রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্যারাগুয়েকে শোচনীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫, ১২:০৯ পি. এম.
প্যারাগুয়েকে শোচনীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ল্যাটিন আমেরিকার বিশ্বকাপ খ্যাত ‘কোপা আমেরিকা’-এর ফাইনালে অনায়াসেই নাম লিখিয়েছে এ আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপাধারী ‘লা আলবেসেলেস্তে’ খ্যাত আর্জেন্টিনা। বুধবার ভোরে চিলিতে ৪৪-তম কোপা আমেরিকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মিউনিসিপ্যাল ডি কনসেপশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা ৬-১ গোলে শোচনীয়ভাবে হারায় দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ‘হোয়াইট এ্যান্ড রেড’ খ্যাত প্যারাগুয়েকে। ‘বি’ গ্রুপে যে আর্জেন্টিনার কাছে দুই গোল খেয়ে দুই গোল শোধ দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল প্যারাগুয়ে, সেই দলই কিন না শেষ চারের লড়াইয়ে গুণে গুণে ছয় গোল খেয়ে করলো অসহায় আত্মসমপর্ণ! সেমির ম্যাচে এ হারের কারণে কোপা আমেরিকা আসরে আর্জেন্টিনাকে প্রথমবারের মতো হারানোর স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল প্যারাগুয়ের। আগামী ৫ জুলাই ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে এ আসরের চারবারের রানার্সআপ স্বাগতিক চিলির। ২০০৭ সালের পর এ আসরে আবারও ফাইনালে উন্নীত হলো ডিয়েগো ম্যারাডোনার দেশ। এটা তাদের ২৭তম ফাইনাল। পক্ষান্তরে অষ্টমবারের মতো ফাইনাল খেলার সুযোগ হারালো প্যারাগুয়ে। এ নিয়ে দুই দলের ৯১তম লড়াইয়ে ৪৮ বার জিতলো আর্জেন্টিনা (প্যারাগুয়ে জিতেছে ১৪ ম্যাচে)। আর কোপা আমেরিকায় এটা ছিল উভয় দলের চতুর্বিংশতম দ্বৈরথ। আর্জেন্টিনার এটা উনবিংশতম জয় (প্যারাগুয়ে এখনও জয়হীন!)।

প্যারাগুয়ের মূল সর্বনাশটা হয় তাদের দুই নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড ডার্লিস গঞ্জালেস এবং অধিনায়ক সান্তা ক্রুজ চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়াতে (তখন তারা পিছিয়ে ২-১ গোলে)। এতে দলীয় শক্তি অনেকটাই কমে যায় তাদের। এর খেসারত দিতে হয় একা হালিরও বেশি গোল হজম খেয়ে!

৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলে আর্জেন্টিনা। আর ৪-২-২ ফর্মেশনে প্যারাগুয়ে। শুরুতে উভয় দলই খেলে গতিশীল ও আক্রমণাতœক ফুটবল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বল ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। তুলনামূলকভাবে আর্জেন্টিনাই গোল করার সুযোগ বেশি নষ্ট করে। পক্ষান্তরে প্যারাগুয়ে খেলে কাউন্টার এ্যাটাক স্টাইলে। দুই গোল খেয়েও হতোদ্যম হয়নি প্যারাগুয়েনরা। তবে তৃতীয় গোল হজমের পরই ভেঙ্গে পড়ে তাদের সব প্রতিরোধ। এ ম্যাচে গোল না পেলেও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি দলের প্রায় প্রতিটি গোলের রূপকার ছিলেন। তিনিই ছিলেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

১৫ মিনিটে এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে ফাউল করা হলে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। প্যারাগুয়ের ডি-বক্সের ভেতর হাওয়ায় ভাসিয়ে ফ্রি কিক নেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। প্যারাগুয়েন ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন। বল পান জটলার মধ্যে সুযোগ সন্ধানী মার্কোস রোজো। কালবিলম্ব না করে এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বা পায়ের গড়ানো শটে পরাস্ত করেন প্যারাগুয়েন গোলরক্ষক জাস্টো ভিলারকে (১-০)। ২৭ মিনিটে মেসি লম্বা থ্রু পাস দেন সতীর্থ মিডফিল্ডার জাভিয়ের পাস্তোরোকে। ডি বক্সে ঢুকে পাস্তোরো ডান পায়ের গড়ানো শটে পরাভূত করেন আগুয়ান প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে। তিনি প্রাণপণ ঝাঁপিয়ে পড়েও বল রুখতে পারেননি (২-০)। ৪৩ মিনিটে ডি-বক্সে বল সতীর্থ ব্রুনো ভালদেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বা পায়ের দূরপাল্লার তীব্র উড়ন্ত শটে গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোকে পরাস্ত করে ব্যবধান কমান প্যারাগুয়েন ফরোয়ার্ড লুকাস ব্যারিওস (১-২)। ৪৭ মিনিটে পাস্তোরের কাছ থেকে থ্রু পাস পান ডি-বক্সের বা প্রান্তে ঢুকে পড়া ডি মারিয়া। বা পায়ের কৌনিক গড়ানো শটে গোল করে ব্যবধান আবারও বৃদ্ধি করেন মারিয়া (৩-১)। ৫৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে চমৎকারভাবে প্রতিপক্ষের তিনজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে মেসি পাস দেন জাভিয়ের পাস্তরোকে। পাস্তুরো শট নিলে তা প্রতিহত করেন গোলরক্ষক। বল চলে যায় ডি মারিয়ার পায়ে। দেরি না করে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে (৪-১)। ৮০ মিনিটে মেসি পাস দেন মারিয়াকে। তিনি ডি-বক্সের বা প্রান্ত দিয়ে ঢুকে বা পায়ের যে উড়ন্ত ক্রসটি ফেলেন, তা থেকে মাথা ছুঁইয়ে জালে বল পাঠান প্যারাগুয়েন ডিফেন্ডারদের কড়া পাহাড়ায় থাকা ফরোয়ার্ড সার্জিও এ্যাগুয়েরো (৫-১)। ৮৩ মিনিটে প্যারাগুয়ের বক্সে আবারও মেসির পাস থেকে বা পায়ের গড়ানো শটে লক্ষ্যভেদ করে প্রতিপেক্ষর পরাজয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন এ্যাগুয়েরোর বদলী হিসেবে নামা আরেক ফরোয়ার্ড গঞ্জালো হিগুয়াইন (৬-১)।

ব্রাজিলিয়ান রেফারি সান্দ্রো রিক্কি খেলা শেষের বাঁশি বাজালে ফাইনালে নাম লেখানোর আনন্দে ফেটে পড়ে এ আসরে সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনা। আর এত বিশাল ব্যবধানে হেরে অধিক শোকে যেন পাথর বনে যায় প্যারাগুয়েন ফুটবলাররা! আগামী ৯ জুলাই আর্জেন্টিনার ১৯৯তম স্বাধীনতা দিবস। রূপালী পর্বতমালার দেশ কি পারবে স্বাধীনতা দিবসের আগে কোপার শিরোপা জিতে দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ পুরস্কার উপহার দিতে? পারবে কি দীর্ঘ ২৩ বছর পর অধরা কোপার শিরোপা করায়ত্ত করতে?

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫, ১২:০৯ পি. এম.

০১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: