আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নদী খনন

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার ছোট নদীগুলোর অস্তিত্ব যেন আজ বিলীন হওয়ার পথে। অনেক নদীতে এখন ‘বৈশাখ মাসের হাঁটুজল’ দূরের কথা কার্তিক মাসেও পানি পাওয়া দায়। আবার উল্টো করে ভাবলে বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই নদীগুলো উপচে যায়, জনপদ পানিতে তলিয়ে যায়। দেখা দেয় বন্যা। নদীগুলো ধারাবাহিকভাবে নাব্য হারাতে হারাতে এই উভয় সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে মানুষকে। নাব্যর চরম সঙ্কটে পড়েছে দেশের ছোট-বড় বেশিরভাগ নদ-নদী। গত কয়েকদিন আগেও যেসব নদীতে নাব্যর কারণে নৌযান চলাচল দুষ্কর ছিল সেখানে বর্ষার সামান্য পানিতেই পানিবন্দী জনপদ। নদীগুলো খননের অভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি। নদীর সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক গভীর। পৃথিবীর বেশিরভাগ সভ্যতাই গড়ে উঠেছে নদীতীরে। কোন দেশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত নদ-নদীগুলো নাব্য হারালে বা অকাল মৃত্যুর শিকার হলে সে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকাংশে নদীনির্ভর। অথচ দেশের বেশিরভাগ নদীই খননের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে, জেগে উঠছে চর। নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারালে যোগাযোগ ব্যাহত হয়, মাটি অনুর্বর হয়, প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারায়। এক সময় নদী ছিল এ দেশের যাতায়াত, জীবন-জীবিকা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের একমাত্র মাধ্যম। পরিসংখ্যান মতে, এরই মধ্যে ২০ ভাগ নদী মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে। একদিকে কমছে পানি, অন্যদিকে জেগে উঠছে চর। এখনই কোন ব্যবস্থা না নিলে এ পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে উঠতে পারে। এমন এক সময় ছিল যখন নিয়মিত খনন কাজ চলত। ফলে এই ধরনের সঙ্কটের কথা শোনা যেত না। এখন অবশ্য ঢিমেতালে খননের কথা প্রায়ই শোনা যায়। ড্রেজার যথাযথ ব্যবহার না করার অভিযোগও বেশ পুরনো। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা আনা জরুরী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দেশের নৌপথ অন্তত এক কোটি ঘনমিটার খনন করা প্রয়োজন।

এখন বর্ষাকাল। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই এই সময়টায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এমনিতেই বাংলাদেশ নদীমাতৃক। তার ওপর উজান থেকে ঢল নেমে প্লাবিত করে সমতল ভূমি। নদীর বুকে জমে পলি; আর এভাবে নদী তার স্বাভাবিক ছন্দই শুধু হারায় না, অনেক সময় গতিপথ বদলে ভাঙ্গনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পানির প্রবাহ আচমকা বেড়ে গেলে সেই ভারও অগভীর নদী বইতে পারে না। কূল ছাপিয়ে ঘরদোর-ফসল ভাসায়। মানুষকেও ফেলে দুর্ভোগের মধ্যে। নদীর তলদেশ অগভীর হয়ে প্রবাহ হ্রাস পায় বলে বঙ্গোপসাগরের নোনা পানিও উপকূলীয় এলাকায় সহজে ঢুকে পড়ে ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। এসব কারণে নদী খননের কাজটি জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই নদীগুলো খনন করার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নদী বাঁচলেই দেশ বাঁচবেÑ এ মূলমন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এখনই সময়। এমনিতেই দখলে, দূষণে আমাদের নদীগুলোর হতদ্দশা। প্রভাবশালী মহলের লোলুপ দৃষ্টি আমাদের প্রাকৃতিক জলাধারগুলোকে নিষ্প্রাণ করে দিচ্ছে। আমরা মনে করি, নীতিনির্ধারক মহলের শুভবুদ্ধি জাগ্রত হবে এবং নদীগুলো দ্রুত খননের ব্যাপারে তারা বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবে।

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

০৩/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: