আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আম চিঠি

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

চিঠি। দুই অক্ষরের এই ছোট্ট শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো শব্দমালা। চিঠি হলো সাদা কাগজের ক্যানভাসে শব্দের কথামালায় আঁকা মনের আকুতি। অনেক আবেদনময়ী শব্দের ভা-ারও বলা যায়। যা বার বার পড়েও সাধ মেটে না। সুযোগ পেলেই চিঠি খুলে পড়ার মজাই আলাদা। আর সে চিঠি যদি হয় প্রেমিকার তাহলে তো স্বাদই আলাদা। যত গোপনে যতবার পড়ার সুযোগ মেলে ততই শিহরণ জাগায় মনে।

চিঠি নিয়ে হাজারো কাহিনী, হাজারো স্মৃতি, গান কিংবা কবিতা রয়েছে। কালের পরিক্রমায় চিঠি এখন বিলুপ্ত। আর চিঠি লেখে না কেউ। চিঠির সেই ভাষার আবেদনমাখা ভালবাসার ইঙ্গিতও নেই। মোবাইলের ক্ষুদে বার্তার কাছে পরাস্ত হয়েছে চিঠির আবেদন। তবে কাগজে হাতে লেখা চিঠির আবেদন এখন কমেনি। কমেনি এর কদর। যদিও প্রযুক্তির সভ্যতার কাছে কাগজের পরতে পরতে হাতের লেখা চিঠি আর নেই বললেই চলে।

সাদা কিংবা রঙিন কাগজে হাতে লেখা চিঠির দিনও প্রায় শেষ। এখন চলছে ইন্টারনেট, ই-মেইল, মোবাইল, ফেসবুক, টুইটারে ক্ষুদে বার্তার যুগ। এভাবে চলতে থাকলে হাতে চিঠি লেখার দিন শেষ হতে আর সময় লাগবে না। তবে নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষণবাড়িয়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক জাকির হোসেন চিঠি লেখার এই রীতি ধরে রাখার জন্য অভিনব উপায় বের করেছেন। তিনি প্রতিবছর আমের মৌসুমে মানুষকে চিঠি লিখে শুভেচ্ছা জানান। তবে কোন কাগজে নয়, তিনি চিঠি লেখেন আমের গায়ে। লিখে আমটিই পাঠিয়ে দেন প্রাপকের কাছে। তার ভাষায় এটি ‘ফলের শুভেচ্ছা’। তিনি তার সব চিঠির প্রাপককেই লেখেন ‘চিঠিটা পড়া হলে আম কেটে খাবেন’।

চিঠি প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় শৌখিন অথচ অভিনব চিঠির লেখক জাকির হোসেন জানালেন নানা কথা। ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতিবছর এভাবে আমের গায়ে মনের কথা লিখে বিলিয়ে দেন প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব এবং সমাজের প্রতিষ্ঠিত নামী দামী মানুষের কাছে। প্রতিবছর গাছে আম বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তার চিঠি লেখার পালা। কখনও নিজ হাতে আবার কখনও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন আমের গায়ে লেখা চিঠি। কখনও কখনও আমে বাহারী রং লাগিয়েও দেন।

জাকির হোসেনের খোঁজ নিতেই কয়েকটি আমের গায়ে লেখা চিঠি নিয়ে বৃহস্পতিবার হাজির হলেন সুন্দর সাবলীল ভাষায় আমের গায়েই লিখেন নানা কথা, মনের ভাষা। এলাকায় কোন বিশিষ্ট মানুষ কোন বিশেষ অনুষ্ঠানে এলে তিনি সেখানে তার আমের চিঠি নিয়ে হাজির হন। উপহার হিসেবে দেন। এটা তার শখ বলে জানান জাকির হোসেন।

জাকির হোসেন জানান, গত ১৬ বছর ধরে তিনি আমের গায়ে চিঠি লিখছেন। তিনি জানালেন এ পর্যন্ত অনেক মানুষকে আম চিঠি তিনি দিয়েছেন। জাকির হোসেনের শখ ‘আমচিঠি’ তিনি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দিতে চান। প্রতিবছর উদ্যোগ নেন। কিন্তু পাঠানো হয় না। তিনি বলেন, আমের গায়ে চিঠি লিখে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানায় কুরিয়ার সার্ভিসে দিতে গেলে তা কুরিয়ার সার্ভিস গ্রহণ করে না। বেশ কয়েকবার আমচিঠি লিখে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানায় পাঠানোর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত কুরিয়ার সার্ভিস থেকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।

Ñমামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

০৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: