আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ৯ ফাল্গুন ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রতিবন্ধী শিক্ষার পথিকৃৎ ড. নিরাফত আনাম

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০১৫
  • মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান

এদেশের প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের শিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ ড. নিরাফত আনাম। শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের বাংলা ভাষা স্ক্রিনিং টুলস এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য তাঁর তৈরিকৃত ইশারা ভাষা তথা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ প্রতিবন্ধী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে ড. নিরাফত আনামের অবদান স্মরণীয়। তিনি ছিলেন প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উন্নয়নের অন্যতম গবেষক।

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে ড. আনাম যেভাবে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছুটে বেড়িয়েছেন এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তা সত্যই বিরল। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাছাড়া যুক্ত ছিলেন হাইকেয়ার নামক শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তিনি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিখন, শিক্ষণ পদ্ধতি, একীভূত শিক্ষাক্রম উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে প্রচুর গবেষণামূলক কাজ করেছেন। অধিকাংশ গবেষণা করেছেন সেন্টার ফর সার্ভিসেস এন্ড ইনফরমেশন অন ডিসএ্যাবিলিটি (সিএসআইডি) নামক প্রতিষ্ঠানের অধীনে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী পথশিশু, নারী ও প্রতিবন্ধিত্ব, উপকূলীয় এলাকার প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা। এছাড়াও তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের ভাষা বিকাশ, বাংলাদেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তকরণ, একীভূত শিক্ষা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গবেষণা করেছেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ও একদল শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে এবং পরবর্তীতে সেন্টার ফর ডিসএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) নামক একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সাইন সাপোর্টেড বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারায় বাংলা ভাষার উন্নয়ন করেন। প্রতিবন্ধিত্ব ও উন্নয়ন বিষয়ে এটা ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন, যার জন্য বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী তাকে চিরকাল স্মরণ করবে। স্বীকৃত দেশী ও বিদেশী জার্নালে তার অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একাধিক গবেষণাধর্মী বইয়েরও রচয়িতা।

ড. আনাম জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের ইক্লুসিভ এডুকেশন ইনেসিয়েটিভ গ্রুপের আহ্বায়ক ছিলেন। এছাড়াও সেন্টার ফর ডিসএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)’র ভাইস চেয়ারম্যান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক, বাংলাদেশে ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশন এবং জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রের গেস্ট লেকচারার ছিলেন। দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও তিনি ছিলেন উজ্জ্বল। সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল সেন্টার ফর ডিসএ্যাবিলিটি, কমিউনিকেশন থেরাপি ইন্টারন্যাশনাল এবং ব্রিটিশ এ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য টিচার অব দ্য ডেফ-এর সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংগঠনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৫৭ সালের ১৪ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন ড. আনাম। ২০০১ সালের ২৭ আগস্ট মাত্র ৪৪ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। তাঁর অকাল প্রস্থানে বিশেষ শিক্ষা বিভাগসহ বাংলাদেশের প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল। কেননা তার মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যস্থান যে পূরণ হবার নয়। তাই তার স্মরণে বিশেষ শিক্ষা বিভাগ স্থাপন করেছে ড. নিরাফত আনাম মেমোরিয়াল লাইব্রেরি। যাতে স্থান পেয়েছে ড. আনামের নিজ হাতে সংগ্রহকৃত শিক্ষা, গবেষণা, প্রতিবন্ধিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক অমূল্য সব পুস্তক ও দলিল।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বিশেষ শিক্ষা বিভাগ, আইইআর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০১৫

৩০/০৮/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: