোসাইন ভিলা’য় থাকেন আকরাম।

মেডিক্যালে ভর্তি করার নির্দেশ ॥ ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল থাকায় ইফরিত বিনতে ইউনুছ নামে এক শিক্ষার্থীর প্রাইভেট মেডিক্যালের ভর্তির প্রয়োজনীয় খরচ এবং সরকারী মেডিক্যালে ওই ছাত্রীকে ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আনা এক আবেদনের নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপীল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে ছিলেন তার বাবা সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ।

ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থী ইফরিত বিনতে ইউনুছ প্রাইভেট মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ জন্য তার যে পরিমাণ খরচ হয়েছিল তা তৎকালীন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং পরিচালকের (হেলথ এ্যান্ড মেডিক্যাল এডুকেশন) ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দিতে হবে। ইফরিত বিনতে ইউনুছকে সরকারী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করাতেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, প্রশ্নপত্রে ভুল থাকায় আমার মেয়ে ইফরিত বিনতে ইউনুছ পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। পরে বেসরকারী ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ১৪ লাখ টাকারও বেশি। তিনি জানান, ২০১২-২০১৩ সেশনে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৩৮টি ভুল ছিল। ভুল প্রশ্নের বৈধতা নিয়ে ওই সময় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। প্রশ্নপত্রে ভুল না হলে ইফরিত বিনতে ইউনুছ পরীক্ষায় পাস করত। গত ৫ মার্চ প্রশ্নপত্রে ৭টি ভুল চিহ্নিত করে হাইকোর্ট আমার মেয়েকে একটি সরকারী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো এবং বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে আমার মেয়েকে ভর্তিতে যে টাকা খরচ হয়েছে তা দিতে নির্দেশ দিয়ে রায় দেয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। রবিবার আপীল বিভাগ হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে।

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট ২০১৫

৩১/০৮/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: