কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

বর্ষার কবিতা

কাজী জহিরুল ইসলাম

অবৈধ জলের ঘূর্ণি, বান

ধাবমান বিপরীত স্রোত

টান মারে শেকড় তন্ত্রীতে

ভাঙে পাড়, ভেঙে পড়ে সখের সফেদা গাছ

পিতামহের পুরনো ঘর

বাঁশের বিশ্বস্ত খুঁটি

গিঁটে গিঁটে বেড়ে ওঠা শৈশব-কৈশোর

ঘোলাজল বড় বেপরোয়া

মেজাজী ভীষণ

বিধবার শাদা শাড়ি কেড়ে নেয়, রাক্ষুসে ছোবল

শেকড়-মৃত্তিকা, শুভ্র শাড়ির কাফন

আমাদের সঞ্চিত খুচরো পয়সার বাঁশ-ব্যাংক

শ্রাবণ জ্যোৎস্না

প্রিয় সফেদা গাছের পল্লবিত ডালপালা

সব ভেসে যায় উদ্ধত বন্যায়

আমরাও ভাসতে থাকি উত্তরাধুনিক সময়ের স্রোতে।

মগ্ন জলের এস্রাজ

লুৎফুল হোসেন

অনেক কান্না ছিলো জমা হয়ে

তোমার অপেক্ষায়।

দোয়েল আর শালিখের চঞ্চুতে

মাখা বালির মতোন

অঙ্গাঙ্গী মিশে হৃদয়ের খোপে,

সাবলীল নিঃশ্বাসের

মতো একাঙ্গী অন্তর্গত

আত্মার পুরাতন ক্ষত

ধুয়ে দেবে বলে আষাঢ়ের বেনো জল

অবারিত শ্রাবণের ঢল!

কতোখানি ঢেলে দিলে ভূমি ধুয়ে নেবে

বুকের কাতর ব্যথা!

সেইমতো ঝরবার সাধে জলো ছলো

আষাঢ় তুমি আসো কি!

কতোটুকু জমা জল, বাষ্প দল,

ব্যথা সারাবার উৎপল

অনুষঙ্গ হয়ে জীবনেরে আঁকো

সুখবত পল অনুপল!

ওই আনন্দ উচ্ছ্বাসে তুমি

ঝরনার মতো হাসো কি!

সেইসব গল্প কল্প কথা

আষাঢ়ের বুক থেকে আজ

আমার কান্নার সাথে

মিলে বাজিয়েছে এস্রাজ ।

অমন জলমগ্ন দিনের

লাগি, ধনুকের মতো নুয়ে

অপেক্ষার দশ মাসে ক্ষণ গুনে,

কদম কেয়ারা ছুঁলো

যেন সব স্বপ্ন আর সাধের

হেলানো ইজেলগুলো!

জমানো কান্নারা আজ বুঝি তাই

গোপনে ঝরবার লাগি

বিশ্বস্ত আড়াল পেয়ে বলে-

সময় হয়েছে, যাই!

একফোঁটা বৃষ্টি হতে যদি

শামীম আহমেদ

একফোঁটা বৃষ্টি হয়ে কাঁদছো কেন?

বৃষ্টি হলে ঝড় নিয়ে এসো,

মাঝরাতে তন্দ্রা ভেঙ্গে

যেন অঝোরে কাঁদতে পারি।

আর যদি কান্না হবে

তবে দুঃখ দিও না,

নীরবে গড়িয়ে পড়ো,

চোখের দু’কোণ বেয়ে।

এক ঝলক হাসিই হতে যদি,

সুখী হতাম,

তোমায় ভেবে ঠোঁটের গায়ে

জড়িতে নিতাম।

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

০৩/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: