কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫, ০১:৪৫ পি. এম.

অনলাইন রিপোর্টার ॥ কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকার গণভবনের সেমিনার হল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে সম্প্রতি বন্যায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক যোগাযোগ ও দুর্গতদের ঘরবাড়ি আবার নির্মাণ করে দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই দেশের প্রতিটি জায়গার উন্নয়নে হাত দিয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ কাজ শেষ হলে পর্যটন শহরের সাথে পুরো বিশ্বের সম্পর্ক স্থাপিত হবে। পর্যটকসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক বড় বিমানগুলো সহজে বন্দরে অবতরণ করতে পারবে। ফলে কক্সবাজারের বাণিজ্যিক সুবিধা আরও বাড়বে। দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কারণে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাদের জন্য কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলে বিশাল এলাকার উপর উন্নতমানের চারতলা বিশিষ্ট ভবন তৈরি হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকে আধুনিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে পুনর্বাসন করা হবে। ইতোমধ্যে পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে।

পুনর্বাসিত এলাকায় স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ প্রয়োজনী সব সুবিধা থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনকালে তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামাত জোট আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ মেরেছে। তারা দেশকে পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে ও নেবে। এছাড়ারামু বৌদ্ধ বিহারও তারা জ্বালিয়ে দিয়েছিল। আমরা সেটিকে আরও আধুনিক দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের দোহাজারী হয়ে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণটি দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া। এটি এতোদিন কেন বাস্তবায়িত হয়নি তা আমার জানা নেই। তবে এবার আমরা ভূমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ করেছি। শীঘ্রই দুলাইনের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে কক্সবাজারের বাণিজ্যের দ্বার আরও উন্মোচিত হবে।

বক্তব্য শেষে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কক্সবাজারে ফলক উন্মোচন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতিদেরকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বড় স্ক্রিনে দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রীও কক্সবাজার বিমানবন্দরে উপস্থিতদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে ঢাকার গণভবন থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনাকারী পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী বিমানবন্দরের কাজের বিবরণ দেন।

তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার আওতায় প্রথম পর্যায়ে বিমানবন্দরের রানওয়ে বর্ধিতকরণ ও প্রশস্তকরণের কাজ করা হবে। পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ৩০ মাস। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ফুট করা হবে। প্রস্থ বাড়িয়ে ১৫০ ফুট থেকে করা হবে ২০০ ফুট। স্থাপিত হবে নতুন ভিওআর, ডিএমই, আইএলএস, এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড ও লাইটিং সিস্টেম। প্রথম ধাপের এই উন্নয়ন কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, সরকারী পদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকসহ সুশীল সমাজের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫, ০১:৪৫ পি. এম.

০২/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: