আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীতে জাল টাকা তৈরির কারখানার সন্ধান ॥ আটক ৫

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫, ০১:২৮ এ. এম.
রাজধানীতে জাল টাকা তৈরির কারখানার সন্ধান ॥ আটক ৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রবিবার ভোরে রাজধানীর বনশ্রী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকার কারখানার সন্ধান পায়। র‌্যাবের ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ বিভিন্ন রকমের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় জাল নোট তৈরি চক্রের হোতা রহিম শেখ (৩৫), তার প্রথম স্ত্রী ফাতেমা (২৪), দ্বিতীয় স্ত্রী রবিনা (১৯), কর্মচারী আসাদ (২২) ও তাজিম (২৬)। জব্দ করা হয় ১ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার জাল টাকার নোট।

র‌্যাব জানায়, বনশ্রী আবাসিক এলাকার ব্লক-কে, রোড নং-১৬ এর বাসায় গড়ে তোলা হয় জাল নোট তৈরির কারখানা। এখানে নিয়মিত ছাপানো হতো জাল টাকা। এগুলোর বেশিরভাগই এক হাজার, ৫শ’ ও ১শ’ টাকার নোট। ইতোমধ্যে এ চক্রটি কয়েক কোটি টাকা বাজারে ছেড়েছে। এ বাড়িতে জাল টাকা তৈরির পর বাজারে সরবরাহ করার জন্য মোতায়েন ছিল আরেকটি চক্র। তবে ওই চক্রের কাউকে আটক করা যায়নি।

গত সপ্তাহে র‌্যাব-৩ জানতে পারে ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছাপা হচ্ছে। এরপর রবিবার ভোরে সেখানে হানা দেয় র‌্যাবের একটি দল। এ সময় ধরা পড়েন তারা। ওই ঘরে তখন গচ্ছিত ছিল ১ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার জাল টাকা। আরও ছিল ১১ টাকা তৈরির স্ক্রীন, তিনটি বোর্ড, দু’টি বিশেষ ডট কালার প্রিন্টার, দুটি ল্যাপটপ, ৪ রোল টাকার ভেতরের নিরাপত্তা সুতার ফয়েল, ২ কৌটা টাকার জলছাপে ব্যবহৃত আইপিআই প্রিন্টিং কালি, ২০০ প্রিন্টারের কার্টিজ, ১ বোতল রেডোসার কেমিক্যাল, টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত ৮ রিম কাগজ, একটি টাকা স্ক্যানার, একটি লেমিনেটিং মেশিন ও দু’টি টাকা কাটিং গ্লাস। এ ছাড়াও তাদের কাছ থেকে ভারতীয় রুপী তৈরির জন্য ভারতীয় রুপীর নিরাপত্তা সুতা সম্বলিত ফয়েল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা রহিম শেখ জানায়, ২০০৩ সালে পিরোজপুর হতে ঢাকায় এসে প্রথমে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডে হেলপার হিসেবে কাজ নেয়। ২০০৮ সালে সেখানে তার সঙ্গে জাল টাকা তৈরি চক্রের পরিচয় ঘটে। তখন তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মোহাম্মদপুরের জাল টাকা তৈরির কারিগর ও চক্রের হোতা হুমায়ুনের কাছে। রহিম ওই কারখানা হতে জাল টাকা সংগ্রহ করে রাজধানীতে ছড়িয়ে দিত। এখানে কাজ করতে করতে আব্দুর রহিম নিজেই টাকা তৈরিতে পারদর্শী হয়ে পড়ে। তখন নিজেই আলাদা কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেন। জাল টাকা ব্যবহার করেই কিনে নেয় ল্যাপটপ ও প্রিন্টার। বনশ্রীতে ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। শুরু করে রমরমা জাল টাকার ব্যবসা।

র‌্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, এ কাজে রহিম তার দুই স্ত্রীকে নিয়োগ করে। এ জন্য প্রায়ই গ্রামের বাড়ি থেকে নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে মহিলা নিয়ে এসে এ কাজে লাগাত। রহিম জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত টিস্যু কাগজ ঢাকার বাবুবাজার হতে, টাকার নিরাপত্তা সুতার ফয়েল চকবাজার, স্ক্রিন, বোর্ড ও রেডোসার কেমিক্যাল মালিটোলা ও আইপিআই প্রিন্টার কালি পল্টন থেকে সংগ্রহ করত।

র‌্যাব জানায়, তাদের কাছ থেকে টাকা তৈরির যে পরিমাণ খালি টিস্যু পেপার ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে তা দিয়ে আরও ১০ কোটি টাকা মূল্যের অধিক জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব হতো। টাকা ছাপানোর পাশাপাশি ঈদের পর থেকে ইন্ডিয়ান জাল রুপী ছাপানোরও প্রস্তুতি ছিল। এ জন্য তারা ইন্ডিয়ান রুপীতে নিরাপত্তা সুতা হিসেবে ব্যবহৃত ফয়েল বিপুল পরিমাণে মজুদ করে।

লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সারওয়ার জানান, এই চক্রের অন্যদের গ্রেফতারের জন্য তৎপর রয়েছে র‌্যাব। এ রকম আরও কয়েকটি চক্র রয়েছে।

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫, ০১:২৮ এ. এম.

২৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: