মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অলিম্পিক এক্সেসরিজকে ঘিরে অস্বাভাবিক লেনদেন

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫, ০২:২১ পি. এম.

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ঘিরে আবারো অস্বাভাবিক লেনদেনের ঘটনা ঘটছে। কোন রকম বিচার বিশ্লেষণ ছাড়াই এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী ঝুঁকছে কোম্পানিটির প্রতি। আর এই কারণেই লেনদেন শুরুর মাত্র চার দিনের মধ্যে অলিম্পিক এক্সেসরিজের দর বেড়েছে প্রায় ৫০০ শতাংশ। অভিহিত মূল্যে (১০ টাকা) বাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন দর ৫৮.৯০ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবে কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ৪৮.৯০ টাকা। শতকরা হিসাবে দরবৃদ্ধির এ হার ৪৮৯ শতাংশ। এ ধরনের দরবৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে অতি মূল্যায়িত হয়ে পড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারের দর।

উল্লেখ্য, ২৫ জুন এ কোম্পানির লেনদেন শুরু হয়। তৃতীয় প্রান্তিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির আয়ের সঙ্গে বাজার দর তুলনা করলে পিই অনুপাত (বেসিক) ৩৪.৭৮ এ গিয়ে দাঁড়ায়। ডায়লুটেড হিসাবে পিই অনুপাত হচ্ছে ৪১.৬৭। ২০১৩-এর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের আয় বিবেচনায় পিই গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯.৫-এ। সাধারণত ১৫-এর বেশি পিই অনুপাত হলে ওই কোম্পানির বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এ হিসাবে নতুন এ কোম্পানিটি লেনদেনের শুরুতেই বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অবশ্য পিই অনুপাতে বর্তমানে অনেক কোম্পানির শেয়ারের দরই বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা না করে গুজব বা হুজুগে বিনিয়োগ করে থাকেন বলে বিশ্লেষকদের অভিযোগ রয়েছে। অলিম্পিক এক্সেসরিজে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে লেনদেন শুরুর প্রথম ৫ দিন কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি বা পতনে কোন ধরনের সার্কিট ব্রেকার না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে বড় ধরনের দরবৃদ্ধি ঘটতে দেখা গেছে। শেয়ারের দরে এ ধরনের দরবৃদ্ধি ঠেকাতে গত ৬ মে কমিশন সভায় নতুন কোম্পানির লেনদেনে সার্কিট ব্রেকারের সময় ৫ দিনের পরিবর্তে দুই দিনে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি কার্যকরে ১৪ মে অফিস আদেশ জারি করে কমিশন। ফলে অলিম্পিক এক্সেসরিজের লেনদেন শুরুর প্রথম দুই দিন সার্কিট ব্রেকার ছিল না। কিন্তু তৃতীয় দিন থেকে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হয়েছে কোম্পানির শেয়ার দরে। দুই দিনই সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। সার্কিট ব্রেকার আরোপ করেও দর ঠেকানো যাচ্ছে না কোম্পানিটির।

এ দর বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, শেয়ার দর ৫৮.৯০ টাকা হওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না। দর বাড়ার মতো কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। আমাদের ব্যবসা স্বাভাবিক গতিতে চলছে, এক্সট্রা অর্ডিনারি কোনো পরিবর্তন নেই। এমনকি বিগত কোনো বছরের লভ্যাংশ বকেয়া নেই, যার জন্য দর বাড়তে পারে। আইপিও প্রসপেক্টাসে কোম্পানির পক্ষ থেকে শেয়ারের দর ২০ টাকাও যে হবে না, সেটি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসপেক্টাস অনুযায়ী ‘হিস্টোরিক্যাল আর্নিংস বেজড ভ্যালু পার শেয়ার’ পদ্ধতিতে শেয়ারের দর হতে পারে ১৮.৬৮ টাকা। আর ‘নেট এ্যাসেট ভ্যালু পার শেয়ার’ পদ্ধতিতে ১৬.৩৪ টাকা। হিস্টোরিক্যাল আর্নিংস বেজড ভ্যালু পদ্ধতিতে একটি কোম্পানির বিগত ৫ বছরের ওয়েটেড শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ও শেষ তিন মাসের গড় মার্কেট পিই নেওয়া হয় এবং এই দুইয়ের গুণফল হচ্ছে শেয়ারের দর। গত ৫ বছরে কোম্পানিটির ওয়েটেড ইপিএস ছিল ১.৪১ টাকা আর শেষ তিন মাসের গড় পিই হচ্ছে ১৩.২৫ টাকা। এ হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারের দর হয় ১৮.৬৮ টাকা। অপরদিকে নিট এ্যাসেট ভ্যালু পদ্ধতিতে একটি কোম্পানির শেয়ার প্রতি যে পরিমাণ সম্পদ থাকে সে হিসাবে শেয়ারের দর নির্ধারণ করা হয়। অলিম্পিক এক্সেসরিজের শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৬.৩৪ টাকা হিসাবে শেয়ারের দরও হতে পারে ১৬.৩৪ টাকা।

অবশ্য কোম্পানিটি কোনো প্রিমিয়াম ছাড়াই অভিহিত মূল্যে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। কিন্তু লেনদেন শুরুর প্রথম চার দিনের মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ার দর প্রায় ৫ গুণ বেড়ে ৫৮.৯০ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫, ০২:২১ পি. এম.

০১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: