মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

একপলক তাকিয়ে আমি তাঁর ভৃত্য হয়ে গেলাম- সুকন্যা শঙ্কর

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

প-িত রবি শঙ্করের সঙ্গে যখন আপনার প্রথম দেখা হয় তখন ইতিমধ্যেই আপনি বিবাহিত। সত্যিকার অর্থে কী ঘটেছিল? আপনাকে কি নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছিল বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য?

আমার প্রথম বিয়েটা ছিল একটি ...। সৌভাগ্যবশত তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়। যখন প্রথম প-িতজির সঙ্গে আমার দেখা হয়, আমি মুগ্ধের মতো তাঁর দিকে চেয়ে ছিলাম যেভাবে ভক্তরা একজন তারকার দিকে চেয়ে থাকে। একদিন তিনি লন্ডনের গ্রিনইউচে একটি অনুষ্ঠানে আমার সবচেয়ে প্রিয় ‘রাগসঙ্গীত’ পরিবেশন করছিলেন। হঠাৎ এক মুহূর্ত তিনি আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। সেটা ছিল আমার জন্য যথেষ্ঠ। আমি তাঁর ভৃত্য হয়ে গেলাম। সেটা ছিল প্রথমবার, আমি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে তাঁর প্রতি ভালবাসা অনুভব করলাম। যেটা আর কখনই ফুরিয়ে যায়নি।

ভালবাসা যে কোন সময়ই ঘটতে পারে এবং যেটার কোন সীমানা নেই। আপনার সঙ্গে প-িত রবি শঙ্করের ভালবাসা সেটার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কোন্ বিষয়টি আপনাকে উদ্দীপ্ত করেছিল আপনাদের মধ্যকার ৩৪ বছরের বয়সের ব্যবধানকে উপেক্ষা করতে?

যখন আপনি প্রেমে পড়বেন তখন বয়সের বিষয়টি আপনার মাথাতেই আসবে না। আমার মন এবং আত্মা তাঁর সঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছিল। আমি আপাদমস্তকে তাঁর প্রেমে পড়েছিলাম। তিনি ছিলেন আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে জমকালো, সুন্দর এবং সত্যিকারের ভদ্রলোক। কোন তরুণও আমাকে এতটা এর আগে আকর্ষণ করতে পারেনি।

আপনি তাঁর কথা আগেই শুনেছিলেন, কিন্তু খুব সম্ভবত আপনার বয়স যখন মাত্র ১৭, তখন আপনি তাঁর সঙ্গে প্রথমবারের মতো একই মঞ্চে পারফর্ম করেছিলেন। আমি নিশ্চিত সেই স্মৃতি আপনার মনে আজও রঙ্গীন।

হ্যাঁ, আমি তানপুরা বাজিয়েছিলাম। সেটা চিল ১৯৭৩ সাল আর অনুষ্ঠানটি হচ্ছিল রয়্যাল এ্যালবার্ট হলে। আমার হাতে বেশ বড় নখ ছিল। অনুষ্ঠান শুরুর আগে তিনি আমাকে বললেন, ‘তোমার উচিত অনুষ্ঠান শুরুর আগে নখগুলো কেটে ফেলা।’ আমি বলেছিলাম, ‘আমি কেটে ফেলব।’ তিনি ক্ষণকাল আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। এরপর তিনি উঠে গিয়ে নেইলকাটার নিয়ে এসে আমার নখগুলো পরম যতেœ কেটে দিলেন। আমি আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সব স্মৃতিই মনে আছে। তাঁর হাসি, চোখ মেলে তাকানো এবং কথা বলা সবই মনে আছে।

প্রসঙ্গতই প-িতজির অনেক ভক্ত ছিল। তাদের মধ্যে নারী ভক্তদের সংখ্যাও কম ছিল না। শুনেছি, আপনাদের বিয়ের পরেও অনেক নারী ভক্তদের সঙ্গে প-িতজির নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আপনি কখনও বিদ্বেষ পোষণ করেননি?

আমাদের বিয়ের আগে তাঁর নিজস্ব জীবনধারা ছিল। যখন আমি তাঁর জীবনে এলাম। আমি তাঁকে গ্রহণ করেছিলাম অন্তর থেকে। তাঁর বন্ধুরা আমারও ভাল বন্ধু। আমাদের বিয়ের পরেও তাদের অনেকের সঙ্গে আমাদের দু’জনেরই বন্ধুত্ব অক্ষুণœ ছিল। আমি তাদের সবাইকে সম্মান করি যারা তাকে ভালবাসত।

সমাজ তখন ছিল অনেক বেশি রক্ষণশীল। আপনি যখন ব্যাপারটা করেছিলেন সেটা ছিল সমাজের জন্য একটি শিক্ষা। আমি বলছি, আপনি যখন প-িত রবি শঙ্করের সন্তানের মা হলেন, সেই সময়টার কথা কি বলবেন?

হ্যাঁ, এটি ছিল খুবই প্রতিকূল সময়। কিন্তু যখন আপনি জানবেন যে কোন বিষয়টিকে আপনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন এবং আপনার মন কী চায় তখন সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটা সহজ হয়ে যায়। জীবন আসলে একটা ‘জিগসাও পাজল’ কিন্তু যখন আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন তখন সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। আসলে এটা আমার একান্তই নিজের বিশ্বাস।

আপনি আপনার একটি সাক্ষাতকারে বলেছিলেন যে, প-িত রবি শঙ্কর অবস্তুগত। এই বিষয়টাকে কি একটু ব্যাখ্যা করবেন?

তিনি ছিলেন একজন জাত শিল্পী এবং কখনই বস্তুগতভাবে জীবনটাকে ভাবেননি। আমি নিজেও বস্তুগত নই। তিনিই ছিলেন আমার অগ্রাধিকার এবং আমি সব সময় তাই করতে চেয়েছিলাম যা তাকে সুখী করবে এবং স্বস্তি দেবে।

আপনি খুব সম্ভবত একজন যাযাবরকে একটি ঘর এবং একটি পরিবারের অনুভূতি দিতে চেয়েছিলেন, না?

হ্যাঁ, এবং আমি মনে করি যে আমি সফল হয়েছিলাম। তিনি একদিন আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে তাঁর একদিন ঘর ছিল এবং তিনি আমার প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ ছিলেন।

শুভ ছিল একজন ঈশ্বরপ্রদত্ত সঙ্গীতজ্ঞ। আজকের দিনে সে দুনিয়াকে চমক লাগিয়ে দিতে পারত। আপনি কি মনে করেন?

হ্যাঁ, আসলেই সে ছিল সেই প্রতিভাবান সঙ্গীতজ্ঞ। যে কেউ যদি রবিজির অনুসৃত পথ অনুসরণ করতেন তবে সফল হতেন এবং শুভ ছিল তাঁর সন্তান। এটা খুব কষ্টের ব্যাপার যে সে অকালে প্রয়াত হয়েছিল।

কে প-িতজির সবচেয়ে কাছের ছিল?

আমার জানামতে আমি ছিলাম তাঁর সবচেয়ে কাছের। আর একজন, সেটা হচ্ছে তাঁর প্রিয় সেতার।

একজন সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে আনুষ্কাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

আমি সেই মূল্যায়ন করার জন্য নিজেকে যথেষ্ঠ যোগ্য মনে করি না। আমি শুধু রবিজি কী বলতেন সেটা বলতে পারি। তিনি আনুষ্কার সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আমার আনুষ্কা এবং আমার সঙ্গীত এক এবং অভিন্ন।’

নোরা জোন্সের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?

খুবই চমৎকার। সে অত্যন্ত চমৎকার একটি মেয়ে এবং আমি তাকে খুবই পছন্দ করি।

আপনাকে যদি একজন নোরা এবং আনুষ্কার মধ্যে একজনকে বেছে নিতে বলা হয় প্রকৃতি প্রদত্ত মেধাবী সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে তাহলে কাকে বেছে নেবেন?

এটা আসলে আমাকে জিজ্ঞাসা করা যে আমার কোন চোখটি বেশি প্রিয়। তারা দু’জনেই তাঁর সন্তান এবং দু’জনেই অত্যন্ত প্রতিভাময়ী।

আমি নিশ্চিত আপনার এবং প-িত রবি শঙ্করের শত শত গল্প আছে। আমাদের পাঠকদের জন্য কি আপনি তার একটি অন্তত বলবেন?

প্রতিটা দিন ছিল সুন্দর। তিনি আমার জীবনকে আলোকিত করেছেন, এমনকি এখনও করছেন।

আপনি কি মনে করেন গ্রামি জাদুঘরের এই প্রদর্শনী প-িতজির সঙ্গীতের প্রতি কর্মকা-েরই প্রতিদান?

এটা আসলেই অভূতপূর্ব সম্মানের ব্যাপার। প্রদর্শনীটি সারা বছরই চলবে। এই প্রদর্শনীটি দুর্দান্ত করতে গ্রামির লোকজন অনেক পরিশ্রম করেছেন। আমি প-িতজির ব্যবহৃত সেতার, বাদ্যযন্ত্র এবং চিঠি ধার দিয়েছি। আমি আশা করছি এই ধরনের প্রদর্শনী কোন একদিন ভারতেই হবে।

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

০২/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: