মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

তারুণ্যের পছন্দ ৪এ মোবাইল রেজা নওফল হায়দার

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনের সর্বাধুনিক সংস্করণ ফোরজি (4G-Fourth Generation)। এটি সম্পূনরূপে ইন্টারনেট প্রটোকলভিত্তিক একটি টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম যা গ্রাহককে Ultra-broadband mobile internet access প্রদান করে থাকে। ফোরজি প্রযুক্তি হচ্ছে থ্রিজি মোবাইলের আধুনিকতর সংস্করণ। এই প্রযুক্তি এখনও গ্রাহক পর্যায়ে সহজলভ্য হয়ে উঠেনি। ফোরজি মোবাইলের পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণন শুরু হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফোরজি মোবাইলের বৈশিষ্ট্যসমূহ

২০০৮ সালের মার্চ মাসে International Telecommunications Union Radio communication sector (ITU-R), ফোরজি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বাধ্যতামূলক হিসেবে নির্ধারণ করে দেয় যা International Mobile Telecommunications Advanced (IMT-Advanced) specification নামে পরিচিত। ফোরজি মোবাইলের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যগুলো। ডাটা ট্রান্সফারের গতি ঐHigh mobility station (যেমন, ট্রেন, বাস ইত্যাদি) এবং খড়ি সড়নরষরঃু ংঃধঃরড়হ (যেমন, পথচারী, রহফড়ড়ৎ ইত্যাদি) এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ন্যূনতম ১০০ মেগাবাইট/সেকেন্ড এবং ১ গিগাবাইট/সেকেন্ড হতে হবে। এই প্রযুক্তির ডাটা ট্রান্সফার পুরোপুরি ইন্টারনেট প্রটোকল প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্কভিত্তিক হতে হবে। একই স্পেক্ট্রাম থেকে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দিতে হবে। পরিমাপযোগ্য ঈষধহহবষ ইধহফ রিফঃয ন্যূনতম ৫-২০ মেগাহার্জ এবং ক্ষেত্রবিশেষ ৪০ মেগাহার্জ পর্যন্ত হবে।

উড়হিষরহশ-এর ক্ষেত্রে ষরহশ ংঢ়বপঃৎধষ ঊভভরপরবহপু ১৫নরঃ/ং/ঐু এবং টঢ়ষরহশ-এর ক্ষেত্রে ৬.৭৫ নরঃ/ং/ঐু হতে হবে। এসব বৈশিষ্ট্যই শুধু খঞঊ অফাধহপবফ (ঝঃধহফধৎফরুবফ নু ৩এচচ) এবং ৮০২.১৬স (ংঃধহফধৎফরুবফ নু ঃযব ওঊঊঊ) এই দুটি প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করবে।

বর্তমানে যেসব স্ট্যান্ডার্ড কাজ করছে

বর্তমানে দুটি ফোরজি স্ট্যান্ডার্ড বাণিজ্যিকভাবে ফোরজি মোবাইলের সঙ্গে যুক্ত আছে। এর মধ্যে গড়নরষব ডরসধী ২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বপ্রথম এবং খড়হম ঞবৎস ঊাড়ষঁঃরড়হ (খঞঊ) স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে ২০০৯ সাল থেকে অপারেশন শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঝঢ়ৎরহঃ ঘবীঃবষ ২০০৮ সালে গড়নরষব ডরসধী চালু করে এবং গবঃৎড় চঈঝ ২০১০ সালে খঞঊ সার্ভিস শুরু করে। শুরু থেকেই ফোরজি প্রযুক্তির টঝই ডরৎবষবংং গড়ফবস প্রচলিত ছিল তবে ২০১০ সালে সর্বপ্রথম ওয়াইম্যাক্স স্মার্টফোন এবং ২০১১ সালে খঞঊ স্মার্টফোন বাজারে আসে। এখন পর্যন্ত ফোরজি মোবাইল গুগলের এ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল।

ফোরজি মোবাইল ব্যবহারের সুবিধা

ফোরজি মোবাইলে রয়েছে সর্বোচ্চ গতির ডাটা ট্রান্সফারের সুবিধা। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহক সর্বদাই মোবাইল অনলাইন ব্রডব্যান্ডের আওতায় থাকতে সমর্থ হবেন। এতে হাই ডেফিনেশন টেলিভিশন এবং ভিডিও কনফারেন্সের সুবিধা পাওয়া যাবে। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহকের কথোপকথন ও ডাটা ট্রান্সফারের নিরাপত্তা অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। ফোরজি মোবাইল গ্রাহককে ভয়েস মেসেজ, ফ্যাক্স, মাল্টিমিডিয়া মেসেজ, অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং ইত্যাদির সুবিধাও প্রদান করবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ফোরজি প্রযুক্তি

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা সর্বপ্রথম ফোরজি প্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের সফলতার ঘোষণা দেয়। শ্রীলঙ্কার ঞবষবপড়স গড়নরঃবষ এবং উরধষড়ম অীরধঃধ যথাক্রমে ৬ মে ও ৭ মে ২০১১ তারিখে এই ঘোষণা প্রদান করে। এছাড়া ভারত আশা করছে ২০১২-এর ৩১ ডিসেম্বরের মাঝে তারা ফোরজি প্রযুক্তিতে প্রবেশ করতে সমর্থ হবে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ এখনও টুজি যুগেই রয়েছে। সরকারী সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আমাদের দেশে এখনও থ্রিজি প্রযুক্তিই চালু করা সম্ভব হয়নি। সেক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফোরজি মোবাইল চালু করা প্রায় দুরূহ একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া ওয়াইম্যাক্স নিয়ে যে বাড়তি আগ্রহ প্রযুক্তিক্ষেত্রে শুরু হয়েছে, সেটা আমাদের সবার জানা। ওয়াইম্যাক্স (ডরসধী-ডড়ৎষফরিফব ওহঃবৎড়ঢ়ধৎধনরষরঃু ভড়ৎ গরপৎড়ধিাব অপপবংং) হচ্ছে বৃহত্তর ভৌগলিক এলাকাজুড়ে তারবিহীন উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানকারী একটি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি মূলত ওঊঊঊ ৮০২.১৬ স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। ওয়াইম্যাক্স বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধুনিক এবং সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট প্রটোকল সার্ভিস। এই প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ ১ গিগাবাইট/সেকেন্ড গতিতে ডাটা ট্রান্সফার করা সম্ভব। গতানুগতিক কেবল মডেম এবং ডিএসএল পদ্ধতির চেয়ে এর ডাটা ট্রান্সফারের গতি এবং এলাকা অনেক বেশি। সাধারণ ওয়াইফাই (রিভর) বা ল্যান (খঅঘ) যেখানে ৩০ মিটার থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত ইন্টারনেট কানেকটিভিটি প্রদান করে সেখানে ওয়াইম্যাক্স ৫০ কিলোমিটার বা ৩০ মাইলজুড়ে মেট্রোপলিটান ওয়্যারলেস এরিয়া নেটওয়ার্কের সুবিধা দেয়। ওয়াইম্যাক্সের সাহায্যে ইন্টারনেট প্রটোকল ভিত্তিক টেলিফোন এবং টেলিভিশন সুবিধা ভোগ করা যায় (যদিও ইন্টারনেট প্রটোকলের সাহায্যে টেলিফোন সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কিছু বিধি-নিষেধ বিদ্যমান থাকায় এই সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করা সম্ভব হচ্ছে না)। ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কোন ধরনের মোবাইল ডিভাইসের সাহায্যে আন্তঃনগর এবং আন্তঃরাাষ্ট্রীয় যোগাযোগ সম্ভব। ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে ভয়াবহ সুনামীর পর দুর্গত এলাকায় সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শুধুমাত্র ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখান থেকে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয় এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ সম্ভব হয়। ওয়াইম্যাক্সের জন্য সার্বজনীন কোন একক স্পেক্ট্রাম নেই। তবে ‘ওয়াইম্যাক্স ফোরাম (ডরসধী ঋড়ৎঁস)’ ৩টি লাইসেন্সড স্পেক্ট্রাম প্রোফাইল প্রকাশ করেছে। এগুলো হচ্ছেÑ ২.৩ গিগাহার্জ, ২.৫ গিগাহার্জ এবং ৩.৫ গিগাহার্জ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঝঢ়ৎরহঃ ঘবীঃবষ এবং ঈষবধৎরিৎব ২.৫ গিগাহার্জের স্পেক্ট্রাম ব্যবহার করে। এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সাধারণত ২.৩ গিগাহার্জ থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষ ৩.৩ গিগাহার্জ পর্যন্ত স্পেক্ট্রাম ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তানের ডধঃববহ ঞবষবপড়স ৩.৫ গিগাহার্জের স্পেক্ট্রাম ব্যবহার করে থাকে। ওয়াইম্যাক্স প্রবেশদ্বার বা এধঃবধিু ইনডোর এবং আউটডোর দুই ধরনের হতে পারে। ইনডোর ডিভাইসগুলো সাধারণত ক্ষুদ্রাকৃতির হয়ে থাকে এবং ব্যবহারকারীর বসার স্থানের কাছাকাছি জানালার পাশে স্থাপন করা হয়। অন্যদিকে আউটডোর ডিভাইসগুলো ল্যাপটপ আকৃতির হয়ে থাকে এবং স্যাটেলাইট ডিস এন্টেনার মতো করে এদের স্থাপন করা হয়। যেসব কোম্পানি ওয়াইম্যাক্স এধঃবধিু ডিভাইসগুলো তৈরি করে থাকে সেগুলোর মধ্যে অষাধৎরড়হ, অরৎংঢ়ধহ, তুঢঊখ, ঐঁধবির, গড়ঃড়ৎড়ষধ এবং এৎববহ চধপশবঃ উল্লেখযোগ্য। এক্সটারনাল মডেমের মাধ্যমেও ওয়াইম্যাক্স কানেক্টিভিটি পাওয়া যায়। এই মডেমকে সাধারণত উড়হমষব বলা হয়। মূলত নোটবুক বা ট্যাবলেট পিসিতে এই মডেম ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইধহমষধষরড়হ ঈড়সসঁহরপধঃরড়হ খঃফ, ইৎধপ ইউ গধরষ ঘবঃড়িৎশ এবং অঁমঁৎব ডরৎবষবংং ইৎড়ধফনধহফ ইধহমষধফবংয খঃফ ২০০৮ সালের ১৮ নবেম্বর তারিখে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (ইঞজঈ) কর্তৃক ইৎড়ধফনধহফ ডরৎবষবংং অপপবংং (ইডঅ) সেবা দেয়ার জন্য ডরসধী ঞবপযহড়ষড়মু ব্যবহারের লাইসেন্স লাভ করে। ওপেন বিড প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বাংলালায়ন ২.৫ গিগাহার্জ ব্র্যান্ড কিনে নেয়। পরবর্তীতে অঁমঁৎব ডরৎবষবংং, ছঁনবব ব্র্যান্ড নামে ডরসধী সার্ভিস চালু করে। ফোরজি আমাদের জন্য একটি প্রযুক্তির নব আবিষ্কার কিন্তু সেটা বুঝার মতো ভাবনা ও জ্ঞান থাকাটাও জরুরী।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

০৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: