আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আলাপচারিতায় রিয়াজ

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

১৯৯৬-এ হঠাৎ সালমান শাহ্র অকালমৃত্যু। তবে সেসময় বাংলা চলচ্চিত্র যার ওপর ভরসা করে সে সময় নিজের অগ্রযাত্রা বজায় রেখেছিল তিনি রিয়াজ, যার মাঝে অনেকেই খুঁজে পেয়েছিলেন সালমান শাহ ঘরানার রোমান্টিক চলচ্চিত্রের একজন যোগ্য উত্তরসূরিকে। ছিলেন বৈমানিক। হঠাৎ যাত্রা শুরু করলেন বাংলা চলচ্চিত্রে। নন্দিত চিত্রনায়িকা ববিতা ছিলেন তার কাজিন। তার সঙ্গেই একদিন এফডিসিতে ঘুরতে যাওয়া এবং সেই সময়ের আরেক নায়ক জসিমের পরামর্শে ‘বাংলার নায়ক’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া। ছবিটি ব্যবসাসফল হলেও মূল ভূমিকায় ছিলেন না তিনি। গুণী নির্মাতা দিলীপ বিশ্বাসের সঙ্গেও কাজ করছেন একটি ছবিতে। ‘অজান্তে’ এবং পরবর্তী ছবি ‘প্রিয়জন’। আর এ ছবিতেই তিনি অর্জন করলেন সালমান শাহ্ এর সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ যা কিনা তার প্রজন্মের নায়কদের ভাগ্যে জোটেনি। তবে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান মোহাম্মদ হান্নানের ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। এই ছবিতে ব্যবহৃত ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানটি আজও সবার মুখে ফেরে। এর পর রিয়াজ অভিনয় করেছেন অসংখ্য হিট ছবিতে, জুটি বেঁধেছেন অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গে। কিন্তু হঠাৎ ধীরে ধীরে অভিনয় কমিয়ে দিলেন তিনি, যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও। সেই বিষয় এবং আরও অনেক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলাপচারিতা নিচে তুলে ধরা হলোÑ

জনকণ্ঠ : চলচ্চিত্রে অভিনয় কমিয়ে দিলেন কেন?

রিয়াজ : ভাল লাগেনি, তাই কাজ কমিয়ে দিয়েছি, কিছু করার জন্য আমি আমার মনের বিষয়টাকে গুরুত্ব দেই, মন থেকে সারা না পেলে আমি কোন কাজ করি না। তবে অভিনয় করছি তো, নাটকে করছি। আগে বড় পর্দায় করতাম এখন ছোট পর্দায় করছি, এই যা। অভিনয়ের ভেতরেই আছি।

জনকণ্ঠ : অভিনয়ে আসার আগে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার অভিনয় দেখে মুগ্ধতা কাজ করত?

রিয়াজ : বাংলাদেশে রাজ্জাক আঙ্কেল, আলমগীর আঙ্কেল আর বিদেশে টম ক্রুজ। এছাড়া শাহরুখ খান ও আমির খানের অভিনয় আমাকে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করেছে।

জনকণ্ঠ : নব্বইয়ের দশকের ছবির সঙ্গে এখনকার ছবির অনেক পার্থক্য। নির্মাণ কৌশল, প্রযুক্তির ব্যবহার, লোকেশন, কস্টিউম সব কিছুতেই এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। তবে কেন এখনকার সিনেমাগুলো শহুরে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে একদম প্রত্যন্ত গ্রাম সব এলাকায় দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে না?

রিয়াজ : পূজার আগে প্রতিমা গড়ে পূজার দিনে প্রতিমায় শিল্পীর যতœ সহকারে শেষ তুলির আঁচড় দেয়ার বিষয়ের সঙ্গে এ ঘটনার তুলনা করা যায়। আমাদের সময়ে এই শেষ আঁচড়টা দেয়া হতো বেশ যতœ করে। ফলে ছবি সব শ্রেণীর দর্শকের কাছে পৌঁছাত। সম্ভবত এখনকার ছবিতে এই শেষ আঁচড় পর্যন্ত যতœ ধরে রাখা হয় না, ফলে উন্নত প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়া সত্ত্বেও আপামর জনতার কাছে ছবি পৌঁছাচ্ছে না।

জনকণ্ঠ : যারা বড় বাজেটের বাইরে ছবি করছে, তারা এখনও এফডিসির সেই চিরায়ত লোকেশনগুলোর বাইরে বের হতে পারছে না। বের হয়ে আসা উচিত কিনা? কেন বের হচ্ছেন না?

রিয়াজ : দেখুন এটা আসলে একজন ডিরেক্টরের জায়গা থেকে চিন্তা করতে হবে। এফডিসির বাইরে শূট করতে গেলে বিভিন্ন রকম ঝামেলা পোহাতে হয়। উৎসুক জনতার ভিড় লেগে থাকে, পুলিশ সিকিউরিটি দিতে পারে না, অনুমতি পেতে ঝামেলা হয়। সোজা কথা, শূটিং ফ্রেন্ডলি পরিবেশ নয় সামগ্রিকভাবে। ফলে পরিচালকরা সেই এফডিসিতেই ঘুরছে। তবে এমন পরিবেশ তৈরি করে দিতে সরকারকে আরও সচেষ্ট হতে হবে।

জনকণ্ঠ : বাংলাদেশে কি ফিল্ম সিটির প্রয়োজনীয়তা এখন অনস্বীকার্য?

রিয়াজ : অবশ্যই, একটা ফিল্ম সিটি এখন অত্যন্ত জরুরী বাংলাদেশের জন্য। গাজীপুরের কবিরপুরে ২০০ একর জমির ওপর একটা ফিল্ম সিটির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু সে কাজ অসমাপ্ত রয়েছে এখনও।

জনকণ্ঠ : বাংলা সিনেমার শুরু থেকে এ পর্যন্ত মূল সঙ্কটের জায়গা কোনটি?

রিয়াজ : বাংলা সিনেমার এখন পর্যন্ত মূল সঙ্কট বলতে আমি যেটা বুঝি, সেটা হলো মন মানসিকতার উন্নয়ন নেই, শিক্ষার অভাব এবং আন্তরিকতার অভাব। এটা শিল্পী, পরিচালক, কলাকুশলী সব লেভেলেই প্রযোজ্য।

জনকণ্ঠ : পরিচালনায় আসার ইচ্ছে আছে?

রিয়াজ : এটা আপেক্ষিক বিষয়। আসলে দুটো বিষয় নির্ভর করে। এক পরিচালক হিসেবে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা। আর দুই প্রোডিউসার পাওয়া। এই দুটি যখন ব্যাটে-বলে মিলবে তখন হয়ত...

জনকণ্ঠ : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

রিয়াজ : আপনাকেও ধন্যবাদ...।

আনন্দকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

০২/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: