মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সারাদেশে বস্তিবাসী সাড়ে ২২ লাখ!

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫
  • ড. আর এম দেবনাথ

‘বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস’ (বিবিএস)-এর একটি বড় কাজের ফল প্রকাশ করা হয়েছে গত ২৯ জুন সোমবার। কাজটি বা শুমারিটি ছিল ‘বস্তির’ ওপর। তথ্যে দেখা যায়, এর আগে প্রথম ১৯৮৫ সালে ঢাকা শহরে বস্তিশুমারি করা হয়। পরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাকে বস্তিশুমারির আওতায় আনা হয়। ১৯৯৭ সালে পূর্ণাঙ্গ বস্তিশুমারি করা হয়। সেই অর্থে অনেক দিন পর মনে হয় আবার পূর্ণাঙ্গ বস্তিশুমারি করা হলো। এর নাম বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোকগণনা-২০১৪। এই শুমারির ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ২০১৪ সালে সারাদেশে বস্তিবাসী ছিল সাড়ে ২২ লাখ। আর মোট বস্তির সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৯৪৩টি। এর মধ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ভেতরেই ছিল ৩ হাজার ৩৯৯টি। বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোকগণনায় দেখা যাচ্ছে সারাদেশে ভাসমান লোকের সংখ্যা ছিল ১৬,৬২১ জন। এদের কোন স্থায়ী বসবাসের জায়গা নেই, অর্থাৎ বাসস্থান সেই। উল্লেখ্য, বস্তিশুমারিতে শুধু বস্তির সংখ্যা এবং বস্তিবাসীর তথ্যই স্থান পায়নি এতে স্থান পেয়েছে আরও কিছু তথ্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শুমারিতে বস্তিবাসীরা কেন বস্তিতে এসেছে তার তথ্য আছে। বস্তিগুলোতে বাসস্থানের ধরন বা কাঠামো কী তার তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে এতে। খানা সংখ্যা কত, লিঙ্গভেদে জনসংখ্যা কত, সাক্ষরতার হার কত, বিদ্যুত প্রাপ্তি, আয়ের উৎস ও সম্পদ ইত্যাদি তাদের কেমন এসব বিষয়ে ওই জরিপে তথ্য আছে। কী কারণে তারা বস্তিবাসী তার কারণ হিসেবে কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে কাজের সন্ধান (৫১%), দারিদ্র্য (২৯%)। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ডিভোর্স ও নিরাপত্তাহীনতা হচ্ছে বাকি কারণ। বস্তিসমূহে সাত বছরের উর্ধ বয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৩৩ শতাংশের কিছু ওপরে। বস্তিগুলোর বাড়ির কাঠামোর মধ্যে ৬৩ শতাংশই হচ্ছে কাঁচা বা টিন দিয়ে তৈরি বাসস্থান। খাবার জলের প্রধান উৎস (৫০%) নলকূপ। স্যানিটারি পায়খানা রয়েছে ২৬ শতাংশ খানায় (হোল্ডিং)। এসব বস্তিতে প্রায় ৯০ শতাংশ খানায় বিদ্যুত ব্যবহৃত হয়। মজার খবর বস্তির প্রায় ৮৪ শতাংশ খানায় মোবাইল ফোন রয়েছে। প্রায় ৪৮ শতাংশ খানায় রয়েছে টেলিভিশন। গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছে বস্তিবাসীর বৃত্তিভিত্তিক তথ্য। সবচেয়ে বেশি খানার (১৬ দশমিক ১৮) আয়ের প্রধান উৎস রিকশা বা ভ্যান চালনা, ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ খানার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা। সেবা খাতের আয়ে চলে ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ খানা। বাকি বৃত্তি বা পেশাগুলো হচ্ছে : গার্মেন্টস কর্মী (১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ), নির্মাণ শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক। বেশিরভাগ বা সিংহভাগের কোন কৃষি জমি নেই। বস্তিগুলোতে পুরুষের সংখ্যা এবং নারীর সংখ্যা প্রায় সমান সমান। এগুলোতে হিজড়ার সংখ্যা ১ হাজার ৮৫২ জন। এই হচ্ছে মোটামুটিভাবে বস্তিশুমারির তথ্য যা কাগজে ছাপা হয়েছে।

কাগজে ছাপা হয়নি এমন কতগুলো তথ্যের ব্যাপারে আমার জানার উৎসুক্য ছিল। যেমন বস্তিবাসীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, না কমছে। বস্তিগুলোতে বিশেষ করে ঢাকার বস্তিগুলোতে কোন্ কোন্ অঞ্চলের লোক বসবাস করে। বস্তিগুলোতে বসবাসকারী লোকজনের ধর্মীয় পরিচিতি কী? এরা অর্থাৎ এই খানাগুলো কতদিন যাবত বস্তিতে বসবাস করে। এমন অনেক খুঁটিনাটি তথ্য জানার আগ্রহ ছিল। আমি জানি না বস্তিশুমারি এগুলো সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছে কীনা। বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে, না কমছে এই তথ্য পেলে একটা বিষয়ে ধারণা করা যেত। আমরা যে উন্নয়নের কথা বলছি সেই উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামে কতটুকু পৌঁছছে? আমরা কাগজেই দেখতে পাচ্ছি এবং তা ‘বিবিএসের’ তথ্য বলেই আমাদের জানানো হচ্ছে যে, প্রতিমাসে ঢাকায় পঞ্চাশ হাজার লোক বা ছিন্নমূল মানুষ আসছে। এই তথ্য যদি ঠিক হয় এবং বস্তিশুমারির তথ্য যদি ঠিক হয় তাহলে তারা সিংহভাগ ক্ষেত্রে আসছে কাজের সন্ধানে এবং দারিদ্র্যের কারণে। যদি তাই হয় তাহলে বছরে এর সংখ্যা দাঁড়াবে ছয় লাখে। এখানেই প্রশ্ন ঢাকা শহরেই যদি প্রতিবছর ছয় লাখ ছিন্নমূল লোক আসে তাহলে সারাদেশে বস্তিবাসীর সংখ্যা মাত্র সাড়ে বাইশ লাখ হয় কেমন করে? তাহলে কী ছিন্নমূলেরা বস্তিতে ওঠে না? তারা বস্তিতে না উঠে দোকান-পাট, হাট-বাজার, ধনী লোকদের বাসা-বাড়ি, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ইত্যাদিতে উঠছে? যদি সেসব স্থানেই ওঠে তাহলে ভাসমান লোকের সংখ্যা সারাদেশে মাত্র ১৬ হাজার ৬২১ জন হয় কী করে? এসব শুধুই প্রশ্ন। আমার কাছে বিকল্প কোন তথ্য নেই যে আমি ‘বিবিএসের’ তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করব। আর চ্যালেঞ্জ করার কোন অভিপ্রায়ও নেই। কারণ ভাল হোক, মন্দ হোক, নির্ভরযোগ্য হোক, আধা-নির্ভরযোগ্য হোক তাদের সুবাদেই কিছু তথ্য আমরা পাচ্ছি। ধীরে ধীরে তথ্যের গুণগতমানও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দৃশ্যমান। এমতাবস্থায় বস্তিশুমারির তথ্যকে প্রশ্ন না করে যাওয়া যাক এর কারণ সম্পর্কে।

দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ বস্তিবাসী বস্তিতে আসছেন গ্রাম থেকে। উদ্দেশ্য কাজ পাওয়া। আরেকটা হচ্ছে দারিদ্র্য। গ্রাম থেকে উঠে আসা লোকদের দেখা যাচ্ছে গ্রামে কোন জমি-জমা নেই। এসব তথ্য পুরনো। প্রশ্ন এ ধরনের অভ্যন্তরীণ মাইগ্রেশনে আমাদের অর্থনীতি কতটুকু উপকৃত হচ্ছে। শুধু বস্তিবাসী নয় গ্রামের লোকেরা আবার দেখা যাচ্ছে গ্রাম চিরতরে না ছেড়ে এক জায়গার লোক অন্য জায়গায় যাচ্ছে কাজের উদ্দেশ্যে। রংপুর-গাইবান্ধার লোক নোয়াখালীতে আছে। চট্টগ্রামে আছে, বিক্রমপুরে আছে, হালুয়াঘাট অঞ্চলের লোকেরাও উল্লিখিত অঞ্চলগুলোতে যাচ্ছে কাজের সন্ধানে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোকেরা যায় সিলেটে। কিন্তু এই যাওয়া আর বস্তিবাসী হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। অস্থায়ীভাবে যারা কাজের সন্ধানে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়, তারা ‘ক্যাশ’ নিয়ে গ্রামে আবার ফিরে যায়। এরা কোন্ অঞ্চলের বোঝা হয় না। কিন্তু যারা গ্রাম ছেড়ে একেবারে আসে তারা ভিন্ন প্রকৃতির লোক। গ্রামে তাদের জমিজমা একেবারেই নেই। তাদের গ্রামই কী, শহরই কী? কিন্তু মুশকিল হচ্ছে গ্রামে জমিজমাহীন লোকের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। কৃষির ফার্ম হচ্ছে। কৃষিতে যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফসল লাগানো, তোলা, ফসল পরিচর্যা করা, ধান ভানা ইত্যাদি কাজেই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের গ্রামাঞ্চলে দৃশ্যত লোকের উদ্বৃত্ত থাকার কথা। কিন্তু সেটা নয়।

হরহামেশাই অভিযোগ গ্রামে কাজের লোক পাওয়া যায় না। এটা কী ভরা মৌসুমের কথা, না সারাবছরের কথা। গ্রামের উদ্বৃত্ত শ্রমিক যদি শহরে আসে তাহলে ক্ষতি কী এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। এর সঙ্গে প্রশ্ন তাদের থাকা-খাওয়া শুধু নয়। চিকিৎসার প্রশ্ন আছে, লেখাপড়ার সুযোগের প্রশ্ন আছে। তাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন আছে। স্থায়ী থাকার ব্যবস্থার প্রশ্ন আছে। এসব প্রশ্নই নগরায়ন বা সুষ্ঠু নগরায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের শহরগুলো কী তাদের বর্তমান সুযোগ-সুবিধার মধ্যে প্রতিবছর ছয় লাখ ছিন্নমূল লোককে ধারণ করার ক্ষমতা রাখে? দৃশ্যতই রাখে না। এভাবে দেখা যাবে বিভিন্ন শহর লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়েছে। এমন হয়েছে অবস্থা যা ‘ম্যানেজেবল একেবারেই নয়। ইতিমধ্যেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেক বছর গ্রাম থেকে নতুন আগতদের কথা শুধু নয়, শহরগুলোতে ইতিমধ্যে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের থাকা-খাওয়া ও বসবাসের অসুবিধা হচ্ছে। সরকার প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা খরচ করছে কয়েকটা শহর রক্ষা করার জন্য। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ওভারপাস করতে হচ্ছে। আন্ডারগ্রাউন্ড রেল করতে হচ্ছে। এক কথায় তিন তলা শহর। খরচ? হাজার হাজার কোটি টাকা। এই যে খরচ কত লোকের জন্য ও কতসংখ্যক লোকের আরাম আয়াশ নিশ্চিতকরণ অথবা অন্যান্য দেশের মতো সুন্দর নগরী করার অভিপ্রায়ে আমরা এ খরচ করছি? এসবের ফল কী? দেশের যত মধু সব ঢাকাসহ কয়েকটি নগরীতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, অফিস থেকে শুরু করে সকল সুযোগ-সুবিধা আমরা শহরগুলোতে কেন্দ্রীভূত করছি। এতে সারাদেশের মানুষ আকর্ষিত যদি হয়, সবাই যদি ঢাকার দিকে রওনা দেয় তাহলে দোষের কি হবে? কিন্তু আমরা জানি এভাবে চিরদিন চলবে না। গ্রামকে বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। গ্রামাঞ্চলে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে যাতে লোক শহরাভিমুখী না হয়। এর জন্য গ্রামাঞ্চলে বিনিয়োগ দরকার। কৃষি, মৎস্য, বনজ শিল্পে বিনিয়োগ দরকার। কৃষিতেই অল্প টাকায় অনেক বেশি লোকের কর্মসংস্থান করা সম্ভব। শুধু কর্মসংস্থান নয় কৃষি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। আগে ভাত, তারপর কাপড়, তারপর শিক্ষা ও বাসস্থান। চাহিদার অগ্রাধিকার এটাই। আমরা গার্মেন্টস করছি। তার সবটাই শহরে। অথচ কাজ করে গ্রামের গরিব মেয়েরা। এরাই আবার বস্তিবাসী। গার্মেন্টস ভাল। কিন্তু এই পোশাকশিল্প যে ধীরে ধীরে আমাদের তাঁত শিল্পকে ধ্বংস করেছে তার হিসাব কি আমরা রাখি? তাঁত শিল্পে কর্মসংস্থান হয় সারাদেশে। গার্মেন্টস কর্মী সব ঢাকা এবং তার আশপাশ অঞ্চলে। আমার কেন জানি মনে হয় আমাদের উন্নয়ন নীতিতে বেশকিছু পরিবর্তন দরকার। গ্রামে কোন বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেসরকারী খাত কৃষিতে কোন বিনিয়োগ করে না। কারণ কৃষি অলাভজনক। আবার দেখা যায় সরকারের বরাদ্দও কৃষিতে ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। বনজশিল্প, মৎস্যের তাই। প্রাথমিক শিক্ষাতেও তাই। অথচ হওয়া উচিত উল্টোটি। এসব বিনিয়োগ বাড়ালে গ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। শত হোক শিল্পায়ন দিয়ে শতভাগ কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। কৃষি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি বিপুল সংখ্যায় কর্মসংস্থান দিতে পারে। আমরা শহর রক্ষার জন্য যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করি তার একাংশ যাওয়া উচিত গ্রামে। ঢাকা শহরকে বাঁচাতে হলে, তার অধিবাসীদের পানীয় জল দিতে হলে, শুনলাম, আগামী দিনে জল আনতে হবে যমুনা নদী থেকে। কারণ ঢাকা নগরীর তিন দিকে যে নদী আছে তার জল দূষিত। খাওয়া তো দূরের কথা তাতে হাত দিলেই চর্মরোগ হয়। এখন যমুনা নদী থেকে পানীয় জল পেতে হলে কত টাকা বিনিয়োগ দরকার। এই টাকা আমাদের নেই। এই প্রকল্প নিতে নিতে এবং বাস্তবায়ন করতে করতে এর খরচ পড়বে হাজার হাজার কোটি টাকা। এখন প্রশ্ন এই যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বা হচ্ছে তার আমাদের ভ্রান্ত উন্নয়ননীতির ফল নয়? এসব ব্যাপারে দূরদৃষ্টি রাখতে হবে।

অসম যে কথাটি বোঝাতে চাইছি তা হচ্ছে গ্রামের লোককে ঢাকামুখী হওয়াতে উৎসাহ দেয়া ঠিক হবে না। গ্রামোন্নয়নে আমাদের আরও বেশি নজর দিতে হবে যাতে গ্রামে কর্মসংস্থান হয়। গ্রামের লোকসংখ্যা কত? আমি যদি ২৫ শতাংশ লোককে শহরবাসী ধরে নিই, তাহলে ১২ কোটি লোক গ্রামবাসী। উন্নয়নের খরচের টাকা মাথাপিছু হিসেবে বরাদ্দ করলে তারাই বেশি টাকার প্রাপ্য হয়। আমি জানি এভাবে মাথাপিছু হিসাব করা যাবে না। কিন্তু পল্লী উন্নয়ন, গ্রামোন্নয়নে অধিকতর বরাদ্দ তো দেয়া যায়। উপজেলাগুলোকে ‘উন্নয়ন কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা যায়। সরকারকে বলব এসব ব্যাপারে ভাবতে। আমেরিকা-কানাডা-ইউরোপীয় দেশের অভিজ্ঞতা নেয়া যেমন দরকার তার চেয়ে বেশি দরকার নিজের দেশের প্রয়োজন বোঝা। উন্নয়নের পাশাপাশি জমির দাম যদি মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় এবং সেই বৃদ্ধি যদি গ্রামের মানুষকে জমিচ্যুত করে এবং তাকে বস্তিবাসী করে তাহলে আমাদের ভাবতে হবে দুবার। উন্নয়নে লাভবান জনগোষ্ঠী যদি গ্রামের মানুষকে ছিন্নমূল করে এবং তার অন্যত্র কর্মসংস্থান না হয় তাহলে ভাবতে হবে তিনবার।

লেখক : ম্যানেজমেন্ট ইকোনমিস্ট ও সাবেক শিক্ষক ঢাবি

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

০৩/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: