আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫
অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে
  • জাতীয় প্রেসক্লাবে ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যার অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা, দেশের সম্পদ ধ্বংস করা- এটা কোন আন্দোলন না, রাজনীতিও না। এটা স্রেফ মানুষ খুন। এদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে। বাংলাদেশের সম্মানে আঘাত করে কেউ কিছু বললে আমার সহ্য হয় না। আর দেশের মানুষ হত্যার রাজনীতি যারা করতে চায়, তাদের আর এসব করতে দেয়া হবে না। মানুষ পুড়িয়ে কেউ কোনদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিউজে) যৌথভাবে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা নিরপেক্ষ ও গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করুন। আপনাদের কাছে নিরপেক্ষতা চাই, অন্য কিছু চাই না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময়ই সাংবাদিকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, আবার সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগেরই সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেন। সমালোচনা ভাল হবে, আমাদের দৃষ্টি খুলে দেয়। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, জাতির জনক বাংলার মানুষকে একত্রিত করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতার লক্ষ্য যেন অর্জন হয়। সেই মূল লক্ষ্যটা হচ্ছে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর সেই সুফল হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়া ও স্বাবলম্বী করা।

অনলাইন গণমাধ্যমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশের সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী হোক। আমরা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। তবে কোন কিছু করতে গেলে নীতিমালা প্রয়োজন। শৃঙ্খলার জন্যই নীতিমালা। জাতীয় প্রেসক্লাবকে আধুনিকায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এই প্রেসক্লাব যেন আধুনিক, সুন্দর ও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সে জন্য বহুতল ভবন করুন, প্রতিষ্ঠা করুন। যে সহযোগিতা লাগে আমরা করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। রেমিটেন্স বেড়েছে। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করব। কাজ শুরু করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও দেশের মানুষকে কেউ অসম্মান করবে, তা অন্য কেউ সহ্য করলেও করতে পারে, কিন্তু আমার এটা সহ্য হয় না। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে। মানুষের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি হচ্ছে। এটা হঠাৎ করে আসেনি। আমাদের নীতি ও লক্ষ্য থাকায় আমরা দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। তিনি বলেন, আমরাই বেসরকারী খাতে টেলিভিশন, রেডিও দিয়েছি। এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকে থাকার দক্ষতাও বাড়ছে। আগে সাংবাদিকদের নামে মামলা হলেই গ্রেফতার করা হতো। সে আইনটাও আমরা পরিবর্তন করেছি। আমাদের কাছে যারাই সহযোগিতার জন্য আবেদন করেছে, সরকারে থাকি আর বিরোধী দলে থাকি তাদের উন্নয়নে কাজ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। প্রত্যেক সাংবাদিক ও টেলিভিশন, ৩৫৬টি দৈনিকসহ মোটসহ সাড়ে সাত শ’ পত্রিকা। আমি অনুরোধ করব- প্রত্যেক মালিক এক টাকা করে হলেও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে জমা দিন। কিছু অর্থ ছিট মানি হিসেবে জমা দেন। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী দেন। সবাই মিলে দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আবাসিক ব্যবস্থার জন্য প্লট দিয়েছিলাম, জানিনা প্লট মালিকরা বিক্রি করে দিয়েছেন কিনা। এভাবে প্লট না দিয়ে সব প্লট এক জায়গায় নিয়ে এসে ফ্লাট করে দিলে ভাল হতো। বহু সাংবাদিকের থাকার ব্যবস্থা হতো। ভবিষ্যতে সেই ব্যবস্থা যেন হয়, সে বিষয়টি দেখব। ৮ম ওয়েজ বোর্ড দিয়েছি, আগামীতে ৯ম ওয়েজ বোর্ড যেন হয় সে বিষয়টি দেখব। টেলিভিশনে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের বিষয়টিও দেখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রেস কাউন্সিল শক্তিশালী করার চিন্তাভাবনা করছি। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। গণমাধ্যমের একটা নীতিমালা যেন করা হয়, সে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। নীতিমালার ভিত্তিতে থাকতে ভাল হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের প্রেসক্লাবে উন্নীত করতে যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন তা দেয়ার আশ্বাস দিলে শত শত সাংবাদিক হাততালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আবদুল জলিল ভুইয়া, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কুদ্দুস আফ্রাদ। ইফতার মাহফিল শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী খোলামেলা কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ইফতার মাহফিলে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, তথ্য সচিব মতুর্জা আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

০২/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: