মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মঙ্গলে কি পিরামিড আছে

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫
  • এনামুল হক

পিরামিড আকৃতির বস্তু, তবে সাইজটা নাকি একটা গাড়ির সমান। আর এ ছবির দেখা মিলেছে মঙ্গল গ্রহের বুকে নাসার রোভার যান কিউরিওসিটির মাধ্যমে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, ছবিটি পিরামিডের উপরের অংশের হলেও এর সিংহভাগটাই রয়ে গেছে মাটির নিচে। তাদের বক্তব্য, মঙ্গলগ্রহে একসময় এলিয়েন সভ্যতা ছিল, এই পিরামিডই তার প্রমাণ। পিরামিডের প্রায় নিখুঁত কাঠামোই বলে দেয় যে এটা আলোছায়ার কোন খেলা নয়, বরং বুদ্ধিমান প্রাণীর সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফসল। আর ওই কাঠামোটি শুধু পিরামিডই নয়,উপরন্তু মিসরের গিজা পিরামিডের প্রতিরূপ।

মার্স কিউরিওসিটি রোভার আলোচ্য ছবিটি তুলেছিল ৭ মে। কিন্তু নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওটা একটা সাধারণ পাথর ছাড়া আর কিছু নয়। মার্স রোভার এক্সপ্লানেশন টিমের সদস্য ড. জিম বেল ইন্ডিয়ানা পলিসের উইশ টিভির কাছে বলেছেন, ওই বস্তুটি মানুষ বা ভিনগ্রহের প্রাণীর নির্মিত নয়। দেখতে আমাদের পরিচিত বস্তুর মতো এমন গড়নের পাথর মঙ্গলগ্রহে সচরাচর দেখতে পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ড. বেল এরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানেরও অধ্যাপক। তিনি বলেন, সম্ভবত এটা একটা আগ্নেয় শিলা। মঙ্গলপৃষ্ঠে যে সব শিলা বা পাথর দেখা যায় সেগুলোর বেশিরভাগই আগ্নেয় শিলা। পৃথিবীর মতো মঙ্গলগ্রহেও অনেক আগ্নেয় শিলা ফেটে বা ভেঙ্গে কৌণিক আকার ধারণ করে। এই পাথরটি ভেঙ্গে বা ফেটে পিরামিডের আকার ধারণ করেছে। পৃথিবীতেও কঠিন আগ্নেয় শিলার এ জাতীয় রূপ ধারণ করা বাস্তবে খুব একটা ব্যতিক্রমী ও অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পাথরটির সাইজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ওটা একটা গাড়ির সমান সাইজের হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বরং বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে পাথরটা মাত্র ৪ ইঞ্চি লম্বা কিংবা একটা ৮ আউন্সের সোডা ক্যানের সমান। বেল বলেন, ছবিটা দেখতে মজাই লাগে। তবে তা দুনিয়ে কাঁপানো কিছু নয়।

ড. বেলের এই ব্যাখ্যায় ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্বে বিশ্বাসীদের কতখানি নিবৃত্ত রাখা যাবে বলা মুশকিল। সম্ভবত তারা তাদের বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে অনেক রকম ব্যাখ্যা,তত্ত্ব ও তথ্য হাজির করবেন। মনস্তত্ত্বে একটা শব্দ আছে প্যারেইডোলিয়া। এটা হলো এক ধরনের প্রবণতা যার দ্বারা লোকে কোন ছবি বা দৃশ্যকে তাঁর প্রত্যাশিত রূপ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং সেই বস্তুটিকে দারুণ তাৎপর্যবহ বা অর্থপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস পায়। সত্তুরের দশকে ভাইকিংয়ের তোলা মঙ্গলের একটি পাথরকে হুবহু মানুষের মুখাবয়ব বলে মনে হয়েছিল। আমরা অনেক সময় মেঘকে কত রকমের রূপই না ধারণ করতে দেখিÑ কখনো মানুষ কখনো পাখি, কখনও অন্য কোন জন্তু বা বস্তু। মঙ্গলের ওই পাথরগুলোও তেমনি। তফাৎ হলো মেঘের ওই রূপগুলো অতিমাত্রায় ক্ষণস্থায়ী আর পাথরের রূপটা ক্ষণস্থায়ী নয়।

ভিনগ্রহের প্রাণীতে বিশ্বাসীরা ওই পাথরটিকে পিরামিড বলে চালাতে চাইবেন। তাদের ধারণার সমর্থনে তারা নানা জনের বক্তব্য তুলে ধরবেন। যেমন গত বছর পদার্থবিজ্ঞানী ড. জন ব্রান্ডেনবার্গ বলেছিলেন তিনি বিশ্বাস করেন মঙ্গলগ্রহের প্রাচীন সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল তবে অন্য কোন এলিয়েন জাতির পারমাণবিক হামলায় সে সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি এমনও দাবি করেন প্রাচীন মঙ্গলবাসীরা সাইডোনিয়ান ও ইউটোপিয়ান নামে পরিচিত ছিল।

ওই হামলায় তারা একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ২০১১ সালে এই বিজ্ঞানীই প্রথম এমন ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন যে, মঙ্গলের পৃষ্ঠদেশের লাল রংটা প্রাকৃতিকভাবে সংঘটিত তাপপারমাণবিক বিস্ফোরণের কারণে হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র : নাসা

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

০৩/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: