মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রাবিতে আধিপত্য বিস্তারে শিবির মরিয়া, চলছে সিটবাণিজ্য

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫
  • বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা

আলী রমজান, রাবি ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আধিপত্য বিস্তারের জন্য আবারো মরিয়া হয়ে উঠেছে শিবির। এ লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন হলে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। এমনকি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের আগের মতো ভয়-ভীতিও দেখিয়ে সিট বাণিজ্যও শুরু করেছে তারা। শিবিরের এমন কর্মকা-ের কারণে ক্যাম্পাসে যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শিবিরের সিট দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে রাবির ড. শামসুজ্জোহা হলে মুখোমুখি অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ ও শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দুপুরে অন্যান্য হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে শিবির কর্মীরা পিছু হটে। হল সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে ড. শামসুজ্জোহা হলে শিবিরের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি রয়েছে। অন্যান্য হলে প্রকাশ্যে কোন কর্মকা- চালাতে না পারলেও এ হলটিতে তারা প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কর্মকা- চালাচ্ছে শিবির নেতাকর্মীরা। নিয়মিত দাওয়াতি কার্যক্রম চালানোসহ তারা শিক্ষার্থীদের শিবিরে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে। এছাড়া হল প্রশাসনের সহায়তায় সিট বাণিজ্যও চালিয়ে যাচ্ছে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের এই ছাত্র সংগঠনটি। শিবির নেতাকর্মীদের অনুমতি ছাড়া হলটিতে কোন শিক্ষার্থী বরাদ্দ পাওয়া সিটেও উঠতে পারে না। এমনকি শিবিরের আধিপত্যের কারণে ওই হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও ঠিকমতো হলে থাকতে পারছেন না।

জানা যায়, ড. শামসুজ্জোহা হলের ২৩১ নম্বর কক্ষে থাকেন হল শাখা শিবিরের সভাপতি মোবাশ্বের। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। এছাড়া হল শাখা সাধারণ সম্পাদক ও পপুলেশর সায়েন্স বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাবিব থাকেন ১৬৪ নম্বর কক্ষে। তাদের দুটি কক্ষ ছাড়াও ১৩৬, ১৪৪ ও ১৫৪ নম্বর কক্ষে নিয়মিত সাংগঠনিক বৈঠক করে শিবির নেতাকর্মীরা। এছাড়া হলটির অতিথি কক্ষও বেশিরভাগ সময় শিবির নেতাকর্মীদের দখলে থাকে।

এদিকে ওই হলে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা ১৮১ নম্বর কক্ষের দখল নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে রাবির হলে মুখোমুখি অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ ও শিবির নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, ১৮১ নম্বর কক্ষটিতে ফলিত গণিত বিভাগের নাজমুল হাসান থাকতেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি কক্ষটি ছেড়ে দিলে শিবিরের হল শাখার সভাপতি মোবাশ্বের কক্ষটির দখল নিয়ে দলের এক কর্মীকে তুলে দেন। পরে রাতেই ছাত্রলীগ কর্মীরা কক্ষটিতে অবস্থানকারী শিবির কর্মী পরিসংখ্যান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোহেলকে কক্ষটি ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ১৮১ নম্বর কক্ষের সামনে ডেকে নিয়ে যান হল শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাবিব। এ সময় তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলামসহ শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওই কক্ষের দখল নেয়ার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে বলেন। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকিও দেন তারা। এ সময় সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী, শাহ্ মখদুম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আসলে শিবির কর্মীরা পিছু হটে।

রাবি ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে শিবির সেক্রেটারি হাবিব বলে, ‘জোহা হলে কোন ছাত্রলীগ নেই। এ হল শিবিরের দখলে। শিবির যা চাইবে, তাই হবে।’ এ সময় সে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে ‘পারলে ওই কক্ষের দখল নিস !’ তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসের অন্যান্য হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসলে শিবির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়।

এ সময় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দুপুরে অন্যান্য হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে শিবির কর্মীরা পিছু হটে।

এ ব্যাপারে ড. শামসুজ্জোহা হল শাখা শিবিরের সভাপতি মোবাশ্বের বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ২০৭ নম্বর কক্ষে আমাদের এক কর্মী ওঠে। এ সময় তাকে নিয়ে দুয়েকটি কথা হয়েছে। এ ছাড়া আজ (শুক্রবার) সকালে এক বড় ভাই তার রুমের চাবি আমাদের কাছে দিয়ে যান। সেখানে নন-পলিটিক্যাল এক ছেলেকে তুলে দেয়া হয়। পরে তারা (ছাত্রলীগ) এসে কক্ষটি তাদের দিতে হবে বলে দাবি করে। এ নিয়ে পরে কিছু হয়নি। তাদের কাছে ওই রুরে চাবি দিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কোন হুমকি দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে রাবি শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব বলেন, রাবি ক্যাম্পাসে কোনভাবে শিবিরের উত্থান হতে দেয়া হবে না। ছাত্রলীগ যতদিন ক্যাম্পাসে রয়েছে ততদিন কোন মৌলবাদী সংগঠনকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া হবে না। ওই হলে শিবিরের আধিপত্য রুখতে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তারিকুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে হল গেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে হল কর্তৃপক্ষ চাইলে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

০৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: