কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘সাদিয়া আপুর মতো শূটার হতে চাই’

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫
  • রুমেল খান

বাবা সৈয়দ সরওয়ার আলম (চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রশাসনিক অফিসার), মা কাজী সালেহা বেগমের (গৃহিণী) পাঁচ সন্তানের সবাই খেলোয়াড়। তিন ছেলে ব্যাডমিন্টন খেলে (শাটলার), বাকি দুই মেয়ে শূটার। শূটিং কন্যার কনিষ্ঠজন সৈয়দা সায়মা সুলতানা। এই প্রতিভাময়ী শূটারের মুখেই শোনা গেল খেলোয়াড় ভাই-বোনের সারসংক্ষেপ, ‘আমরা তিন ভাই, দুই বোন। বড় ভাই সৈয়দ সালেহ মোঃ সাজ্জাদউল্লাহ্ আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। ছোট ভাই সৈয়দ শাকের মোঃ সিবগাতউল্লাহ্ও ব্যাডমিন্টন খেলে। সে জেলা চ্যাম্পিয়ন। একেবারে ছোট ভাইও শাটলার। ও কেবল খেলাটা শিখছে। পড়ে ক্লাস থ্রিতে। ওর নাম সৈয়দ সাদিক মোঃ সিফাতউল্লাহ গালিব। আর বড় বোন জাতীয় শূটার সৈয়দা সাদিয়া সুলতানা।’

২০০৪ সালের ২৩ জুন। তারিখটা এখনও মনে আছে সায়মার। কেননা ওই দিন থেকেই চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের হয়ে শূটিং ক্যারিয়ার শুরু করার পথে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রাইফেল। বড় বোন সাদিয়াও একই দিন শুরু করেছিলেন শূটিং ক্যারিয়ার।

দুই বোন একই সঙ্গে শূটিং ক্যারিয়ার শুরু করলেও আজ অনুজ সহোদরাকে পেছনে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন অগ্রজ। কারণটা কী? ‘আপু আমার চেয়ে বয়সে দুই বছরের বড়। তাই সে আমার চেয়ে অনেক পরিপক্ব ছিল বলে চাপ সামলে সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছেন। পেয়েছেন অনেক সাফল্য। আমি পারিনি। তাই বলে সামনের দিনগুলোতেও যে পারব না, তা নয়। তাছাড়া আমার পিছিয়ে পড়ার আরেকটা কারণ হচ্ছে পড়াশোনার প্রচ- চাপ।’ উল্লেখ্য, এখন চট্টগ্রামের পুলিশ ইন্সটিটিউশনের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সায়মা। ‘কমপক্ষে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ার ইচ্ছা আছে আমার।’ অভিলাষ সায়মার।

কার উৎসাহে শূটিং বেছে নেয়া? ‘মূলত বাবার অনুপ্রেরণাতেই আমার শূটিং খেলায় আসা।’ সাদিয়ার ইভেন্ট ১০ মিটার এয়ার রাইফেল। এই ইভেন্টে তার উল্লেখযোগ্য ফলগুলো হলো : ২০১২ সালে আন্তঃস্কুল শূটিংয়ে চতুর্থ, ওই বছরই জাতীয় শূটিং প্রতিযোগিতায় (জুনিয়র) তৃতীয়, ২০১৪ সালে জাতীয় এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে (জুনিয়র) সপ্তম, ২০১৫ সালে জাতীয় শূটিং প্রতিযোগিতায় অষ্টম স্থান অধিকার করা। ২০১৩ সালে? ‘২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসে অংশ নিয়ে মোটেও ভাল রেজাল্ট করতে পারিনি। কারণ সে সময় আমার পরীক্ষা চলছিল।’ সায়মার ব্যাখ্যা।

শূটিংয়ে কাকে আদর্শ হিসেবে মানেন? ‘বেশি দূর যাব না। আমার ঘরেই আছে আদর্শ শূটার। তিনি আমারই বড় বোন সাদিয়া। তাকে ছাড়িয়ে যেতে না পারলেও অন্তত তার সমপর্যায়ের শূটার হওয়াই আমার স্বপ্ন। ওর কাছ থেকে আমি সবসময়ই পরামর্শ পাই। সেটা শূটিং তো বটেই, পড়াশুনাসহ প্রাত্যহিক জীবনের সব ক্ষেত্রেই।’

বড় বোনের হাতে মার খাওয়ার অভ্যাস আছে? সায়মা মুচকি হেসে জানান, ‘ভুল বা অন্যায় করলে অবশ্যই আপু শাসন করেন, বোঝান। তবে আদরও করেন অনেক।’

শূটিং নিয়ে ভবিষ্যত লক্ষ্য, ‘অলিম্পিক গেমসে খেলার স্বপ্নসাধ পূরণ করতে চাই। এজন্য পরিশ্রমের শেষ পর্যন্ত যেতে রাজি আছি।’ দৃঢ়প্রত্যয়ী কণ্ঠ সায়মার। সেই সঙ্গে যোগ করেন, ‘অনেক শূটারকেই স্পন্সর করে থাকে অনেক প্রতিষ্ঠান। তেমনি আমাকেও যদি কোন প্রতিষ্ঠান পৃষ্ঠপোষকতা করতে এগিয়ে আসত, তাহলে আমার রেজাল্ট আরও ভাল হতো। এছাড়া ভাল কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ পেলে আরও উন্নত হতো আমার স্কোর।’

কথায় আছে, যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে। শুধু শূটারই নন, সায়মা একজন ভাল রাঁধুনীও বটে! এ প্রসঙ্গে তার সলজ্জ উত্তর, ‘মা আমাদের দুই বোনের কাউকেই কোন কাজ করতে দেন না। তবে তিনি কখনও অসুস্থ হয়ে পড়লে তখন আমিই রান্নাবান্না করি। সব ধরনেই রান্না করাতেই বলতে পারেন পারদর্শী।’

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫

০১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: