কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীতে জ্বর সর্দি-কাশির প্রকোপ

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫
  • ডাঃ এবিএম আবদুল্লাহর এ সংক্রান্ত নিবন্ধ ‘চতুরঙ্গ’ পাতায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মৌসুমী জ্বরের সময়। সর্দি-কাশি জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে রাজধানীতে। চিকিৎসকরা এমন অবস্থাকে বলছেন ‘ মৌসুমী জ্বর’। ভাইরাসজনিত কারণে এমনটি হয়ে থাকে। তাই কেউ কেউ এটাকে ভাইরাস জ্বরও বলে থাকেন। সব বয়সের মানুষই এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। নগরীর প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এ জ্বরে আক্রান্তরা ভিড় জমাচ্ছে। রোগীর কাশি অনেক সময় রূপ নিচ্ছে শ্বাসকষ্টে। কেউ কেউ আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমী জ্বর নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ জ্বরের চিকিৎসা লাগে না। এ জ্বরে আক্রান্ত হলে মাথা ব্যথা হতে পারে। তিন দিন পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক হবে না। প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। জ্বরে আক্রান্ত রোগীর গা হালকা ঠা-া পানি দিয়ে দিন কয়েকবার মুছে দিতে হবে। তিন দিন পরও জ্বর না কমলে, ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। রোগীকে স্বাভাবিক খাবার দেয়া অব্যাহত রাখতে হবে। ছোঁয়াচে হওয়ায় এ ধরনের জ্বর থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

নগরীতে সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্তের হিড়িক পড়েছে। একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের কোন সদস্যই রেহাই পাচ্ছে না। সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু, জন্ডিসসহ যে কোন ভাইরাসজনিত জ্বরকে ‘ভাইরাস জ্বর’ বলা হলেও সাধারণভাবে লোকজন ভাইরাস জ্বর বলতে ‘ফ্লু’কেই বোঝায়। এজন্য প্রধানত দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস। ভাইরাস আক্রমণের দুই থেকে সাত দিন পর এ জ্বর হয়। এ জ্বর হলে শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, শরীরে ও গিঁরায় ব্যথা, খাওয়ায় অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়া হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে টাইপ ‘বি’ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণে পেটব্যথাও হতে পারে। তিন প্রকার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আবার অনেক টাইপ আছে, যেগুলো অনবরত চরিত্র বদলায়। তাই উল্লিখিত লক্ষণগুলোর প্রতিটি সব রোগীর যে থাকবে তা নয়, আবার একেক রোগীর ক্ষেত্রে এর তীব্রতাও একেক রকম হতে পারে। কারও হয়তো তিন দিনেই জ্বর ভালো হয়ে গেল, কারও আবার ১০ থেকে ১৪ দিনও লাগতে পারে। ভাইরাস জ্বর বাতাসের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি থেকে হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ঠা-া লেগে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে এ রোগ হয়। তাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও রোগ গবেষণা কেন্দ্রের (আইইডিসিআর)-এর জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক মুশতাক হোসেনও সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, মার্চ-এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মৌসুমী অসুখের প্রকোপ থাকে। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু ওষুধপত্র সেবন করলে কয়েকদিনের মধ্যেই সমস্যা কেটে যাবে। আতঙ্কের কিছু নেই। তবে আক্রান্ত রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে অবহেলা করা যাবে না। ভাইরাসবাহিত অসুখে আক্রান্ত হলে বাইরে বের হওয়া ঠিক হবে না। পেটের পীড়া ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত রোগীর গা হালকা ঠা-া পানি দিয়ে দিন কয়েকবার মুছে দিতে হবে। এ সময় মাথা ব্যথা হতে পারে। জ্বর সাধারণত ১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইট হলে বড়দের প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও শিশুদের প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়া হবে। জ্বর হলে স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। নাক পরিষ্কার রাখতে হবে। হাঁচি-কাশি দেয়া এবং নাক দিয়ে পড়া পানি মুছতে পরিষ্কার রুমাল বা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। রোগটি ছোঁয়াচে বলে এক্ষেত্রে সাবধানও থাকতে হবে। কিছুতেই ফ্রিজে রাখা ঠা-া বা পচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবে না। জ্বর তিন থেকে চারদিন ধরে অব্যাহত থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলে তিনি জানান।

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫

০১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: