কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাড়িভাড়া নির্ধারণে কমিশন

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

রাজধানী ঢাকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৩ ভাগ নাগরিকই অন্যের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। সহজ কথায় যাদের বলা হয় ভাড়াটে। ভাড়াটেদের আবাসন সমস্যাটিকে পুঁজি করে একশ্রেণীর বাড়িওয়ালা অত্যন্ত অমানবিক উপায়ে নিরুপায় ভাড়াটেকে জিম্মি করে রাখে। বছর ঘুরলেই হাতে ধরিয়ে দেয় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির নোটিস। বাড়তি ভাড়া দিতে না চাইলে বলা হয় বাড়ি ছেড়ে দিতে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে দুই লাখ ৩৩ হাজার হোল্ডিং অর্থাৎ বাড়ি আছে। হোল্ডিং নম্বরের বাইরেও রয়েছে লক্ষাধিক বাড়ি। প্রায় সর্বত্রই চলছে ফ্রি স্টাইলে ভাড়া আদায়। ভাড়ার হার নির্ধারণে কোন বাস্তবানুগ নিয়ম চালু হয়নি। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সমগ্র ঢাকা শহরকে ১০টি রাজস্ব অঞ্চলে ভাগ করে আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় ডিসিসি। কিন্তু ডিসিসি নির্ধারিত ভাড়া নেয়ার তেমন দৃষ্টান্ত নেই।

পরিসংখ্যান ব্যুরো ও জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকায় প্রতিদিন এক হাজার ৪১৮ জন করে মানুষ বাড়ছে। এতে ঢাকার জনসংখ্যায় প্রতিবছর যোগ হচ্ছে পাঁচ লাখ মানুষ। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক নতুন ভবনের নক্সা অনুমোদন দেয়। তারপরও ঢাকাবাসীর আবাসন সঙ্কট দূর হচ্ছে না। চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য না থাকায় প্রতিবছরই ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছেন অনেক বাড়িওয়ালা। গত ১৫ বছরে ঢাকা শহরে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় দু’শ’ থেকে তিন শ’ গুণ পর্যন্ত। ফলে নগরীতে বসবাসকারী শতকরা ৭০ ভাগ মানুষের আয়ের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে বাড়িভাড়া বাবদ।

আমাদের দেশে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি জারি করা হয় ১৯৬৩ সালে। এর অধীনে ১৯৬৪ সালে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। ১৯৮৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিধিটি বলবত ছিল। ১৯৮৬ সালে নতুন করে আবার বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তিন বছরমেয়াদী এই অধ্যাদেশটির মেয়াদ ১৯৮৯ সালে শেষ হয়ে যায়। পরে ১৯৯১ সালে সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত ক্ষমতাবলে তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বর্তমানে প্রচলিত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ জারি করেন। বাস্তবতা হলো এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। ফলে ভাড়াটিয়াদের সমস্যার সমাধান হয়নি। বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকের মধ্যকার সমস্যা চিহ্নিতকরণ, এলাকাভেদে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণসহ সার্বিক বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরির জন্য সম্প্রতি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত মনে করে, প্রচলিত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন অনেকটাই কার্যকারিতা হারিয়েছে। তাই এ সম্পর্কিত বিদ্যমান আইনগুলো একত্র করে একটি বহুমাত্রিক ব্যাপক বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। ওই কর্তৃপক্ষের অধীনে সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হবে। কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।

আমরা আশা করব উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কমিশন সক্রিয় হলে উপকৃত হবেন দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ তথা সীমিত অর্থ উপার্জনকারী মধ্যবিত্ত শ্রেণী এতে কোন সন্দেহ নেই।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

০৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: