কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রসঙ্গ ইসলাম ॥ রমাদান ধৈর্যের মাস

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫
  • অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

মাহে রমাদান আরবী বর্ষ গণনার নবম মাস। এই মাসকে আল্লাহ জাল্লা শানুহু সিয়াম পালন করবার জন্য নির্ধারণ করে দিয়ে ইরশাদ করেছেন : মাহে রমাদান এতে নাযিল হয়েছে মানুষের দিশারী সৎপথের সুষ্ঠু নিদর্শন সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্যকারী আল কুরআন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস প্রত্যক্ষ করবে তারা এতে সিয়াম পালন করবে। (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)।

রমাদান মাসকে নানা নামে অভিহিত করা হয়েছে। একে বলা হয়েছে মুবারক মাস, মহান মাস, কুরআন নাযিলের মাস, প্রশিক্ষণের মাস। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্য ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরী সনের ১৫ শা’বান তারিখে আল্লাহ জাল্লা শানুহু রমাদান মাসকে সিয়াম পালনের মাস হিসেবে বিধান প্রদান করেন। সেই শা’বান মাসের শেষ সূর্য অস্ত গিয়ে আরবী বর্ষ গণনার নবম মাস রমাদানের চাঁদ উদয়কালে প্রিয় নবী সরকারে দোআলম নূরে মুজাসসম হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মসজিদুননবী চত্বরে সমবেত সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ করে বলেন, হে মানুষ! তোমাদেরকে ছায়া দিতে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে মহান মুবারক মাস। এ মাসে রয়েছে সহস্র মাসের চেয়ে উত্তম এক রজনী লায়লাতুল কাদরি খায়রুম মিন আলফি শাহ্র) এ মাসের সিয়ামকে আল্লাহ ফরয করে দিয়েছেন, এ রাতে তারাবীর সালাত আদায়ে রয়েছে অশেষ সওয়াব। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের আশায় একটি নফল কাজ করবে সে অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করার সমান সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করবে সে অন্য মাসে সত্তরটি ফরয আদায় করার সমান সওয়াব লাভ করবে। এটা ধৈর্যের মাস আর ধৈর্যের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। বায়হাকী মিশকাত শরীফ।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সবর বা ধৈর্যের মাস বলেছেন রমাদানকে এবং সেই সঙ্গে সবরের প্রতিদান বলেছেন জান্নাত। এখানে লক্ষণীয় যে সবর সিয়াম রমাদান একই সূত্রে গাথা রয়েছে। হাদিস শরীফে আছে যে ব্যক্তি সবর অনুশীলন করতে চায় আল্লাহ তাকে সবর ধারণ করবার শক্তি দান করেন। সবর হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ। (বুখারী শরীফ) হাদিস শরীফে এটাও আছে যে প্রথম আঘাতেই সহনশীলতা বুঝা যায়Ñ ইন্নামাস সবরু ইনদাস সাদমাতিল উলা (বুখারী শরীফ)

সবর দুই প্রকারের যেমন দৈহিক অর্থাৎ শারীরিক পীড়া সহ্য করা আত্মিক অর্থাৎ প্রবৃত্তির তাড়নাকে সংযত করা। রমাদান মাসে সিয়াম পালনের মাধ্যমে সায়িম যেমন দৈহিক পীড়া বা কষ্ট সহ্য করে তেমনি নফসের তাড়নাকে সংযত করে আর এরি মাধ্যমে সে তাকওয়া অর্জন করতে সমর্থ হয়। সিয়ামের মুল উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাকওয়া।

আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন। ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছ তোমাদের প্রতি সিয়াম বিধান দেয়া হলো, যেমন বিধান দেয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)।

সিয়াম পালনের মাধ্যমে সায়িম বা রোযাদার ধৈর্য ধারণের যে প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ করে তা তার জীবন পথে চলবার এক মহা পাথেয় হয়ে যায়। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছ তোমরা ধৈর্যের সঙ্গে এবং সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন, সূরা বাকারা আয়াত ১৫৩)। ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছো! ধৈর্য ধারণ করো। ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো এবং সদা প্রস্তুত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। সূরা আল ইমরান : আয়াত ২০০)

বিপদে আপদে ধৈর্য ধারণ করবার নির্দেশ দান করে আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন আমি তোমাদেরকে ভয় দিয়ে, ক্ষুধা দিয়ে ধন সম্পদ বিনষ্ট করে, জীবন নাশ করে এবং ফল ফসলের ক্ষতি করে অবশ্য পরীক্ষা করি। তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলদেরকে যারা বিপদে আপতিত হয়ে বলে : নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তাঁরই নিকট ফিরে যাবো। সূরা বাকারা আয়াত ১৫৬।

ধৈর্য মানবজীবনের এক অমূল্য সম্পদ। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আয়ায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দেহের সঙ্গে মাথার যেমন সম্পর্ক ঈমানের সঙ্গে ধৈর্যেরও সম্পর্ক সেই রকম (সগীর) ধৈর্যগুণ মানুষকে নম্রতা ও বিনয়ের পথে চলবার প্রেরণা দেয়। ধৈর্যগুণ মানুষকে মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান করে। মাহে রমাদানে মাসব্যাপী সিয়াম পালনের মাধ্যমে মানুষ পরিশুদ্ধ মানবসত্তা লাভ করে। ইলমে তাসাওউফে সবর মাকামের একটি অনুশীলন অধ্যায় রয়েছে। বাদ (বায়ু) লতিফার দিকে মনোনিবেশ করে নিয়ত করতে হয়। আমি আমার বাদের দিকে মুতাওয়াজ্জিহ আছি। আমার বাদ আমার পীর সাহেব কিবলার ওসিলায় গওসুল আজম আবু মুহম্মদ মহিউদ্দিন সৈয়দ আবদুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলায়হির বাদের দিকে মুতাওয়াজ্জাহ আছে। তার বাদ হতে কাদিরীয়া তরীকার নিসবত অনুযায়ী হকীকতে মাকামে সবরের ফয়েজ আমার বাদে আসুক।

মুরাকাবা হালতে আল্লাহর নিকট সবরের ফয়েজ আরজু করতে হবে। এবং তাঁর নিকট দু’আ করতে হবে এই বলে : হে আল্লাহ জাল্লা শানুহু, সর্বপ্রকার আপদ-বিপদে দুঃখ-দরদে বালা মুসিবতে সবর করবার ও অটল থাকবার এবং তোমার আদেশ পালনে কষ্ট সহিষ্ণু হবার ক্ষমতা আমাকে দান করো।

লেখক : পীর সাহেব দ্বারিয়াপুর শরীফ উপদেষ্টা ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা) সাবেক পরিচালক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

০৩/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: