কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চীনের জৈব চিকিৎসা গবেষণা নিয়ে পশ্চিমাদের উদ্বেগ

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

জৈব চিকিৎসার গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করছে চীন। এ লক্ষ্যে প্রচুর গবেষণাগার তৈরি করছে এবং হাজার হাজার বিজ্ঞানীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞানে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের তাড়াহুড়ার ফলে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। কিছু বিজ্ঞানী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, পশ্চিমাদের দীর্ঘ গৃহীত নৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করে যাচ্ছে চীনের চিকিৎসা গবেষকরা। গুয়াংঝুর সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. হুয়াং জুনজিউ (৩৪) নেতৃত্বাধীন দলের মানব ভ্রƒণের জিন পরিবর্তনের পরীক্ষার ফল এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হলে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানী মহলে তোলপাড় শুরু হয়। ক্রিসপার-সিএএস৯ নামের এই প্রযুক্তিটি একদিন বংশগত রোগ নির্মূলে ব্যবহৃত হতে পারে।

কিন্তু এটি চোখের রং বা বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্যগুলো পরিবর্তনে ব্যবহৃত হতে পারে এবং এই বৈশিষ্ট্যগুলো যেন ভবিষ্যত প্রজন্মও পায় সেটিও নিশ্চিত করবে এই প্রযুক্তি। ড. হুয়াং ও তার সহকর্মীরা বেটা থ্যালাসেমিয়া নামে রক্তের রোগ সৃষ্টিকারী জিনের পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। এই পরীক্ষায় ৮৫টি মানব ভ্রƒণ ব্যর্থ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের গবেষকরা বলেছেন, এই সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। মানুষের জিনের পরিবর্তনের মতো গবেষণা ঘৃণার চোখে দেখে পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা। চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং সেন্টার ফর বায়োএথিকসের গবেষণা পরিচালক হসো ইউয়ি বলেছেন, বিজ্ঞানীদের ঐকমত্য প্রয়োজন নেই।

এমনকি চীনা বিজ্ঞানীরাও অপেক্ষার মেজাজে আছে বলেও মনে হয় না। চীন গবেষণার জন্য দ্রুত পরিকাঠামো নির্মাণ করছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাতে জানা গেছে, চীন ২০১৩ সালে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষার উন্নয়নে ১৯ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। যা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের দুই শতাংশের চেয়ে বেশি। ২০১১ সালে চীন এই খাতে ১৪ হাজার কোটি ডলার বিনিযোগ করে, যা জিডিপির এক দশমিক ৮৪ শতাংশ। উদ্বেগের বিষয় হলো বিজ্ঞানীরা এমন এক দেশে জমায়েত হচ্ছে, যেখানে পশ্চিমাদের চাপে মাত্র ১২ বছর আগে বিজ্ঞানীদের নৈতিকতা প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়। শানঝি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল এথিস্ট ডেং রুই বলেছেন, চীন ও পশ্চিমাদের সীমারেখা একই নয়। নীতিমালা হলো সংস্কৃতির একটি প্রশ্ন এবং ঐতিহ্যের অংশ। যা মানবজীবনকে প্রভাবিত করে। - ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

০২/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: