আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আইএসের মূলোৎপাটন চাই

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৫
  • টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ক্যামেরনের নিবন্ধ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হুমকি মোকাবেলা করার জন্য সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়ার মতো স্থানে তাদের উৎসের মূলোৎপাটন করতে হবে। এর অর্থ দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মোকাবিলায় সেসব দেশের সরকারগুলোকে সহায়তা করা। রবিবার দ্য টেলিগ্রাফে লিখিত এক নিবন্ধে ক্যামেরন লিখেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে বশে আনা যাবে না। আমাদের আঘাত আর গভীর দুঃখের সঙ্গে আরেকটি শব্দ যোগ করতে হবে- দৃঢ়সঙ্কল্প, অনমনীয় দৃঢ়সঙ্কল্প।

তিউনিসিয়ার সাগরতীরের হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় ৩০-এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে তিনি নিবন্ধটি লেখেন। শুক্রবার তিউনিসিয়ার সুসের ইম্পেরিয়াল মারহাবা হোটেলে আইএসের জঙ্গী সাইফুদ্দিন রেজগুইর কালাশনিকভ রাইফেলের ও বোমা হামলায় ব্রিটিশ, জার্মান ও বেলজীয়সহ অন্তত ৩৮ পর্যটক নিহত হন। খবর টেলিগ্রাফ ও ইয়াহু নিউজের। ক্যামেরন বলেন, ব্রিটেনকে অবশ্যই চরমপন্থী ইসলামের ব্যাপারে অসহিষ্ণু হতে হবে এবং আমাদের মূল্যবোধÑ শান্তি, গণতন্ত্র, সহিষ্ণুতা, স্বাধীনতা রক্ষায় শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে। ‘আমাদের অবশ্যই অসহিষ্ণুতার প্রতি আরও অসহিষ্ণু হতে হবে। আমাদের তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে যাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসলামী চরমপন্থীদের আখ্যান প্রশ্রয় পায় এবং তাদের আরও শ্রীবৃদ্ধির সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অবশ্যই আমাদের মূল্যবোধকে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। সেগুলো হলো আমাদের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের অধিকার, আমাদের স্বাধীন গণমাধ্যম, আমাদের আইন বলবত করা যেসব জিনিস সন্ত্রাসীরা ঘৃণা করে।’ ক্যামেরন বলেন, তাদের মতাদর্শের মোকাবেলা করাই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘এ বিষাক্ত মতাদর্শকে পরাজিত করতে আমাদের অবশ্যই স্পষ্ট করতে হবে যে, তারা কেন এত ভ্রান্ত। আমাদের অবশ্যই এ বিষয়টা উদ্ঘাটন ও ব্যর্থ করে দিতে হবে যে, কোন জিনিস তিউনিসিয়া থেকে কুয়েত, বেলজিয়াম থেকে ব্রিটেন পর্যন্ত তরুণদের আইএসে যোগ দিতে প্ররোচিত করছে।’ তিনি বলেন, ধর্মের নামে এ ধরনের হামলা চালানো এবং তা পবিত্র রমজান মাসে সারাবিশ্বের মুসলিমদের প্রতি অবমাননা। রাজধানী তিউনিস থেকে ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণের ওই হোটেলে সন্ত্রাসী হামলাটি ছিল তিউনিসিয়ার আধুনিক ইতিহাসে ভয়াবহ এবং এ বছর তিউনিস বারদো জাদুঘরে ইসলামী জঙ্গী হামলার পর এটি দেশটিতে দ্বিতীয় বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ। ওই হামলায় ২১ বিদেশী দর্শনার্থী প্রাণ হারান। প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন তার আবেগময় উজ্জীবনী বক্তব্যে বলেন, ‘মহান ব্রিটিশ চেতনা কাপুরুষদের’ বিরুদ্ধে জয়ী হবে যারা সাগরতীরে অসহায় মানুষদের হত্যা করে। ক্যামেরন বলেন, ‘আমাদের এমন কিছু আছে যা সন্ত্রাসীদের নেই। আমাদের আছে মহান ব্রিটিশ চেতনা, যা প্রতিকূল পরিবেশে জয়ী হয়েছে। এই চেতনা আমরা সব সময় প্রদর্শন করেছি আমাদের ইতিহাসে জাতি যখন হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। এদিকে বিচ হোটেলে হামলার পর এখনও অন্তত ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাদের আত্মীয়স্বজনরা নিখোঁজদের ভাগ্যে কী ঘটেছে সেটা বের করতে ব্রিটিশ ও তিউনিসীয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন। পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, এ ব্যাপারে বিলম্বের আংশিক কারণ হলো তারা সৈকতের উপযোগী পোশাক পরিহিত ছিলেন এবং তাদের কাছে শনাক্ত করার কাগজপত্র ছিল না।

হামলাকারী ব্রেক ড্যান্সার

থেকে খুনী

তিউনিসিয়ার সুস শহরের সাগর সৈকতে গুলি করে ৩৯ জনকে হত্যার দুদিন আগেও হত্যাকারী সাইফ রেজগুই নিজ শহর গাফোরে কফি ও সিগারেট পান করতে করতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছে। বুধবারের ওই আড্ডায় বন্ধুদের সঙ্গে প্রিয় ফুটবল দল, নারী ও নিজের ব্রেক-ড্যান্স দক্ষতা নিয়ে কথা বলেছেন। পরদিন বৃহস্পতিবার চাচার সঙ্গে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেছেন। নিকটবর্তী ঐতিহাসিক শহর কাইরুয়ানে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের এক বিরতিতে বাড়িতে এসেছিল সে। এর একদিন পর শুক্রবার, সাইফ শান্তভাবে হেঁটে তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগর উপকূলীয় অবকাশ কেন্দ্র সুসের ইম্পেরিয়াল মারহাবা বিচ হোটেলে গিয়ে, একটি কালাশনিকভ রাইফেল (একে-৪৭) দিয়ে মাত্র পাঁচ কি ছয় মিনিটে ৩৯ বিদেশী পর্যটককে গুলি করে হত্যা করে। জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নামে এই কাজ করে তিনি। নিজেদের এক উচ্চ শিক্ষিত, প্রাণবন্ত কী ভাবে সামান্য ইঙ্গিত দিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের ভেতর থেকেই কট্টরপন্থী জিহাদীতে পরিণত হলো, তা ভেবে বিস্মিত হচ্ছেন তিউনিসিয়ার মানুষ। ফুটবল ও সঙ্গীতের ভক্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের এ তরুণকে ইসলামী জিহাদীরা কী ভাবে অল্প সময়ের মধ্যে জঙ্গী বানিয়ে ফেলল তা ভেবেও কোন কিনারা পাচ্ছেন না রেজগুইয়ের পরিবারের সদস্যরা, বন্ধুরা ও প্রতিবেশীরা। তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক বিচ্ছিন্ন, শান্ত কৃষি শহর গাফোর। এখানে সাইফের পরিবার ও প্রতিবেশীরা নিজেদের এক প্রিয় সন্তান কী ভাবে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গী হামলার ঘটনাটি ঘটাল তা বুঝতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে সৈকতে, হোটেলের সুইমিংপুলে ও রিসিপশনে সাইফ একাই গুলি করে ৩৯ জনকে মেরেছে। মার্চে রাজধানী তিউনিসের বোর্দো জাদুঘরে ২১ জনকে হত্যাকারী দুই তরুণের মতো সাইফও নিজের কট্টরপন্থী ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে পরিবার ও বন্ধুদের তেমন কোন ইঙ্গিত দেয়নি। ‘হতে পারে সে যেখানে পড়ত, সেখানেই তার এসব পরিবর্তন হয়েছিল অথবা হয়ত ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব হয়েছে। যাই হোক,’ আমাদের কাছে কোন উত্তর নেই,’ গভীর হতাশার সঙ্গে বলেন তিনি।

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৫

৩০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: