মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বরিশালে নিম্নমানের গম ॥ ওএমএস কার্যক্রম বন্ধ

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ নিম্নমানের গম সরবারাহ করায় গত এক মাস ধরে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ওএমএস এর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিভাগের প্রত্যেক উপজেলায় অবস্থিত এলএসডি থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ‘জিরা’ গমের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ইতোমধ্যে বরিশালের বিভিন্ন সরকারী দফতর থেকে রেশনে ভাল মানের গম সরবরাহের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সরকার ব্রাজিল থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করেছেন, যা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে সরবারাহ করা হয়। সোমবার পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে মোট ১৪ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন ‘জিরা’ গম মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় রয়েছে ২ হাজার ৮৭৪ মেট্রিক টন, ঝালকাঠীতে ৯শ’ ৬৩ মেট্রিক টন, পিরোজপুরে ২ হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন, ভোলায় ২ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন, পটুয়াখালিতে ২ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন এবং বরগুনায় ৩ হাজার ৭৯৭ মেট্রিক টন। ভোক্তারা জানান, চলতি বছরে ব্রাজিল থেকে যে গম আমদানি করা হয়েছে তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এটির আকার সরু হওয়ায় ‘জিরা’ গম নামে পরিচিত, যা ব্রাজিলে এ্যানিমেল ফুড (গো-খাদ্য) হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে তারা শুনেছেন। ওই গম থেকে উৎপাদিত আটা গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। ফলে ওএমএস ডিলারা ওই গম থেকে উৎপাদিত আটা গ্রহণ করছেন না। অপরদিকে বিভিন্ন সরকারী দফতরও ওই গম গ্রহণে আপত্তি জানাচ্ছে। এছাড়া খাদ্য বিভাগের তালিকাভুক্ত মিল মালিকরাও ওই গম থেকে আটা উৎপাদন করতে চাইছেন না। সূত্র মতে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও জেলা মিলে ১৪ জনসহ অন্য পাঁচ জেলায় ৯ জন করে সর্বমোট ৫৯ জন ওএমএস ডিলার রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রতিদিন এক মেট্রিক টন করে গম ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রির জন্য দেয়া হয়। সেই হিসেবে প্রতিদিন বরিশাল বিভাগে ৫৯ টন গম বিতরণের কথা। আর এ থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় হাজার দরিদ্র মানুষ উপকৃত হতো। কিন্তু ব্রাজিলের ‘জিরা’ গম থেকে নিম্নমানের আটা উৎপাদন হওয়ায় ওএমএস ডিলারসহ বিভিন্ন সরকারী দফতর রেশনের জন্য ওই গম গ্রহণ করতে চাচ্ছেন না।

জামালপুরে নিম্নমানের

গমে তৈরি হচ্ছে ময়দা

নিজস্ব সংবাদদাতা জামালপুর, থেকে জানান, ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের গম যাচ্ছে জামালপুরের ময়দার মিলে। আর নিম্নমানের এই গম কম দামে কিনে ভাল গমের সঙ্গে মিশিয়ে ময়দা তৈরি করে মিল মালিকরা লাভবান হলেও প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। খাদ্য বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম থেকে জামালপুর সিংহজানী খাদ্য গুদামসহ জেলার ৮টি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হয়। সরকারীভাবে আমদানিকৃত এসব গম কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী (কাবিখা), টিআর ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

প্রতি মেট্রিক টন গম সরকারী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৫শ’ টাকা। কিন্তু এসব গম নিম্নমানের হওয়ায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কালোবাজারিদের কাছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা টন দরে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়।

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫

০১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: