হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চাই পেস বোলিং অলরাউন্ডার

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫
  • শাকিল আহমেদ মিরাজ

রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও যেটি কল্পনা করা যায়নি, মাঠে সেটিই করে দেখাচ্ছেন মাশরাফি-বিন মর্তুজা, শাকিব-আল হাসানরা। একে একে টাইগার থাবায় নাস্তানাবুদ তাবত সব পরাশক্তি। দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানের সঙ্গে ‘হোয়াইটওয়াশ’ নিউজিল্যান্ড। ওয়ানডেতে সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মাহাত্ম্য যেন স্বপ্নকে ছাড়িয়ে যাওয়া...। এই মুহূর্তে এমন নেতিবাচক প্রসঙ্গ তুলে ধরতে একটু বাধে বৈকি! তবে সেটি সহজ করে দিলেন খোদ প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। স্বীকর করলেন, দলে খাঁটি পেস বোলিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ভাবতে ভাল লাগে, এত এত সাফল্যে মাঝেও নিজেদের দুর্বলতা, সংশোধনের বিষয়গুলো থিঙ্কট্যাঙ্কদের মাথায় আছে।

প্রয়োজনীয়তাও নয় কি? উপমহাদেশে বিশ্বকাপ ট্রফি এসেছিল ভারতের হাত ধরে। ১৯৮৩’র সেই আয়োজনে ইংল্যান্ড কাঁপিয়ে ছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার কপিল দেব। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানের সাফল্যে একই পরিচয়ে অধিনায়ক ইমরান খানের তুরুপের তাস হয়ে ছিলেন আরেক পেস বোলিং অলরাউন্ডার ওয়াসিম আকরাম। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জেতেনি, কিন্তু নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে একই ভূমিকায় আমরাও তো একজন কিংবদন্তি পেয়েছিলাম! ১৯৯৯Ñএ বিশ্বকাপে পাওয়া প্রথম সুযোগেই পাকিস্তানকে হারানো ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের ‘নায়ক’ ছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার খালেদ মাহমুদ সুজন। যিনি গত বিশ্বকাপ হয়ে এখনও আমাদের জাতীয় দলের ম্যানেজারের ভূমিকায়।

আহ্ সেই সুজনের কথা মনে হলে কষ্টটা আরও বেড়ে যায়! পুঁচকে বাংলাদেশের পুঁচকে এক ‘মিনি-অলরাউন্ডার’ কিভাবেই না পাকিস্তানের অহংবোধ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিলেন। বিশাল হারের পর পায়ের চিপায় লেজ গুটিয়ে ওয়াসিম আকরাম বলেছিলেন, কি হয়েছে, ছোট ভাইদের কাছেই তো হেরেছি! আফসোস, মাঝে ১৬টি বছর কেটে গেল, কত নদীর জল কত ঘাটে গড়ালো, বিশ্বসেরা হলো আমাদেরই শাকিব-আল হাসান, অথচ বাংলাদেশ একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার পেল না! এ যেন মোড়লের সেই ব্যামোর মতো,‘সুখী মানুষ তো পেলাম, কিন্তু জামা পেলাম না!’ কষ্টটা সুজনকেও ছুঁয়ে যায়। বছরের শুরুতে বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাই নিজ উদ্যোগে এ নিয়ে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলাপ করেছেন তিনি।

‘পেস বোলিং অলরাউন্ডার যে একেবারে নেই, আমি তা বলব না। সমস্যা হচ্ছেÑ প্রয়োজনের সময় ওরা নিজেদের পারফর্মেন্সটা করতে পারছে না। নইলে ফরহাদ রেজার কথা ধরুন, ছেলেটা যথেষ্ট ভাল পেস বোলিং অলরাউন্ডার। অথচ টি২০ বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে পারফর্ম করতে পারল না। লিগে আলাউদ্দিন বাবু ভাল করছে, মুক্তার আলী আছে, জিয়াউর রহমানকে নিয়েও আমাদের আশা কম নয়।’ বিশ্বকাপের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বলেছিলেন ম্যানেজার। প্রথামিক দলে থাকলেও চূড়ান্ত দলে থাকার মতো পারফর্মেন্স দেখাতে পারেননি জিয়া, মুক্তাররা। বাবুকে দুরবিন দিয়ে খুঁজতে হয়! শাকিবের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, ঘূর্ণিবলে আরাফাত সানি, তাইজুল ইসলামের সঙ্গে বল হাতে স্পিনিং-অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও নাসির হোসেনদের দুরন্ত নৈপুণ্যে সাফল্য ঠিকই আসছে। বিপরীতে পেস অলরাউন্ডারের অভাবটা হয়েছে তীব্র থেকে তীব্রতর।

কন্ডিশন যাই হোক, সাদা পোশাকের টেস্টে ভাল মানের দুজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজনীয়তা এখন বলতে গেলে ফরজ হয়ে গেছে! উদাহরণ খুঁজতে খুব পেছনে যেতে হবে না। পাকিস্তান সিরিজে শাহাদাত হোসেন ইনজুরিতে পরলে ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্টে মোহাম্মদ শহীদ ছিল একমাত্র পেসার। নির্বাচকদের পরতে হয় কঠিন সমালোচনার মুখে।

অথচ মুক্তার, ফরহাদ, বাবু বা রাজুর মতো একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকলে একাদশে আসত দারুণ ভারসাম্য। মূল কথা খেলাতে হবে, নইলে তৈরি হবে কী করে? বিশ্ব ক্রিকেটের দিকে তাকিয়ে আজ সাধারণ বাংলাদেশী ভক্তেরও কষ্টটা বেড়ে যায়। আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশ অলরাউন্ডারের সাতজনই পেস বোলিং অলরাউন্ডার, যারা বিশ্ব ক্রিকেট ‘ডমিনেট’ করছেন। ভারনন ফিল্যান্ডার, মিচেল জনসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, শেন ওয়াটসন প্রত্যেকে নিজ দেশের সাফল্যে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সুযোগ দিতে হবে। বিশ্লেষকরাও তাই মনে করছেন। সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান যেমন বলেন, ‘কেবল পিচ ও কন্ডিশনের দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার উপায় নেই।

টেস্টে দিনের পর দিন টেস্টে নেতিবাচক দল না গড়ে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখতে হবে। একাদশে ভারসাম্য আনতে অবশ্যই তৃতীয় সীমার হতে হবে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। নইলে এমন একদিন আসবে ঘরোয়া ক্রিকেটেও আর ওদের খুঁজে পাওয়া যাবে না! সবাই শাকিব-মাহমুদুল্লার মতো স্পিনিং-অলরাউন্ডার হতে চায়। তরুণদের ‘আইডল’ হিসেবে একজন খালেদ মাহমুদ সুজন তৈরি করতে হবে। আমি তো মনে করি সঠিক পরিচর্যা হলে আমাদের দেশে ম্যাথুস-ওয়াহাবের চেয়ে ভাল মানের পেস বোলিং অলরাউন্ডার তৈরি সম্ভব।’ ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপে পেস বোলিং অলরাউন্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫

০১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: