আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কাগজ ॥ নতুন করে নেতাজীকে জানা

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

ভারতের রাজধানী দিল্লীর নিজস্ব সাহিত্য পত্রিকা উন্মুক্ত উচ্ছ্বাস। চলতি বছরের কলকাতা বইমেলা উপলক্ষে পত্রিকাটি (১৪২১ বঙ্গাব্দ, বিংশতি বর্ষ, দ্বিতীয়-তৃতীয় সংখ্যা) প্রকাশ করছে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস বিশেষ স্মরণিকা সংখ্যা। সম্পাদক বিকাশ বিশ্বাস সম্পাদকীয় পাতায় লিখেছেন- ‘নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস স্মরণে আমাদের বইমেলার এই বিশেষ সংখ্যা। যদি কেউ জিজ্ঞাসা করেন কোন উপলক্ষে- তবে আমাদের কাছে যুক্তিগ্রাহ্য কোনো জবাব নেই। নেতাজীর শতবর্ষ পালন করা হয়ে গেছে। এ বছরটা হিসাবে ধরলে নেতাজীর সার্ধশতবর্ষ হবে আরও ২৩ বছর পরে। যদি ১৯৩৮ সালে সর্বসম্মতিক্রমে সুভাষচন্দ্রের কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনের বছরটা হিসাবের মধ্যে ধরি, সেটা হবে ৭৬ বছর। তাই সুভাষচন্দ্রকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যা করার কোনো উপলক্ষ ছাড়াই আমরা তাঁর স্মরণে সংখ্যাটি বার করছি।’ সংখ্যাটি শুরু হয় সুভাষচন্দ্র বোসের ভাই শরৎচন্দ্র বোসের ছেলে অমিয়নাথ বোসের ইংরেজি লেখা ‘মাই আঙ্কেল সুভাষ’ স্মৃতিচারণমূলক লেখাটির মধ্য দিয়ে। এ লেখাটিতে প্রকাশ পেয়েছে নেতাজীর সঙ্গে লেখকের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের নানা অজানা কথা। পরের লেখাটি লিখেছেন অমিয়নাথ বোসের ছেলে, নেতাজীর নাতি চন্দ্রকুমার বোস। ‘হিস্টোরিক্যাল ভিজিট টু সিঙ্গাপুর’ শিরোনামের এ ইংরেজি প্রবন্ধটিতে লেখক উন্মোচন করেছেন নেতাজী-সম্পর্কিত এক নতুন ইতিহাস। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ আশিস কুমার রাহা’র ‘নেতাজী- দ্য কুইজশান দ্যাট ডেফি আনসার’ শিরোনামের অনন্যসাধারণ লেখাটি উঠে এসেছে সুভাষচন্দ্র-সম্পর্কিত অসমাপ্ত অধ্যায়ের নানা দিক। ড. পূরবী রায় আলোকপাত করেছেন ‘নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস : লেখ্যাগারে প্রাপ্ত সঠিক সন্ধান’ নামের বহু সমাদৃত এই বইয়ের গৌরচন্দ্রিকার কিছু অংশ নিয়ে। এছাড়া রমেশচন্দ্র চন্দ তাঁর ‘জওহরলাল নেহরু ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু : সংঘাতের মূলে আদর্শ না স্বার্থ’ শিরোনামের প্রবন্ধে লিখেছেন জওহরলাল নেহরু ও সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শগত দ্বন্দ্ব নিয়ে। এছাড়াও ডলি দত্তের ‘দুটি প্রশ্ন : যুদ্ধাপরাধী সুভাষচন্দ্র ও তাঁর নাগরিকত্ব’, চন্দ্র কুমার বসু’র ‘নেতাজীর ভারত, ভারতের নেতাজী’, নন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের ‘রাত্রির তপস্যা’, ড. পরিতোষ ভট্টাচার্য্যরে ‘নীলকণ্ঠ নেতাজী : স্বপ্নভঙ্গের এক বিষাদময় চরিত্র’, কর্নেল ভূপাল লাহিড়ী’র ‘আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাধ্যক্ষ নেতাজী সুভাষচন্দ্র ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম’, অপর্ণা আচার্যের ‘আমি দেশকে শ্রেষ্ঠ রতœ দিয়ে গেলাম : দেশবন্ধু’, দেবাশিস বাগচী’র ‘এমন নেতা আর কি কখনো হবে’ শিরোনামের নানা আঙ্গিকের প্রবন্ধ। এছাড়া ‘উলুখড়’ শিরোনামে রমা জোয়ারদার এবং ‘উদিত প্রচ্ছায়া’ শিরোনামে স্বপ্না বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন গল্প। সুভাষচন্দ্রের ওপর আরো প্রবন্ধ লিখেছেন : অশোক সেনগুপ্ত, সুনীল গুহ, আদিত্য সেন, নীলাশিস ঘোষদস্তিদার, অসীম কুমার ব্যানার্জী, ডা. গৌতম কুমার পাল, জ্যোতির্ময় দাশ, কাশ্যপ জ্যোতি ভট্টাচার্য। আছে বেশ কিছু কবির সমৃদ্ধ কবিতার সম্ভার। বিবিধ প্রবন্ধ লিখেছেন : ডা. সুবীর দত্ত রায়, অতুল পাল, করবী বাগচী, মণিরতœ মুখোপাধ্যায়, বটকৃষ্ণ দে, ড. প্রদীপ মজুমদার, শ্রীচিরঞ্জীব, শর্বানীরঞ্জন কু-ু, শিখা ভট্টাচার্য, নন্দিতা রায়, বিশ্বজিৎ সিংহ, আদিত্য সেন প্রমুখ। ‘শিক্ষক অশ্বিনীকুমার দত্ত’ শিরোনামে ভারতী সরকারের স্মৃতিকথা পড়ে বেশ ভালো লাগলো। সবশেষে আছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংবাদ, গ্রন্থ সমালোচনা, চিঠিপত্র। উন্মুক্ত উচ্ছ্বাস-এর এ সংখ্যাটির মধ্য দিয়ে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নতুন করে জানার পাশাপাশি আরো নানা বিষয়ে পাঠককে ঋদ্ধ করবে নিঃসন্দেহে।

অঞ্জন আচার্য

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

০৩/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: