কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ঈদে দক্ষিণের যাত্রীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে ১১ নতুন লঞ্চ

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫
  • বিআইডব্লিউটিসির বিশেষ সার্ভিস ১৪ জুলাই থেকে ॥ অনলাইনে টিকেট, বিশেষ নিরাপত্তা

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নাড়ির টানে শিকড়ের কাছে রাজধানী থেকে ফিরতে নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ যাত্রীর যাতায়াতের জন্য প্রধান মাধ্যম লঞ্চ। দুই ঈদেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরেফেরা মানুষের চাপ থাকে কয়েকগুণ বেশি। তাই দক্ষিণাঞ্চলের ঘরেফেরা যাত্রীদের চাপ সামলাতে অন্যান্য বছরের মতো এবারও ঈদে যুক্ত হচ্ছে ১১টি নতুন লঞ্চ। অপরদিকে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে এবারের ঈদে রাষ্ট্রীয় নৌযান বিআইডব্লিউটিসি’র ঈদ উৎসবের বিশেষ সার্ভিস ১৪ জুলাই থেকে শুরু হবে। এবারই সর্বপ্রথম জাহাজের টিকেট বিক্রি হবে অনলাইনে। ঈদের পর চারদিন জাহাজের স্পেশাল সার্ভিস অব্যাহত থাকবে। তবে যাত্রী চাহিদা থাকলে স্পেশাল সার্ভিস আরও দুইদিন বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ সার্ভিস শুরুর আগেই উদ্বোধন করা হবে বিআইডব্লিউটিসি’র নতুন যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি। ফলে ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের সেবা দেয়ার জন্য থাকছে বিআইডব্লিউটিসি’র বহরে সাতটি জাহাজ।

সূত্রমতে, যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ইতোমধ্যেই নৌ-রুটে চলাচল শুরু করেছে অত্যাধুনিক সুরভী-৯, সুন্দরবন-৭ ও ঈগল নামের নতুন লঞ্চ। অন্যসব লঞ্চ ও জাহাজ পর্যায়ক্রমে যাত্রীবহরে যুক্ত হবে। এছাড়াও যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ঈদ উপলক্ষে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও বরিশাল নৌবন্দর এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদে টার্মিনাল ও তার আশপাশের এলাকাজুড়ে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। বরাবরের মতো এবারও বাড়ানো হবে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার আওতা। সূত্রে আরও জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের প্রথম শ্রেণীর কেবিনের টিকেট বুকিংয়ের জন্য ৩০ জুন থেকে লঞ্চের কাউন্টারে চাহিদাপত্র জমা নেয়া শুরু হয়েছে। ২ জুলাই পর্যন্ত ডাবল ডেকার লঞ্চের কাউন্টারে টিকেট বুকিংয়ের জন্য চাহিদাপত্র জমা নেয়া হবে। ঢাকা ও বরিশাল নৌবন্দর ছাড়াও বেসরকারী লঞ্চ কোম্পানির কাউন্টারগুলোতে আগামী ২০ রমজানের পর থেকে লঞ্চের আগাম টিকেট বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক লঞ্চ মালিক। যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্পেশাল সার্ভিসের অজুহাতে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও যাত্রী দুর্ভোগ চরমে ওঠে। ঈদ ও কোরবানির পূর্বে লঞ্চের একটি টিকেট যেন সোনার হরিণ হয়ে যায়। এসব মুহূর্তে লঞ্চ মালিকরা লঞ্চের কেবিনের টিকেট কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। ঢাকা-বরিশাল ছাড়াও ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ৪৩টি রুটে বেসরকারী কোম্পানির ডাবল ডেকার লঞ্চ চলাচল করে। ওইসব রুটে কোন সরকারী জাহাজ চলাচল না করায় সিংহভাগ যাত্রীর বেসরকারী লঞ্চের ওপরই ভরসা করতে হয়। যাত্রীরা আরও জানিয়েছেন, তারা ঘরে ফেরার একটি টিকেট পেতে এখনই বিভিন্ন মহলে তদ্বির লবিং শুরু করেছেন।

এ ব্যাপারে লঞ্চ মালিক সমিতি বাংলাদেশ যাত্রী পরিবহন সংস্থার (যাপ) সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তারা সংগঠনের সদস্যদের (লঞ্চ মালিক) নিয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে স্পেশাল সার্ভিসের দিনক্ষণ ও ভাড়ার বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। সুরভী নেভিগেশনের পরিচালক রেজীন উল কবির জানান, ঈদের নিয়মিত ও বিশেষ সার্ভিসের প্রথম শ্রেণীর কেবিনের টিকেটের জন্য গতকাল ৩০ জুন থেকে আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করা যাবে। পরে লটারি অথবা আবেদনকারীদের মধ্যে সমঝোতা করে কেবিনের টিকেট বিক্রি করা হবে। সালমা শিপিং লাইন্সের চেয়ারম্যান কীর্তনখোলা লঞ্চের মালিক মঞ্জুরুল আহসান জানান, তার কোম্পানির স্পেশাল সার্ভিস ও নিয়মিত সার্ভিসের টিকেট আগে এলে আগে পাওয়া যাবে, এমন শর্তে বিক্রি করবেন। তবে কালোবাজারে টিকেট যাবে না। যাত্রীর নাম ঠিকানা ও পরিচয় ছাড়া কাউকে কীর্তনখোলা কোম্পানি টিকেট দিবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষের নৌ-নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, যাত্রীদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা দিতে ইতোমধ্যে লালবাগ জোনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গেও কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তারাও যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। লঞ্চগুলো যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করতে না পারে সেজন্যও বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং সেল তদারকি করবে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারী সাত জাহাজ ॥ যাত্রীদের সুবিধার্থে এবার ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ঈদে রাষ্ট্রীয় নৌযান বিআইডব্লিউটিসি’র ঈদ উৎসবের বিশেষ সার্ভিস শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই। ঈদের পরে চারদিন স্পেশাল সার্ভিস অব্যাহত থাকবে। তবে যাত্রী চাহিদা থাকলে স্পেশাল সার্ভিস আরও দুইদিন বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ সার্ভিস শুরুর আগেই উদ্বোধন করা হবে বিআইডব্লিউটিসি’র নতুন যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি।

বিশেষ নিরাপত্তা ॥ ঈদ সামনে রেখে সক্রিয় হওয়া মৌসুমী অপরাধীদের ধরতে মাঠে নেমেছে বরিশালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিবারের ন্যায় এবারও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ অপরাধ রুখতে অনেকটা আগেভাগেই তৎপরতা শুরু করেছেন।

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫

০১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: