কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুই সন্তানের জননীকে হত্যার অভিযোগে শ্বশুর আটক

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫, ০৪:২৯ পি. এম.

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও॥ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে যৌতুকের জন্য শেওলা আক্তার (২৬) নামে দুই সন্তানের জননীকে আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার (৩০) নামে এক পাষন্ড স্বামী ও স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে পিটিয়ে ও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

এ অভিযোগে ও ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) কে আটক করেছে থানা পুলিশ। তবে পাষন্ড স্বামীসহ অন্যান্য আসামীরা পলাতক রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোর রাত্রে উপজেলার রহমতপুর ছোট বটতলী গ্রামে স্বামী আনোয়ার হোসেন ওরফে আনারের বাড়িতে। এ বিষয়ে শেওলা আক্তারের মা রহিমা বেগম বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন ওরফে আনারকে ১ নম্বর আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

শেওলা আক্তারের মা রহিমা বেগম জানান, হরিপুর উপজেলা রহমতপুর ছোট বটতলী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে আনারের সাথে ৬ বছর আগে আমার কন্যা শেওলা আক্তারের পরিবারের সম্মতিক্রমে বিয়ে হয়। বিয়েতে মেয়ে সূখের জন্য এক লক্ষাধিক টাকা যৌতুক বাবদ জামাইয়ের হাতে তুলে দিই। কিছু দিন ধরে আরো যৌতুকের আরও টাকা নেওয়ার জন্য জামাই আনারসহ পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে শারিরীক ও মানষিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। মেয়ের নির্যাতনের বিষয়টি আমি জানতে পেরে তাদের সূখের জন্য কিছুদিন পূর্বে আনারকে আরো টাকা দিই। টাকা পাওয়ার পর কয়েকদিন শারিরীকভাবে নির্যাতন বন্ধ থাকলেও মানষিক নির্যাতন চলতে থাকে। কিছুদিন যেতে না যেতেই আনারসহ তার পরিবারের লোকজন আরো যৌতুক নেওয়ার জন্য আমার মেয়ে শেওলা আক্তারকে মানষিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত্রে আনোয়ার হোসেন তার পরিবারের ইন্ধনে আমার মেয়ে শেওলা আক্তারকে শাররিীকভাবে নির্যাতন করে পূনরায় যৌতুক নিয়ে আসতে বলে। এতে শেওলা আক্তার অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ভাগ্যে নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। শেওলা আক্তারকে অমানবিক শারিরীক নির্যাতন করলে এক পর্যায় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এতে আনোয়ারসহ তাঁর পরিবারের লোকজন শেওলা আক্তারের জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। কোন অবস্থায় শেওলা আক্তারের জ্ঞান না ফিরলে মারা গেছে ভেবে আনোয়ার হোসেন ওরফে আনারসহ তার পরিবারের লোকজন শেওলা আক্তারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়।

শনিবার সকালে থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

হরিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আক্তারুজ্জান প্রধান ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শেওলা আক্তারের মা রহিমা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তিনি আরো বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করা জন্য ঠাকুরগাঁও মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট এলেই বুঝা যাবে এটি হত্যা না আতœহত্যা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই নির্মল দেব শর্ম্মা বলেন, শেওলা আক্তারের গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রচুর ক্ষরণ হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আনারের বাবা জাহাঙ্গীর আলমকে তৎক্ষনাত আটক করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫, ০৪:২৯ পি. এম.

০৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: