মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে নাটম-লে বিশেষ বক্তৃতা ও নাটক প্রদর্শনী

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে নাটম-লে বিশেষ বক্তৃতা ও নাটক প্রদর্শনী
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সবচেয়ে পুরনো ও সর্ববৃহৎ এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ৯৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ বক্তৃতা ও নাটক প্রদর্শনী হয় বুধবার বিকেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটম-লে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ‘সাংস্কৃতিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুরুত্ব’ শীর্ষক বক্তব্য রাখেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অভিনয়শিল্পী ওয়াহিদা মল্লিক জলি। বিভাগের চেয়ারম্যান সুদীপ চক্রবর্তীর শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বক্তৃতানুষ্ঠান।

ড. আখতারুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। কারণ, একটি বাঙালী সংস্কৃতির জাতিসত্তার বিকাশ ঘটেছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই; যার মূল সূত্র হলো ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন। যেখানে নাটক, গান বা প্রতিবাদী সোচ্চারে তখন বাঙালী জাতি এক নতুন দিকনির্দেশনা পায়। তখন সংস্কৃতি অঙ্গনের মূল বিষয় প্রতিভাত হয়েছিল জাতির দেশাত্ম চেতনা ও বোধের ওপর ভিত্তি করে। যুব সমাজ তারই ওপর ভিত্তি করে সংগঠিত হয়েছিল। এবং দেশাত্মবোধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে মানুষ এক হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষাভিত্তিক আন্দোলন, তাই নয়, একটি ভিন্ন জাতিসত্তার গোড়াপত্তন হয় এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। এর মূল জায়গা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত গান, নাটক ও অন্যান্য ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে এর গুরুত্ব পায়।

ড. মোঃ কামাল উদ্দীন বলেন, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে সংস্কৃতিকে সামনে আনতে হয়। পূর্বে ধর্মের কারণে মানুষকে বিভেদ করা হতো। তখন রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের মতো মানুষ তাদের সৃষ্টি দিয়ে মানুষকে এক করার চেষ্টা করেছেন। সাংস্কৃতিক উন্নয়ন না করতে পারলে কোন জাতি সামনে এগুবে না। সে কথা মাথায় রেখে সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে পরিচালনা করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে অতীতে যেমন ভূমিকা রেখেছে ভবিষ্যতেও রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

আলোচনানুষ্ঠানের পর বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্যাঙ্গিক পুঁথি, কিচ্ছা, ঘাটু ও গম্ভীরা পরিবেশনরীতির মিশ্রণে নির্মিত ‘স্বদেশী নকশা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন রহমত আলী। নাটকটির পরিবেশনারীতির উৎস দেশজ নাট্য হলেও এর বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিক উদ্ভাবন প্রক্রিয়ায় রচিত। গানের সঙ্গে অঙ্গভঙ্গি ও সংলাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বিষয়গুলো। যার শুরুটা হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন দিয়ে। নাটকে ভাষা আন্দোলন থেকে পর্যায়ক্রমে উঠে আসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ভাব চেতনার পাশাপাশি সমকালীন আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অসঙ্গতিকেও এই প্রযোজনায় তুলে ধরা হয়েছে তির্যকভাবে। যার মধ্যে সাম্প্রতিক মৌলবাদ ও জঙ্গী তৎপরতাও বিদ্যমান। ইতিহাস ও সমকালীনতার সংশ্লেষে মনুষত্বের জয়কীর্তন এই আখ্যানের প্রধান উপজীব্য। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীবৃন্দ।

শিল্পকলায় এশিয়ান ঘুড়ি প্রদর্শনী ॥ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় শোভা পাচ্ছে রংবেরঙের ঘুড়ি। বর্ণিল এসব ঘুড়ির কোনটাতে ভর করেছে নানা পশু-পাখির অবয়ব। সব মিলিয়ে চিত্রশালার ৬ নম্বর গ্যালারির চারপাশ যেন পরিণত হয়েছে ঘুড়ির রাজ্যে। আর এমন মজার দৃশ্যের উপলক্ষ হচ্ছে চারদিনের এশিয়ান ঘুড়ি প্রদর্শনী। যৌথভাবে আয়োজনটি করেছে ঢাকাবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ১৪টি দেশের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি। বাংলাদেশের ঘুড়ির মধ্যে রয়েছে চোখদার, মালদার, চাটাইদার, পানদার, গায়রা, রোমালদার, পঙ্খিদার ইত্যাদি। বিদেশী ঘুড়িগুলোর অবয়বে উঠে এসেছে বাদুড়, পেঁচা, ফড়িং, বাজপাখি, বিড়াল, মৌমাছি, উড়োজাহাজ, সাপ, প্রজাপতি, ময়ূর, কচ্ছপ, তারা। এমনকি ভূতের অবয়বের ঘুড়িও রয়েছে। এক শ’ পঞ্চশটির অধিক ঘুড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। বুধবার বিকেলে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রদর্শনীর পৃষ্ঠপোষক পান্না গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাবাসী ও বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ শুকুর সালেক, ঢাকাবাসী সংগঠনের মহাসচিব শেখ খোদা বক্স, সহ-সভাপতি শিরিন সুলতানা ও সদস্য রমজান। শিল্পী মিমের একক নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী পর্ব। তিনি ‘ঘুর ঘুর করিয়া উড়ালি’ লোকজ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হয় একই শিল্পীর নৃত্য দিয়ে। তিনি সবশেষে পরিবেশন করেন নজরুলের ‘রুমঝুম রুমঝুম কে বাজায়’ গানের সঙ্গে নৃত্য। প্রদর্শনীতে স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, ভুটান, সিঙ্গাপুর, নেপাল ও আরব আমিরাতের ঘুড়ির দেখাও মিলবে।

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

০২/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: